ব্যর্থতা থেকেই শিখতে হবে
- Get link
- X
- Other Apps
সফলদের স্বপ্নগাথা
ব্যর্থতা থেকেই শিখতে হবে
ক্যারল অ্যান বার্টজ | প্রথম আলোঃ তারিখ: ২৭-০১-২০১৩
ক্যারল অ্যান বার্টজ
উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সবাই বিরক্ত নাকি? তোমাদের সবাইকে বেশ মনমরা লাগছে। আমাকে হ্যালো বলো! সবাইকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। তোমাদের মা-বাবাকেও আমার তরফ থেকে বিশাল শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়ো।
যখন তোমরা এখান থেকে চলে যাবে, তোমাদের সামনে থাকবে নতুন পৃথিবী। তোমাদের একটা পরামর্শ দিতে চাই। যখনই কোনো কাজ করার সুযোগ পাবে তা লুফে নেবে। চেষ্টা করবে তোমার কাজের ক্ষেত্রে সব সময় সামনের দিকে থাকতে। একটি কোম্পানির কথা চিন্তা করো। আমি যে কোম্পানি থেকে এসেছি, সেখানে সব সময় সামনের দিকে কারা থাকে জানো? তারাই থাকে, যাদের ভবিষ্যতে আরও বড় হওয়ার সুযোগ থাকে। যারা অন্যদের জানাতে পারে, তাদের মধ্যে কিছু আছে, তারাই সামনের দিকে বসে। আমি তোমাদের সব সময় পরামর্শ দেব সামনের দিকে থাকতে। অনেকের সিজিপিএ কম-বেশি হতে পারে; কিন্তু সতর্ক থাকবে সেটা যেন কখনোই তোমার লক্ষ্যকে বিচ্যুত না করে। আমার পরিশ্রমের বিপরীতে আমি তোমাদের সতর্কও করে দিতে চাই। তোমাদের আমি আজ নতুন কাজের পরামর্শ দিচ্ছি কিন্তু আমি এখন নিজেই ষাটোর্ধ্ব কর্মপদশূন্য নারী। সম্প্রতি আমাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, আমি ছিলাম একটি বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী। মাঝেমধ্যে আমি তিক্ত আচরণ করি সবার সঙ্গে। আমার তিক্ত কথাবার্তায় তোমাদের জন্য ভবিষ্যতে সতর্ক হওয়ার গল্প থাকবে।
তোমরা আজ সৌভাগ্যবান। কারণ, তোমরা দেশের শ্রেষ্ঠ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তোমাদের ডিগ্রি অর্জন করতে যাচ্ছো। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত যত বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তৈরি হয়েছে, তার সংখ্যা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও বেশি। সেসব সৌভাগ্যবান প্রধান নির্বাহীর সংখ্যা পাঁচ শর বেশি। আমি সেই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে একজন। এটা আমার বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী। আমার ছোটবেলায় বেড়ে ওঠা ছিল উইসকনসিনের এক ছোট শহর আলমাতে। আট শ মানুষের বাস ছিল সেখানে। আমার জন্য দুর্ভাগ্যজনক ছিল সেই শহরের সবাই আমাকে চিনত এবং আমিও সবাইকে চিনতাম। এখানেই তোমাদের সঙ্গে আমার পার্থক্য। এই পার্থক্যে আমি একদিক থেকে গর্বিত বলা চলে। আমাদের সময়ের পড়াশোনা আর তোমাদের পড়াশোনায় আছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আমার মনে পড়ে যায়, ১৯৭১ সালের সেই সময়ের কথা। যখন আমরা পৃথিবীর যেখানে ইচ্ছা সেখানে যেতে পারতাম, যা ইচ্ছা তাই আমাদের হওয়ার সুযোগ ছিল। আমাদের ইচ্ছামতো আমরা চলতাম। যেই সুযোগগুলো তোমাদের জন্য অনেক কমে এসেছে।
