জিজ্ঞাসাকে নিয়ে কাশফিয়া
- Get link
- X
- Other Apps
আমিই বাংলাদেশবাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে মানুষের সম্মিলিত ও ব্যক্তিগত চেষ্টায়। বাংলাদেশ মানে শুধু নেতিবাচক খবর নয়। দেশে ও বিদেশে নিজের কাজ দিয়ে যাঁরা দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন, তাঁদের কথা নিয়ে আমাদের এই আয়োজন
জিজ্ঞাসাকে নিয়ে কাশফিয়া
পল্লব মোহাইমেন | তারিখ: ১৮-০১-২০১৩
কাশফিয়া আহমেদ
ছবি: খালেদ সরকার
মানুষের কাজে লাগে এমন তথ্যভান্ডার তৈরিও যে সফল একটি ব্যবসা-উদ্যোগ হতে পারে, তা দেখিয়ে দিয়েছেন কাশফিয়া আহমেদ। গড়ে তুলেছেন উইন ইনকরপোরেট নামের প্রতিষ্ঠান। বাংলালিংকের একটা সেবা ‘জিজ্ঞাসা ৭৬৭৬’। এই নম্বরে ফোন করলে কৃষিবিষয়ক যেকোনো সমস্যার সমাধান মুঠোফোনে পাওয়া যায়। কলসেন্টার থেকে যে সমাধান বা তথ্য দেওয়া হয়, সেগুলো সরবরাহ করে কাশফিয়ার প্রতিষ্ঠান। এর আগে তিনি তৈরি করেছেন বাংলা ভাষায় কৃষি তথ্যের ওয়েবসাইট রুরালইনফোবিডি ডট কম।
কাশফিয়া বললেন, ‘মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান একটা নম্বর এবং কলসেন্টারের সুবিধা দেয়। কিন্তু যে তথ্য বা কৃষির বিভিন্ন সমাধান সেখান থেকে দেওয়া হচ্ছে, তার ডেটাবেইস (তথ্যভান্ডার) আমরা তৈরি করে দিই।’ ডেটাবেইস থেকে নির্ধারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বের করার জন্য সফটওয়্যারও তৈরি করে দেয় উইন ইনকরপোরেট। কাশফিয়া জানালেন, কোনো একটা নতুন সমস্যা এলে তার সমাধান দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রাহককে জানিয়ে দেওয়া হয়। বললেন, ‘এ কারণে প্রতিদিনই এই তথ্যভান্ডার হালনাগাদ হচ্ছে। মূল ডেটাবেইস তিন মাসে একবার হালনাগাদ করা হয়।’ কাশফিয়ার এই কৃষি তথ্যসেবা আগামী মার্চ মাস থেকে আরও দুটি মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে চালু হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ মৎস্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে যোগ দেন কাশফিয়া। ১৯৯৮ সালে জাপান সরকারের মনবুশো বৃত্তি পান। টোকিও ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মলিকিউলার বায়োলজিতে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। এরপর জাপান ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর এগ্রিকালচারাল সায়েন্স থেকে পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে আসেন ২০০৫ সালে।
কাশফিয়া আহমেদ বলেন, ‘দেশে ফিরে আসতে আমার বাবাই আমাকে বেশি অনুপ্রাণিত করেছেন।’ দেশে এসে চাকরি নিলেন ক্যাটালিস্টে। এই চাকরি করতে করতেই কাশফিয়ার মাথায় আসে এই তথ্যসেবার ব্যাপারটা। বললেন, ‘তখন প্রচুর মাঠে ঘুরতাম। বুঝতে পারি, দরকারি তথ্যের অভাব ও বিভিন্ন বিষয়ের তাৎক্ষণিক সমাধান না পাওয়া কৃষকদের জন্য বড় একটা সমস্যা।’
তথ্য যে একটা বিক্রয়যোগ্য পণ্য হতে পারে, তা তখন বুঝতে পেরেছিলেন কাশফিয়া। তিনি বলেন, ‘তখন দেশে মুঠোফোনের সংখ্যা বাড়ছে। আমি জানতাম, তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা দ্রুতই সারা দেশে পৌঁছে যাবে। আর এখন আমাদের তথ্যসেবার বাজার বেশ ভালোই বলা চলে।’ ২০০৬ সালে গড়ে তোলা উইন ইনকরপোরেটের আরেক অংশীদার হলেন প্রকৌশলী রেমিজিয়াস রেমি। রেমি কারিগরি অংশটা দেখেন।
