ধর্মবিদ্বেষ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করছে


রাজনৈতিক ভাষ্যকার : স্ট্রীট লাইটের আলোয় এক ব্যক্তি কী যেন খুঁজছিল। এক বৃদ্ধ বললেন, কী খুঁজছ বাবা? লোকটি জবাব দিল, আমার একটি মূল্যবান হীরকখ- হারিয়ে গেছে, সেটাই খুঁজছি। বৃদ্ধও কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করলেন যুবক লোকটির সাথে সাথে। এক সময় বৃদ্ধ জানতে চাইলেন, কখন, ঠিক কোন জায়গাটিতে হীরাটি হারিয়েছে সে। তখন যুবক বলল, সেটি হারিয়েছে গতকাল, শহরের অন্যপাশের এক ব্যস্ত সড়কে। শুনে বৃদ্ধ বললেন, তা একদিন পর এখানে এসে সেটি খুঁজছ কেন? যুবক বলল, হীরাটি যখন হারায় তখন আমার অন্য অনেক ব্যস্ততা ছিল, সে জায়গাটিও ছিল ব্যস্ততম জনাকীর্ণ। তাছাড়া, সে সড়কে বাতি ছিল না। অন্ধকার জায়গায় কী করে খুঁজবো। তাই ভাবলাম, আজ আমি অবসর, শহরের এ জায়গাটিতে মানুষজনও কম, তাছাড়া এখানে স্ট্রীট লাইটের আলোও আছে। বৃদ্ধ তখন অর্বাচীন এ যুবককে কী বলেছিলেন তা আর উল্লেখ করতে চাই না। এসব উপদেশ শেখ সাদীর কিতাবে পাওয়া যাবে।
চার সিটি কর্পোরেশনে সরকারী দলের নজিরবিহীন ভরাডুবির ঘটনায় শাসক দলীয় নেতৃবৃন্দের নানা মন্তব্য, মূল্যায়ন, যুক্তি ও বাণী শুনে কেন জানি বার বার এ গল্পটিই মনে পড়ছে। এক শ্রেণীর সরকার সমর্থক লেখক, কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবীর ইনিয়ে-বিনিয়ে লেখা কলাম আর গলা টেনে টেনে বলা টক শো থেকেও একই ধরনের অনুভূতি জেগে ওঠছে। প্রধানমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল অনেকের উপলব্ধি, আচরণ এবং কথাবার্তা থেকে বের হচ্ছে শুরুতে উল্লেখিত যুবকের যুক্তি। যে এক জায়গায় সম্পদ হারিয়ে, সুবিধাজনক অন্য জায়গায়, অবসর সময়ে আলোর নীচে সেটি খুঁজে ফিরছে।
এ মন্তব্য প্রতিবেদন তৈরির সময় ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগের এক প্রবীণ নেতার ফোন পেলাম। তিনি তার স্বভাবসূলভ হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, আমাদের নেত্রী কি জেনেশুনেই আমাদের এভাবে মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছেন? বললাম, কী বিষয়ে এমন হতাশা এল, হাজী সাহেবের মনে। বললেন, হেফাজত ওয়ালাদের নিয়ে পার্টির ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আজ আমাদের এই দশা। নেত্রী এখনো হেফাজতওয়ালাদের বিরুদ্ধেই বক্তৃতা করছেন। তার কিছু কথা এমন হয়ে যায়, যাতে আমাদের মাঠে ময়দানে মানুষের কথা শুনতে হয়। আমরা এ সবের জবাব দিতে পারি না। ড. কামাল হোসেনের মেয়ের জামাই ইহুদী, এ কথা সংসদে দাঁড়িয়ে বলার কী দরকার ছিল? পাশাপাশি নেত্রীর ছেলের বউ যে খৃষ্টান এটিও তো সংসদে বলার বিষয় না। এখন সকাল থেকেই এ সব বিষয়ে নানা জন নানা কথা জিজ্ঞাসা করছে। শেখ রেহানার ছেলে ববি ইহুদী-নাসারা মেয়ে বিয়ে করেছে, তার মেয়ে টিউলিপ খৃস্ট্রান ছেলেকে বিয়ে করছে, প্রধানমন্ত্রী সে বিয়েতে যাচ্ছেন কিনা, দুনিয়ার সব প্রশ্ন। আমি কথা সংক্ষিপ্ত করতে বললাম, হাজী সাহেব, আপনার কথা