৬ পুলিশ বরখাস্ত : পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু বিক্ষোভে উত্তাল সাভার



সাভার প্রতিনিধি
পরের সংবাদ»
চাঁদা না দেয়ায় সাভারের হেমায়েতপুরে শামীম সরকার নামের এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাভার মডেল থানার কয়েক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে আটকও করা হয়েছে। তারা হলেন এসআই এমদাদ, এসআই সাজ্জাদ রোমান ও এএসআই আকিদুল ইসলাম। হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে সাভারের হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এলাকাবাসী মহাসড়কে চলাচলরত অর্ধশত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাংচুর করে। নিহতের ছোটভাই বিপ্লব সরকার অভিযোগ করে বলেন, সাদা পোশাকের পুলিশ গত বুধবার রাত ১০টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের মোল্লা সিএনজি পাম্পের সামনে থেকে শামীম সরকার ও সাইফুল ইসলাম নামে দুই ব্যবসায়ীকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক করেপরে অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলে রাত দেড়টার দিকে শামীম সরকারকে হেমায়েতপুর ট্যানারি এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে না পারায় পিটিয়ে শামীমকে হত্যা করে পুলিশ। অপরজন সাইফুল ইসলাম সাভার থানা হাজতে আটক রয়েছেন। থানা হাজতে তিনি আত্মীয়স্বজনদের জানান, হেমায়েতপুরে ট্যানারি এলাকায় নিয়ে শামীমকে তার চোখের সামনে নির্মম নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশ তড়িঘড়ি করে লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ফেলে আসে। সাভার থানা সূত্র জানায়, ঘটনার পর ভোরে এএসআই আকিদুল তার অস্ত্র, হ্যান্ডকাপ থানায় জমা দিয়ে কাউকে কিছু না বলে দ্রুত পালিয়ে যায়। তার ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন। এদিকে শামীমের মৃত্যুতে ফুঁসে ওঠেন তার জন্মস্থান হেমায়েতপুরবাসী। গতকাল সকাল ১১টার দিকে দোষী ওই পুলিশ কর্মকর্তার ফাঁসির দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত অবরোধ করে রাখেন। তারা মহাসড়কে চলাচলরত অর্ধশত যানবাহন ও পুলিশের ট্রাফিক বক্স ভাংচুর করেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করবেন এমন আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেন। 
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই সাজ্জাদ রোমান, এসআই এমদাদ ও এএসআই আকিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই এসআই এক এএসআইকে আটক করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে আকিদুলকে আটক করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবশেষে ধরতে সক্ষম হয়। নিহত শামীম সরকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার আবদুল হালিম সরকারের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে রিয়েল এস্টেটের (জমির ব্যবসা) ব্যবসা করতেন। 
এর আগে পুলিশ তাকে একাধিকবার ইয়াবাসহ আটক করে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। থানার সাবেক এসআই কায়সার মাতব্বর আটকে রেখে তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকাও নিয়েছিলেন বলে শামীমের স্বজনরা জানায়।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়