আমি ১৯৭১ সালে যখন স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করি, তখনকার চাকরির জগতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির কোনোই অস্তিত্ব ছিল না। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রতিষ্ঠিত বিভাগ থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানের ওপর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করি। এ ক্ষেত্রে চাকরির বড়ই অভাব ছিল। কিন্তু সেই অভাব আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে যদি চাকরিপ্রার্থী একজন নারী হয়। সেই সমস্যা এখনো আছে। কিন্তু ১৯৭১ সাল মার্কিন ইতিহাসে নতুন একটি সময়ের ইঙ্গিত দেয়। এ বছর প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাসডক স্টক মার্কেট। নতুন একটি বিমান সংস্থা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বিমান পরিবহন শুরু করে। এ সময়েই ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কোম্পানি ইন্টেল মাইক্রোপ্রসেসর উদ্ভাবন করে। তোমরা আজ প্রযুক্তির যা-ই ব্যবহার করো না কেন, সেখানে আমাদের সময়কার উদ্ভাবিত মাইক্রোপ্রসেসরের উপস্থিতি আছেই। সেই উদ্ভাবন ছাড়া আজকের সময় এখানে আসতে পারত না, তোমরা তোমাদের মাকে টুইট করতে পারতে না।
হতাশাপূর্ণ দিনকে তোমরা গুরুত্ব দিয়ো না। এই হতাশা তোমাকে তোমার ভবিষ্যৎ নির্মাণে কোনো সাহায্য করবে না। আগামী ৫০ বছর তোমরা কাজ করার সুযোগ পাবে। পরিবর্তন করতে পারবে তোমার ভবিষ্যৎকে। তোমার সামনে আসছে অবারিত সুযোগ। এই গ্রীষ্মে যখন তুমি চাকরি খোঁজা শুরু করবে কিংবা নতুন কোনো কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করবে, তখন তোমার সামনে সৃষ্টি হবে নতুন সুযোগ। যদি সৌভাগ্যবান হও এবং মার্জিত হও তাহলে অচিরেই তুমি পৌঁছে যাবে কোম্পানির সামনের কর্তাব্যক্তিদের দলে। এটাই কিন্তু হবে তোমার জন্য আরও হতাশার। কারণ, তখন তোমার সামনে শীর্ষ বলে আর কিছুই থাকবে না। তোমাকে নিজেই তৈরি করতে হবে নতুন কোনো বিকল্প ভাবনা। সত্তর ও আশির দশকে যখন আমি থ্রিএম ও ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট করপোরেশনে কাজ শুরু করি, তখন আমার ক্ষেত্রেও এটা হয়েছিল। তখন ছিল না কোনো ইন্টারনেট, ছিল না কোনো অ্যাপস, আইফোনের ধারণা ছিল তখন স্বর্গে! নতুনদের উদ্ভাবনী শক্তিই সৃষ্টি করে নতুন নতুন সুযোগ, নতুন প্রযুক্তি। সিলিকন ভ্যালিতে এ জন্যই আমরা তোমাদের উদ্ভাবনী শক্তির কথা শুনতে চাই, জানতে চাই। তোমাদের আইডিয়ার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। তোমরাই পারো নতুন কোনো উদ্যোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু কীভাবে তোমরা এগিয়ে যাবে? কীভাবে বাস্তবায়িত করবে তোমার আইডিয়াকে? প্রথমেই তোমাকে খুঁজে বের করতে হবে তোমার জন্য যোগ্য বন্ধুদের। বর্তমান পৃথিবী আগের মতো একই আকৃতির হলেও সবাই এখন কিন্তু কাছাকাছি। ফেসবুক বা লিংকডইনের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তুমি কিন্তু তোমার আদর্শের বন্ধুকেই খুঁজে নিতে পারো। এটা তোমার জন্য খুবই দরকার। কারণ, তুমি যদি প্রতিভাবান ও শিক্ষিত কারও সঙ্গে মিশতে পারো, তাহলে তুমিও তোমার প্রতিভা ও শিক্ষাকে আরও শাণিত করতে পারবে। এরপর তোমাদের নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমি কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলাম। আমি