মহাজোটের ৪ বছরে ১৯ সাংবাদিক খুন : বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কিত রেকর্ড


মহাজোটের ৪ বছরে ১৯ সাংবাদিক খুন : বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কিত রেকর্ড

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদপরের সংবাদ»
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে সাংবাদিক হত্যায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। বর্তমান সরকারের গত চার বছরের শাসনামলে খুন হয়েছেন ১৯ সাংবাদিক। তাদের মধ্যে চলতি সপ্তাহেই খুন হয়েছেন দুইজন। নির্মম হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে শুধু সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ দম্পতির বিচার হয়েছে। বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডসহ ১৮টি হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি। প্রকৃত আসামিরাও গ্রেফতার হয়নি এখানও।
আমার দেশ-এর রেফারেন্স তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ জানুয়ারি শনিবার টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক মূলস্রোত পত্রিকার সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদেরই দায়ী করেছেন নিহতের পরিবারের লোকজন।
এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হয়েছেন সাপ্তাহিক অপরাধ দমন পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক দুর্জয় চৌধুরী দীপু। নিজ অফিসে নির্মমভাবে গুলি করে খুন করা হয়েছে তাকে।
গত বছরের ২৩ অক্টোবর নরসিংদীতে খুন হন নরসিংদীর বাণী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার তালহাদ আহমেদ কাবিদ। গত ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ ফ্ল্যাটে হত্যাকাণ্ডের শিকার বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র সাংবাদিক মেহেরুন রুনি।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও মামলার আসামিদের গ্রেফতারে এখনও কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সারাদেশের মানুষ এখনও উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য জানতে চাইছে। কিন্তু তদন্ত সংস্থা পুলিশ, র্যাব, সিআইডি বরাবরই এ বিষয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
এরআগে গত ১৬ জুন যশোরের শার্শা উপজেলায় দৈনিক গ্রামের কাগজের শার্শা প্রতিনিধি জামাল উদ্দিন, গত ১০ জুলাই হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে দৈনিক বিবিয়ানার স্টাফ রিপোর্টার জুনায়েদ আহমদ জুনেদ, গত বছরের ২৮ জানুয়ারি নয়াপল্টনের বাসায় খুন হওয়া প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক জনতার সহ-সম্পাদক ফরহাদ খাঁ (৬০) ও তার স্ত্রী রহিমা খাঁ (৫৫), গত বছরের (২০১১) ৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কুকরাইল এলাকায় গলাকেটে হত্যা করা হয় দৈনিক ভোরের ডাকের গোবিন্দগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ফরিদুল ইসলাম রঞ্জুকে, একই বছর ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের পোর্ট কলোনি এলাকায় দৈনিক আজকের প্রত্যাশা, সাপ্তাহিক সংবাদচিত্র ও আজকের সূর্যোদয় পত্রিকার সাংবাদিক মাহবুব টুটুল ও একই দিন ঢাকার উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের সাপ্তাহিক বজ্রকণ্ঠের সাংবাদিক আলতাফ হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২০১০ সালের ৯ মে গুপ্তহত্যার শিকার হন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার সিনিয়র ক্যামেরাম্যান শফিকুল ইসলাম টুটুল, ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল হামলার পর ২৮ এপ্রিল নিহত হন সাপ্তাহিক ২০০০-এর সিলেট প্রতিনিধি ফতেহ ওসমানী, ২০১০ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হন বরিশালের মুলাদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনির হোসে রাঢ়ী, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলাম আতিক, একই বছর জুলাই মাসে ঢাকার পাক্ষিক মুক্তমনের স্টাফ রিপোর্টার নুরুল ইসলাম ওরফে রানা, আগস্ট মাসে গাজীপুরে ঢাকার সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক সময়-এর নির্বাহী সম্পাদক এমএম আহসান হাবিব বারী, ডিসেম্বরে রূপগঞ্জে দৈনিক ইনকিলাব সংবাদদাতা ও রূপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি আবুল হাসান আসিফ খুন হন।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়