প্রথমেই রুরালইনফোবিডি ডট কম ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয় উইন থেকে। গ্রামীণফোনের কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার (সিআইসি) এটি ব্যবহার করে কৃষকদের তথ্যসেবা দেয়। কাশফিয়া বলেন, ওয়েবসাইটে কৃষির সব তথ্যই থাকত। কিন্তু কৃষকদের আছে কম্পিউটার-ভীতি। পাশাপাশি অনেকেই পড়তে পারেন না। কৃষকেরা ঘর বা খেত—যেকোনো জায়গা থেকে ফোনে কথা বলে হলেও সরাসরি পরামর্শ পেতে চান। এর পরই কাশফিয়া মুঠোফোনভিত্তিক কৃষি তথ্যসেবা নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০০৮ সালে বাংলালিঙ্কের সঙ্গে চালু হয় এই কৃষি তথ্যসেবা।
তথ্যসেবার পাশাপাশি অর্গানিক সবজি চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও দরকারি পরামর্শ দিচ্ছে কাশফিয়ার প্রতিষ্ঠান। জাইকার অর্থায়নে জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রামীণ কমিউনিকেশন ও উইন ইনকরপোরেট কাপাসিয়া ও চাঁদপুরে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দুই জায়গাতেই কম্পিউটার ডেটাবেইসের মাধ্যমে কৃষকদের অর্গানিক সবজি চাষের পদ্ধতি শেখানোর কাজটা করছেন কাশফিয়া।
১৯৬৯ সালে জন্ম কাশফিয়া আহমেদের। তাঁর বাবা শরফউদ্দিন আহমেদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক ও অধ্যক্ষ। মা নার্গিস ফেরদৌসী। কৃষি তথ্যসেবা দিয়ে কাশফিয়া নিজে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এই উদ্যোগের জন্য ভারতের মন্থন পুরস্কার, দেশে ডিজিটাল উদ্ভাবনী পুরস্কার পেয়েছেন। গত বছর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি লেখক-সাংবাদিক পুরস্কার পেয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব থিসিস ও জার্নালের ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির একটা প্রকল্প শুরু হয়েছে ২০১১ সাল থেকে। কাশফিয়া এই প্রকল্পের প্রধান পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী জুন মাস নাগাদ এ কাজ শেষ হবে।
কৃষি তথ্য বা পরামর্শ কৃষকের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন কাশফিয়া তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে। নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন একজন ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবে। আর কাশফিয়া আহমেদের সে উদ্যোগের সুফল সরাসরি নিতে পারছেন বাংলাদেশের কৃষকেরা।
আমিই বাংলাদেশ নিয়ে পরামর্শ ও তথ্য যোগাযোগ: ab@prothom-alo.info
কাশফিয়া বললেন, ‘মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান একটা নম্বর এবং কলসেন্টারের সুবিধা দেয়। কিন্তু যে তথ্য বা কৃষির বিভিন্ন সমাধান সেখান থেকে দেওয়া হচ্ছে, তার ডেটাবেইস (তথ্যভান্ডার) আমরা তৈরি করে দিই।’ ডেটাবেইস থেকে নির্ধারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বের করার জন্য সফটওয়্যারও তৈরি করে দেয় উইন ইনকরপোরেট। কাশফিয়া জানালেন, কোনো একটা নতুন সমস্যা এলে তার সমাধান দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রাহককে জানিয়ে দেওয়া হয়। বললেন, ‘এ কারণে প্রতিদিনই এই তথ্যভান্ডার হালনাগাদ হচ্ছে। মূল ডেটাবেইস তিন মাসে একবার হালনাগাদ করা হয়।’ কাশফিয়ার এই কৃষি তথ্যসেবা আগামী মার্চ মাস থেকে আরও দুটি মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে চালু হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ মৎস্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে যোগ দেন কাশফিয়া। ১৯৯৮ সালে জাপান সরকারের মনবুশো বৃত্তি পান। টোকিও ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মলিকিউলার বায়োলজিতে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। এরপর জাপান ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর এগ্রিকালচারাল সায়েন্স থেকে পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে আসেন ২০০৫ সালে।