ভালো করে যোগাযোগ করতে পারতাম না, কথা বলতে পারতাম না, অনেক শব্দের বানানই জানতাম না। অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। যেকোনো মূল্যেই সংক্ষেপে তোমার কথা, আইডিয়া প্রকাশ করার গুণাবলি অর্জন করতে হবে। সবশেষে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে তোমার চারপাশের লোকজনের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। সত্যিকারের শ্রোতা হতে হবে। তোমার চারপাশে যারা তোমাকে গুরুত্ব দেয়, যারা তোমার কাজ করে, যারা তোমার সহকর্মী তাদের কথা কিন্তু সত্যিই কেউ শুনতে চায় না। তোমাকেই শুনতে হবে তাদের কথা। আমার উপদেশ হবে—চুপ থাকো এবং শুনতে থাকো। চলার পথে তোমার জীবনে বাধা আসবেই। ব্যর্থতাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সামনে এগিয়ে যেতে হলে তোমাকে তোমার ব্যর্থতা থেকেই শিখতে হবে। সবাই কিন্তু তাদের ব্যর্থতা থেকে শিখতে পারে না। ব্যর্থতাকে অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরে নিলেই জীবন সাফল্যে ক্রমেই উদ্ভাসিত হয়। আমাদের সিলিকন ভ্যালির আজ এত সফলতার পেছনের কারণ একটিই। এখানে যারা প্রতিষ্ঠিত তারা সবাই জীবনের কোনো না-কোনো সময় সত্যিকারের ব্যর্থ মানুষ ছিল। সেখান থেকে তারা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আজ প্রতিষ্ঠিত। সফল হতে হলে তোমাকে প্রথমে ব্যর্থতার স্বাদ নিতে হবে, তারপর সামনে তাকিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। নতুন কিছু শিখতে শিখতে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে। আজ তোমাদের আগামীর জন্য আমি শুভকামনা করি। প্রত্যাশা রইল সবাই যেন আলোকিত হও। ধন্যবাদ সবাইকে।
সূত্র: ওয়েবসাইট
ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর: জাহিদ হোসাইন খান
যখন তোমরা এখান থেকে চলে যাবে, তোমাদের সামনে থাকবে নতুন পৃথিবী। তোমাদের একটা পরামর্শ দিতে চাই। যখনই কোনো কাজ করার সুযোগ পাবে তা লুফে নেবে। চেষ্টা করবে তোমার কাজের ক্ষেত্রে সব সময় সামনের দিকে থাকতে। একটি কোম্পানির কথা চিন্তা করো। আমি যে কোম্পানি থেকে এসেছি, সেখানে সব সময় সামনের দিকে কারা থাকে জানো? তারাই থাকে, যাদের ভবিষ্যতে আরও বড় হওয়ার সুযোগ থাকে। যারা অন্যদের জানাতে পারে, তাদের মধ্যে কিছু আছে, তারাই সামনের দিকে বসে। আমি তোমাদের সব সময় পরামর্শ দেব সামনের দিকে থাকতে। অনেকের সিজিপিএ কম-বেশি হতে পারে; কিন্তু সতর্ক থাকবে সেটা যেন কখনোই তোমার লক্ষ্যকে বিচ্যুত না করে। আমার পরিশ্রমের বিপরীতে আমি তোমাদের সতর্কও করে দিতে চাই। তোমাদের আমি আজ নতুন কাজের পরামর্শ দিচ্ছি কিন্তু আমি এখন নিজেই ষাটোর্ধ্ব কর্মপদশূন্য নারী। সম্প্রতি আমাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, আমি ছিলাম একটি বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী। মাঝেমধ্যে আমি তিক্ত আচরণ করি সবার সঙ্গে। আমার তিক্ত কথাবার্তায় তোমাদের জন্য ভবিষ্যতে সতর্ক হওয়ার গল্প থাকবে।