অন্য সময় শুনতে হবে। আমার এখন লেখার তাড়া। তাছাড়া, আপনাদের দুঃখ ও হতাশার কথা সম্ভব হলে দলীয় ফোরামে তুলুন। সম্ভব হলে নেত্রীর সাথে একান্তে সময় নিয়ে মাঠে ময়দানের অবস্থা সম্পর্কে তাকে অবহিত করুন। ফোন রেখে দিলেও গত কিছুদিন ধরে আওয়ামী লীগের লোকদের ভেতরকার দুঃখ, ক্ষোভ, হতাশা ও চরম অস্থিরতার যে চিত্র আমাদের চোখে পড়ছে, সেসব মন থেকে ঝেড়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছিল না। দেশের বৃহত্তম এ সংগঠনটির অকাল মৃত্যু ও দুঃসময় পরিণতি দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ইদানিংকার অবাক বিস্ময় আমাকেও স্পর্শ করছিল।
মাথার উপর ২৩ জুন। আর দু’দিন বাকি। ১৯৪৯ সালের এ দিনটিতেই রাজধানীর টিকাটুলির রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লীগের জন্ম। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নামটিও তো এখন উচ্চারিত হয় না। আলোচিত হননা মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগিশ। এদের ধর্মবোধ, নীতি, আদর্শ ও প্রজ্ঞার ফসল আওয়ামী লীগ বাঙালি মুসলমানদের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় এবং সফল সংগঠন। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী, স্বাধীনতার স্থপতি এ দলটির তো ধর্মবিদ্বেষী হওয়ার কথা ছিল না। ধর্মহীনতা, মুসলিম চেতনা বিধ্বংসী  মনোভাব কিংবা সর্বব্যাপী ডিইসলামাইজেশন এ দলের লক্ষ্য হতে পারে না। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাক বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ জনাব শামসুল হকের বক্তব্যে কী ছিল। আওয়ামী লীগের প্রথম গঠনতন্ত্র এখনো যাদের সংগ্রহে আছে, আবার খুলে দেখতে পারেন। বাংলাদেশে কোরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক জীবনব্যবস্থা কায়েমের প্রতিশ্রুতি সেখানেও পাবেন। তাছাড়া, বিগত দিনে আওয়ামী লীগের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইশতেহারে দেখা যাবে কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন না করার অঙ্গীকার।
এ ধরনের একটি গণমুখী সংগঠন যে কোন কারণে এখন ধর্মহীন ও মুসলিম বিদ্বেষী পরিচয় নিয়ে বাংলাদেশের গণমানুষের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের মনে আজ প্রশ্ন অসাম্প্রদায়িক চেতনার এ দলটি কী করে আজ নাস্তিক্যবাদীদের পকেটে চলে গেল? তাবৎ খোদাদ্রোহী, বেঈমান, নাস্তিক, মুরতাদ ও বেদীনের রক্ষক, পৃষ্ঠপোষক এবং সমর্থক দল হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগকে কে কখন ম্যান্ডেট দিল? মতিয়া, সুরঞ্জিত, মেনন, ইনু, লেনিনরা কী করে দলের সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী বিশ্বস্ত নীতিনির্ধারক, মুখপাত্র ও নেতা হয়ে গেলেন? তাহলে আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ ইসলামপ্রিয়, পরহেজগার, নামাজী, রোজাদার হজ ওমরা সম্পাদনকারী, ধর্মপরায়ণ, মসজিদ-মাদরাসার খেদমতকারী, আলেম-ওলামাবান্ধব, নেতা-কর্মী-সমর্থক ও ভোটারের কী হবে?