কাশফিয়া আহমেদ বলেন, ‘দেশে ফিরে আসতে আমার বাবাই আমাকে বেশি অনুপ্রাণিত করেছেন।’ দেশে এসে চাকরি নিলেন ক্যাটালিস্টে। এই চাকরি করতে করতেই কাশফিয়ার মাথায় আসে এই তথ্যসেবার ব্যাপারটা। বললেন, ‘তখন প্রচুর মাঠে ঘুরতাম। বুঝতে পারি, দরকারি তথ্যের অভাব ও বিভিন্ন বিষয়ের তাৎক্ষণিক সমাধান না পাওয়া কৃষকদের জন্য বড় একটা সমস্যা।’
তথ্য যে একটা বিক্রয়যোগ্য পণ্য হতে পারে, তা তখন বুঝতে পেরেছিলেন কাশফিয়া। তিনি বলেন, ‘তখন দেশে মুঠোফোনের সংখ্যা বাড়ছে। আমি জানতাম, তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা দ্রুতই সারা দেশে পৌঁছে যাবে। আর এখন আমাদের তথ্যসেবার বাজার বেশ ভালোই বলা চলে।’ ২০০৬ সালে গড়ে তোলা উইন ইনকরপোরেটের আরেক অংশীদার হলেন প্রকৌশলী রেমিজিয়াস রেমি। রেমি কারিগরি অংশটা দেখেন।
প্রথমেই রুরালইনফোবিডি ডট কম ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয় উইন থেকে। গ্রামীণফোনের কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার (সিআইসি) এটি ব্যবহার করে কৃষকদের তথ্যসেবা দেয়। কাশফিয়া বলেন, ওয়েবসাইটে কৃষির সব তথ্যই থাকত। কিন্তু কৃষকদের আছে কম্পিউটার-ভীতি। পাশাপাশি অনেকেই পড়তে পারেন না। কৃষকেরা ঘর বা খেত—যেকোনো জায়গা থেকে ফোনে কথা বলে হলেও সরাসরি পরামর্শ পেতে চান। এর পরই কাশফিয়া মুঠোফোনভিত্তিক কৃষি তথ্যসেবা নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০০৮ সালে বাংলালিঙ্কের সঙ্গে চালু হয় এই কৃষি তথ্যসেবা।
তথ্যসেবার পাশাপাশি অর্গানিক সবজি চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও দরকারি পরামর্শ দিচ্ছে কাশফিয়ার প্রতিষ্ঠান। জাইকার অর্থায়নে জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রামীণ কমিউনিকেশন ও উইন ইনকরপোরেট কাপাসিয়া ও চাঁদপুরে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দুই জায়গাতেই কম্পিউটার ডেটাবেইসের মাধ্যমে কৃষকদের অর্গানিক সবজি চাষের পদ্ধতি শেখানোর কাজটা করছেন কাশফিয়া।
১৯৬৯ সালে জন্ম কাশফিয়া আহমেদের। তাঁর বাবা শরফউদ্দিন আহমেদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক ও অধ্যক্ষ। মা নার্গিস ফেরদৌসী। কৃষি তথ্যসেবা দিয়ে কাশফিয়া নিজে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এই উদ্যোগের জন্য ভারতের মন্থন পুরস্কার, দেশে ডিজিটাল উদ্ভাবনী পুরস্কার পেয়েছেন। গত বছর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি লেখক-সাংবাদিক পুরস্কার পেয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব থিসিস ও জার্নালের ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির একটা প্রকল্প শুরু হয়েছে ২০১১ সাল থেকে। কাশফিয়া এই প্রকল্পের প্রধান পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী জুন মাস নাগাদ এ কাজ শেষ হবে।
কৃষি তথ্য বা পরামর্শ কৃষকের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন কাশফিয়া তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে। নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন একজন ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবে। আর কাশফিয়া আহমেদের সে উদ্যোগের সুফল সরাসরি নিতে পারছেন বাংলাদেশের কৃষকেরা।
আমিই বাংলাদেশ নিয়ে পরামর্শ ও তথ্য যোগাযোগ: ab@prothom-alo.info
- Get link
- X
- Other Apps
Comments