তোমরা আজ সৌভাগ্যবান। কারণ, তোমরা দেশের শ্রেষ্ঠ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তোমাদের ডিগ্রি অর্জন করতে যাচ্ছো। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত যত বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তৈরি হয়েছে, তার সংখ্যা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও বেশি। সেসব সৌভাগ্যবান প্রধান নির্বাহীর সংখ্যা পাঁচ শর বেশি। আমি সেই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে একজন। এটা আমার বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী। আমার ছোটবেলায় বেড়ে ওঠা ছিল উইসকনসিনের এক ছোট শহর আলমাতে। আট শ মানুষের বাস ছিল সেখানে। আমার জন্য দুর্ভাগ্যজনক ছিল সেই শহরের সবাই আমাকে চিনত এবং আমিও সবাইকে চিনতাম। এখানেই তোমাদের সঙ্গে আমার পার্থক্য। এই পার্থক্যে আমি একদিক থেকে গর্বিত বলা চলে। আমাদের সময়ের পড়াশোনা আর তোমাদের পড়াশোনায় আছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আমার মনে পড়ে যায়, ১৯৭১ সালের সেই সময়ের কথা। যখন আমরা পৃথিবীর যেখানে ইচ্ছা সেখানে যেতে পারতাম, যা ইচ্ছা তাই আমাদের হওয়ার সুযোগ ছিল। আমাদের ইচ্ছামতো আমরা চলতাম। যেই সুযোগগুলো তোমাদের জন্য অনেক কমে এসেছে।
আমি ১৯৭১ সালে যখন স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করি, তখনকার চাকরির জগতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির কোনোই অস্তিত্ব ছিল না। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রতিষ্ঠিত বিভাগ থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানের ওপর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করি। এ ক্ষেত্রে চাকরির বড়ই অভাব ছিল। কিন্তু সেই অভাব আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে যদি চাকরিপ্রার্থী একজন নারী হয়। সেই সমস্যা এখনো আছে। কিন্তু ১৯৭১ সাল মার্কিন ইতিহাসে নতুন একটি সময়ের ইঙ্গিত দেয়। এ বছর প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাসডক স্টক মার্কেট। নতুন একটি বিমান সংস্থা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বিমান পরিবহন শুরু করে। এ সময়েই ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কোম্পানি ইন্টেল মাইক্রোপ্রসেসর উদ্ভাবন করে। তোমরা আজ প্রযুক্তির যা-ই ব্যবহার করো না কেন, সেখানে আমাদের সময়কার উদ্ভাবিত মাইক্রোপ্রসেসরের উপস্থিতি আছেই। সেই উদ্ভাবন ছাড়া আজকের সময় এখানে আসতে পারত না, তোমরা তোমাদের মাকে টুইট করতে পারতে না।
হতাশাপূর্ণ দিনকে তোমরা গুরুত্ব দিয়ো না। এই হতাশা তোমাকে তোমার ভবিষ্যৎ নির্মাণে কোনো সাহায্য করবে না। আগামী ৫০ বছর তোমরা কাজ করার সুযোগ পাবে। পরিবর্তন করতে পারবে তোমার ভবিষ্যৎকে। তোমার সামনে আসছে অবারিত সুযোগ। এই গ্রীষ্মে যখন তুমি চাকরি খোঁজা শুরু করবে কিংবা নতুন কোনো কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করবে, তখন তোমার সামনে সৃষ্টি হবে নতুন সুযোগ। যদি সৌভাগ্যবান হও এবং মার্জিত হও তাহলে অচিরেই তুমি পৌঁছে যাবে কোম্পানির সামনের কর্তাব্যক্তিদের দলে। এটাই কিন্তু হবে তোমার জন্য আরও হতাশার। কারণ, তখন তোমার সামনে শীর্ষ বলে আর কিছুই থাকবে না। তোমাকে নিজেই তৈরি করতে হবে নতুন কোনো বিকল্প ভাবনা। সত্তর ও আশির দশকে যখন