দম্ভ, অহংকার ও ঔদ্ধত্য মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। যুগে যুগে এ সত্যটি মানুষ উত্তরাধিকার সূত্রে লালন করছে। আওয়ামী লীগের সুবিধাপ্রাপ্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সবের প্রাবল্য দেখা দিয়েছে। অন্যায় ও পাপ কাউকেই ছেড়ে কথা কয় না। কেউ না দেখুক, গোপনে বিষপান করলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে এবং যথাসময় পানকারীর মৃত্যুও হবে। ধ্বংসাত্মক ব্যাধি বা প্রাণঘাতী বিষ যখন ক্রিয়াশীল হবে তখন প্রাণী যত বড় আর বয়স্কই হোক, সে ঢলে পড়বেই। আওয়ামী লীগ অর্ধ শতাব্দীর বেশি জীবন পেলেও ক্ষমতার স্বাদ বেশি দিন পায়নি। জন্মের পর থেকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যদিয়ে কাটিয়ে স্বাধীনতার পর সাড়ে চার বছর ক্ষমতায় ছিল। ১৫ আগস্ট মর্মান্তিক ঘটনার পর তাদের ছিল ঘোর দুর্দিন। এরপর ২২ বছর দুঃখ, কষ্ট, ধৈর্য ও সংগ্রামের পথ বেয়ে একবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে। পরবর্তী সময়ে আবার ক্ষমতাচ্যুত হয়। সর্বশেষ গত সাড়ে চার বছর দলটি আবার জোটবদ্ধভাবে ক্ষমতায়।
একটি কথা সূর্যেরমত স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ধর্মপ্রাণ মানুষকে আশ্বস্ত করে, ধর্মীয় ভাবধারাকে সমর্থন করে এবং ধর্মের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে এসেছে। পাশাপাশি যতবার দলটি জনপ্রিয়তা হারিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, ধর্ম বিদ্বেষী ভাবধারা জনসমক্ষে উন্মোচিত হওয়ায়ই হয়েছে। এতে করে দলটির নীতি নির্ধারণে ধর্মকে গুরুত্ব দেয়া কিংবা ধর্মপ্রাণ মানুষকে আন্তরিকভাবেই আস্থায় রাখার চিন্তা কাজ করাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এর বিপরীত চিন্তাটিই এখানে কাজ করেছে বলে বিজ্ঞমহলের ধারণা। দলটির ধর্মপ্রাণ অংশ এক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে, ধর্মহীন নাস্তিক্যবাদী অংশটি প্রবল হয়ে গেছে। এ অংশের নেতারা সহজে হিসাব করে নিয়েছেন যে, ধর্ম নিয়েই যখন এত ল্যাঠা, তাহলে ধর্মই তুলে দেয়া হোক। বাংলাদেশকে ধর্মহীন রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা গেলে চিরদিন ক্ষমতায় থাকা যাবে। এ সুযোগটি নিয়েছেন নিজেদের রাজনীতি, আদর্শ ও সংগঠনে ব্যর্থ বাম নেতারা। নৌকায় চড়ে তারা চলে এসেছেন ক্ষমতার মসনদে। আওয়ামী লীগের চলমান আদর্শিক দৈন্যের হাটে তারা হয়ে গেছেন আদর্শের বড় বড় সওদাগর। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতারা ছিটকে পড়েছেন। ভারসাম্যপূর্ণ জনঘনিষ্ঠ নেতারা হয়ে পড়েছেন কোনঠাসা। নেত্রীর ব্যক্তিগত আস্থাভাজন কিছু অনভিজ্ঞ লোকজন গরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে চলে এসেছেন। হাইব্রীড নেতারা দখল করে নিয়েছেন বড় বড় সব পদ আর আসন। আন্তর্জাতিক কিছু চাল আর আঞ্চলিক চাহিদার আলোকে দল ও সরকারের প্যাটার্ন থেকেও নাস্তিক, মুরতাদ ও ধর্মবিদ্বেষী চক্র উপকৃত হয়। তারা সরকারের গতি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেয়ে আওয়ামী লীগকে তার স্বাভাবিক অবস্থা থেকে ‘কৃত্রিম রীতি ও গতির’ পথে নিয়ে যায়। যার ফলে ঐতিহাসিক এ দলটি আজ ইতিহাসের এক কঠিন মোড়ে চলে এসেছ, যে মোড়টি নিরাপদে পার হওয়ার শক্তি আওয়ামী লীগের নেই। দেশব্যাপী নেতাকর্মীদের মনোভাব ও পুরনো ভোটার-সমর্থকদের হতাশা দেখে মনে হয়, সত্যিই কি নাস্তিক্যবাদের ব্ল্যাক হোলে হারিয়ে যাচ্ছে মুসলমানদের অসাম্প্রদায়িক দল আওয়ামী লীগ? 
সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দল আওয়ামী লীগ কোন প্রয়োজনে, কার পরামর্শে সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা এবং বিশ্বাস তুলে দিল। বলার জন্য বলা, জবাব দেয়ার জন্য দেয়া হিসেবে নেত্রী কিংবা অন্য কিছু নেতার মুখ থেকে অনেক কথাই নেতাকর্মীরা শুনেছেন, কিন্তু ‘আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস’ বাদ দিলে মুসলমানের আর থাকেই কী, সেটা তাদের বুঝে আসছে না। বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব আল্লামা আহমাদুল্লাহ আশরাফ বলেছেন, দেশ এখন দু’টি শিবিরে বিভক্ত। একটি আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসের পক্ষে অপরটি আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসে বিপক্ষে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সকল নির্বাচনে এ ইস্যুটিই হবে জাতীয় মেরুকরণের প্রধান ও একমাত্র ইস্যু। ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণাঙ্গ আস্থা ও বিশ্বাসই হবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মুলনীতি।’ এ কথাটির বিপক্ষে যারা থাকবে তাদের সাথে বিশ্বাসী মুসলমানরা থাকবেন না, এটাই তো স্বাভাবিক। বলা হয়, বিশ্বাস ও আস্থা অন্তরের বিষয়, এটি কাগজে থাকলেই কি, না থাকলেই কি। এ কথাটি যারা বলেন, তারা জনগণকে কি মনে করেন, সেটিই প্রশ্ন। যদি তাদের বলা হয়, তারা নিজের বাড়ি, ঘর, সম্পত্তি, সার্টিফিকেট ও ব্যাংক একাউন্ট অন্যের নামে দিয়ে দিন। মালিকানা অন্তরে থাকলেই তো হয়। কাগজে থাকা না থাকা তো সমান। তখন কি তারা অন্তরের মালিকানায়’ সন্তুষ্ট থাকবেন? বিশ্বাসী মুসলমানরা আগেই বলেছেন, সংবিধানে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস যদি কখনই না থাকত তাহলে এটি স্থাপন নিয়ে বিতর্ক হত না। কিন্তু যে কোন কারণে একবার এটি সংবিধানভুক্ত হয়ে গেছে, এখন কী কারণে, কে এটি মুছে দিল, তা জনগণের দেখার বিষয়। আল্লাহর উপর আস্থাশীল বিশ্বাসী মানুষ এটি তলিয়ে দেখছে, দেখবে এবং আগামী দিনের রাজনীতি এটিসহ এ ধরনের আত্মমর্যাদামূলক নানা ইস্যুকে ভিত্তি করেই আবর্তিত হবে।
রাজনীতিতে যারা ধর্মের প্রভাব নিয়ে বিরক্ত। যারা কথায় কথায় ধর্ম ব্যবসায়ীদের মু-পাত করেন। তাদের জেনে রাখা উচিত, যারা ধর্মচর্চা করেন, যারা ধর্মতত্ত্ববিদ, যারা ধর্মীয় কাজে যুক্ত তারা কেউই ধর্মব্যবসায়ী নন। যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করেন, তারাই ধর্ম ব্যবসায়ী। এ কাজে ধার্মিক লোকের তুলনায় ধর্মবিদ্বেষী রাজনীতিকদেরই বেশি জড়িত হতে দেখা যায়, যারা ভোটের জন্য সাময়িকভাবে ধর্মীয় পোশাক পরেন, মাথার টুপী বা হিজাব পরেন, হাতে তসবিহ নেন এবং নির্বাচনের পর ইসলাম বিদ্বেষের পরিচয় দেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মধ্য দিয়ে যারা মানুষকে কষ্ট দিতে চান, তাদের পাল্টা কষ্ট পাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এটাই স্বাভাবিক। মানুষ প্রতিশোধ নেবে নির্বাচনে, নির্বাচন না হলে সামাজিকভাবে ঘৃণায়, দ্রোহে কিংবা প্রার্থনায়।
সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানের দল আওয়ামী লীগের মহান কা-ারী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেকে মুসলমান বলে গর্ববোধ করতেন, তিনি ইসলাম ও মুসলমানের কল্যাণ চিন্তায়ই রাজনীতি করে সপরিবারে জীবনদান করে গেছেন। তার ইসলামী কার্যক্রমের বর্ণনা দিয়ে এখনও তার দল গৌরববোধ করে থাকে। তিনি নিজ পরিবার ও সমাজজীবনে ইসলামী রীতিনীতি, আদব কায়দার চর্চা করে গেছেন। যে জন্য তার সন্তানদের মুসলিম পরিবারে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট বেলা কোরআন ও নামাজ কালাম শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে তার পরিবারের সদস্যদের ধর্মীয় অনুশীলনে কিছু ধরনের শিথিলতা দেখে জনগণ শঙ্কা অনুভব করছে। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা, প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন, উভয়ের সন্তানদের অমুসলিম পরিবারে বিয়ে শাদীর মাধ্যমে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির সাথে যুক্ত হয়ে যাওয়ায় মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। কারণ, বৈবাহিক সম্পর্কের ফলে মানুষ প্রভাবিত হয়। পরবর্তী প্রজন্ম পরিচয় সংকটে ভোগে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একটি মুসলিম পরিবারের সন্তান। কিন্তু বিয়ে করেছেন ভারতের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে। তার স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যা হিন্দু ধর্মেরই অধিক অনুসারী। তিনি নিজে নিষ্ঠার সাথে কোন ধর্মই পালন করেন না বলে জানা যায়। একবার মিডিয়ায় বলেছিলেন, তিনি হিন্দুও নন, মুসলমানও নন। ধর্মপ্রাণ মানুষের দেশে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতৃ পর্যায়ে এ ধরনের উন্নাসিকতার বিরূপ প্রভাব যে দলটির মারাত্মক ক্ষতি করছে, তা সময় থাকতেই সংশ্লিষ্টদের বুঝতে হবে। 
একবার দলের এক সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রী বলেছিলেন, ছাত্রীরা নাচ শেখ, নইলে তোমাদের হিজাবে আবৃত করা হবে। মন্ত্রীর সহধর্মিনীর নেতৃত্বেই রাজধানীর এক স্কুলের ছাত্রীদের ফুলহাতা জামা কেটে দেয়া হয়েছে। কোন নারীকে পর্দা করার নির্দেশ দেয়া যাবে না মর্মে এ আমলেই উচ্চ আদালত থেকে রুল জারি করা হয়েছে। নারীর সংযত চলাফেরা, শালীন পোশাক ও অনাচার বিরোধী আচরণকে উৎসাহিত করার আহ্বানকে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, যে অপপ্রচার ও বিদ্বেষী ক্যাম্পেইন করা হয়েছে, তা কোন জ্ঞান ভিত্তিক, সভ্য সমাজের কাজ নয়। এ সব কিছুই ধর্মপ্রাণ মানুষকে প্রভাবিত করে। যার ফলে ভোটের রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দলের জনপ্রিয়তায় ধস নামে। নেতৃবৃন্দ তখন খুঁজে পান না, কেন এমন ধস নামল। আসলে তারা ধর্মকে শত্রু বানিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন কিন্তু ধর্মপ্রাণ মানুষ যখন এক হাত নেয় তখন তারা ভান করেন যে কিছুই বোঝেন না। কিন্তু একটি কথা তাদের মানতেই হবে যে, অতীতে ধর্মবিদ্বেষই আওয়ামী লীগের সর্বনাশ করেছে। ধর্মবিদ্বেষী গোষ্ঠীর চক্রান্তে পড়েই আওয়ামী লীগ বার বার পথ হারায়। 

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়