সব বিষয়ে শূন্য!


মেধাবী মুখ

সব বিষয়ে শূন্য!

আনিকা প্রতীতি | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩
সাদিয়া শারমীন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন বিভাগ ও অনুষদে প্রথম হ�
সাদিয়া শারমীন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন বিভাগ ও অনুষদে প্রথম হয়ে
‘তখন দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি। ফাইনাল পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে। ফলাফল পৌঁছাল মায়ের হাতে। এ কী! মায়ের চোখে পানি যে! তবে আমি কি পাসই করতে পারিনি? রিপোর্ট কার্ডে একনজর চোখ বুলিয়ে দেখি, সব বিষয়ে দুটি করে শূন্য! ভালো করে তাকিয়ে দেখি, না, শূন্যের বাঁ পাশে রয়েছে এক। সব বিষয়ে ১০০ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছিলাম সেবার!’ জীবনের সব পরীক্ষায় প্রথম স্থানের অধিকারী সাদিয়া শারমীন এভাবেই বলেন তাঁর সাফল্যের শুরুর কথা।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন এবং কেমিকৌশল বিভাগে সম্মান পরীক্ষায় প্রথম হয়ে সাফল্যের পাল্লা আরও ভারী করলেন তিনি। সেই সঙ্গে ‘সেরাদের সেরা’ ফলাফলের পুরস্কারস্বরূপ অর্জন করলেন ডিনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড।
ব্যবসায়ী বাবা ও গৃহিণী মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে সাদিয়া ছোট। তাঁর দাদা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের ছাত্র। জয়দেবপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকে সাদিয়া রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। অষ্টম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে হয়েছিলেন প্রথম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এত মেধাবীর প্রতিযোগিতার দৌড়ে সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৯১ অর্জন করা মোটেই মুখের কথা নয়। প্রতিদিন কত ঘণ্টা পড়েছেন, পড়াশোনার ধরন কেমন ছিল—এসব জানতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, ‘পরীক্ষার আগেই মূলত বেশি পড়া হয়। ঘণ্টা-মিনিট ওভাবে হিসাব করা হয় না। আর বছরের বাকি সময়গুলোয় আড্ডা আর টো টো করে ঘোরাই আমার কাছে মুখ্য হয়ে ওঠে! তবে নিয়মিত ক্লাস লেকচার অনুসরণ করা আর বন্ধুদের সঙ্গে বসে দলীয়ভাবে পড়াশোনা করার কারণেই আমার এ অর্জন’, বন্ধুদের অবদানও অকুণ্ঠচিত্তে স্মরণ করেন তিনি।
বন্ধুদের প্রতি সাদিয়াও কম দিলদরদি নন। বাক্পটু আর সদা হাস্যোজ্জ্বল সাদিয়া ক্লাস করতেন খুব মন দিয়ে। শিক্ষকদের লেকচার খাতায় তুলে ফেলতে পারতেন সহজেই। আর তাঁর খাতা ফটোকপি করে নিত সবাই। ‘বন্ধুরাই আমার সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী’, বলেন তিনি। তাঁর ভালো করার পেছনে আরও ছিল শিক্ষকদের উৎসাহ।
উপস্থাপনা আর বিতর্কে পারদর্শী সাদিয়া ভালোবাসেন বই পড়তে। বাসাভর্তি তাঁর বই আর পুরস্কারের সমাহার। ভালোবাসেন বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে আর ঘুরে বেড়াতে।
অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায় ও ছিন্নমূল শিশুদের কল্যাণে কাজ করার ইচ্ছা আছে তাঁর। ইচ্ছা আছে গ্রামে একটি বিজ্ঞান স্কুল খোলার, যেখানে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হবে রসায়নের প্রাথমিক পাঠ।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়