অবশেষে মা হলেন তিনি

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় নতুন প্রযুক্তির সাফল্য


প্রথম আলো ডেস্ক | তারিখ: ০৩-০৬-২০১৩
রুথ কারটার শিশুসন্তানকে আগলে রেখেছেন। বাবা জন ট্র্যাভার্সের (মাঝখানে) মুখেও হাসি। পাশেই দাঁড়িয়�
রুথ কারটার শিশুসন্তানকে আগলে রেখেছেন। বাবা জন ট্র্যাভার্সের (মাঝখানে) মুখেও হাসি। পাশেই দাঁড়িয়ে চিকিত্সক লিয়ান ব্রিকার
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় টেস্টটিউব বেবি স্বীকৃতি পন্থা হলেও এর রয়েছে নানান সমস্যা। এবার সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে নতুন এক প্রযুক্তির সাফল্য পাওয়া গেল। ব্রিটিশ নারী রুথ কারটার জন্ম দিলেন একটি কন্যাশিশু। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বে প্রথমবারের মতো এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্তান জন্মদানের ঘটনা এটি প্রথম। গত শনিবার লিভারপুল উইমেন্স হাসপাতালে শিশুটির জন্ম দেন রুথ। 
রুথ (৪২) পেশায় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট। তাঁর দুই বছরের একটি ছেলে আছে। আরও সন্তানের মা হতে চেয়েছিলেন তিনি। এর আগে কয়েকবার তাঁর গর্ভপাত হয়। 
টেস্টটিউব বেবির একটি কৌশল হলো ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ)। এতে স্ত্রীর ডিম্বাণু ও স্বামীর শুক্রাণু বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষাগারে সংরক্ষণ করা হয়। পেট্রিডিশে সংরক্ষিত এই ডিম্বাণু ও শুক্রাণু নিষিক্তকরণের পর রাখা হয় মাতৃগর্ভের অনুরূপ পরিবেশের একটি ইনকিউবিটরে। সেখানে ভ্রূণ সৃষ্টির সাফল্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। মায়ের জরায়ুতে সেই ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পর নির্দিষ্ট সময়ে জন্ম নেয় টেস্টটিউব বেবি। 
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে অনেক ক্ষেত্রে ভ্রূণ বাছাইয়ে ত্রুটি থাকে। কিন্তু নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতি এক মিনিট পর পর বিকাশমান ভ্রূণের ছবি ধারণ করা হয়। এভাবে হাজার হাজার ছবি ধারণের পর বিজ্ঞানীরা ভ্রূণগুলো বিশ্লেষণ করেন। ভ্রূণের ক্রমবিকাশও পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ভ্রূণটি বাছাই করেন তাঁরা। এই প্রযুক্তিটির নাম ইইভিএ আইভিএফ। কয়েক বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রূণের ছবি ধারণের নানা কৌশল ব্যবহার করে আইভিএফের সাফল্যের হার বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা। নানা পদ্ধতিতে ভ্রূণের বিকাশ পর্যবেক্ষণ করে আসছেন তাঁরা।
দ্য হেউইট ফার্টিলিটি সেন্টারের অধ্যাপক চার্লস কিংগসল্যান্ড বলেন, ‘এর আগে আমরা এমন গর্ববোধ করিনি কখনো। আজ আমরা একটি অভিনব প্রযুক্তির পথিকৃৎ।’

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়