আমি থ্রিএম ও ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট করপোরেশনে কাজ শুরু করি, তখন আমার ক্ষেত্রেও এটা হয়েছিল। তখন ছিল না কোনো ইন্টারনেট, ছিল না কোনো অ্যাপস, আইফোনের ধারণা ছিল তখন স্বর্গে! নতুনদের উদ্ভাবনী শক্তিই সৃষ্টি করে নতুন নতুন সুযোগ, নতুন প্রযুক্তি। সিলিকন ভ্যালিতে এ জন্যই আমরা তোমাদের উদ্ভাবনী শক্তির কথা শুনতে চাই, জানতে চাই। তোমাদের আইডিয়ার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। তোমরাই পারো নতুন কোনো উদ্যোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু কীভাবে তোমরা এগিয়ে যাবে? কীভাবে বাস্তবায়িত করবে তোমার আইডিয়াকে? প্রথমেই তোমাকে খুঁজে বের করতে হবে তোমার জন্য যোগ্য বন্ধুদের। বর্তমান পৃথিবী আগের মতো একই আকৃতির হলেও সবাই এখন কিন্তু কাছাকাছি। ফেসবুক বা লিংকডইনের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তুমি কিন্তু তোমার আদর্শের বন্ধুকেই খুঁজে নিতে পারো। এটা তোমার জন্য খুবই দরকার। কারণ, তুমি যদি প্রতিভাবান ও শিক্ষিত কারও সঙ্গে মিশতে পারো, তাহলে তুমিও তোমার প্রতিভা ও শিক্ষাকে আরও শাণিত করতে পারবে। এরপর তোমাদের নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমি কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলাম। আমি ভালো করে যোগাযোগ করতে পারতাম না, কথা বলতে পারতাম না, অনেক শব্দের বানানই জানতাম না। অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। যেকোনো মূল্যেই সংক্ষেপে তোমার কথা, আইডিয়া প্রকাশ করার গুণাবলি অর্জন করতে হবে। সবশেষে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে তোমার চারপাশের লোকজনের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। সত্যিকারের শ্রোতা হতে হবে। তোমার চারপাশে যারা তোমাকে গুরুত্ব দেয়, যারা তোমার কাজ করে, যারা তোমার সহকর্মী তাদের কথা কিন্তু সত্যিই কেউ শুনতে চায় না। তোমাকেই শুনতে হবে তাদের কথা। আমার উপদেশ হবে—চুপ থাকো এবং শুনতে থাকো। চলার পথে তোমার জীবনে বাধা আসবেই। ব্যর্থতাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সামনে এগিয়ে যেতে হলে তোমাকে তোমার ব্যর্থতা থেকেই শিখতে হবে। সবাই কিন্তু তাদের ব্যর্থতা থেকে শিখতে পারে না। ব্যর্থতাকে অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরে নিলেই জীবন সাফল্যে ক্রমেই উদ্ভাসিত হয়। আমাদের সিলিকন ভ্যালির আজ এত সফলতার পেছনের কারণ একটিই। এখানে যারা প্রতিষ্ঠিত তারা সবাই জীবনের কোনো না-কোনো সময় সত্যিকারের ব্যর্থ মানুষ ছিল। সেখান থেকে তারা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আজ প্রতিষ্ঠিত। সফল হতে হলে তোমাকে প্রথমে ব্যর্থতার স্বাদ নিতে হবে, তারপর সামনে তাকিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। নতুন কিছু শিখতে শিখতে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে। আজ তোমাদের আগামীর জন্য আমি শুভকামনা করি। প্রত্যাশা রইল সবাই যেন আলোকিত হও। ধন্যবাদ সবাইকে।
সূত্র: ওয়েবসাইট
ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর: জাহিদ হোসাইন খান
- Get link
- X
- Other Apps
Comments