দাঁত দীর্ঘস্থায়ী হয় কীভাবে

দাঁত দীর্ঘস্থায়ী হয় কীভাবে
ইনকিলাব ডেস্ক : ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝে না’ বলে একটা প্রবাদ আছে। আসলে দাঁত নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত  আমাদের অনেকেই দাঁতের সঠিক গুরুত্বও উপলব্ধি করতে পারি না। আবার অনেকেই আছেন যারা দাঁতকে যে নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিচর্যা করতে হয় সেটা বুঝতেই চান না। একথা সত্য যে নিয়মিত অভ্যাস আর পরিচর্যার মাধ্যমে দাঁতকে সুস্থ, সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী করা যায়। দন্ত বিশেষজ্ঞদের গবেষণানুযায়ী এখানে এব্যাপারে কয়েকটি পরামর্শ দেয়া হলো। (১) অনেকে জানেন, উচ্চ কলেস্টেরল মোটা হওয়ার মূল কারণ। কিন্তু বেশি কলেস্টেরল খেলে পেরিওডন্টাল নামক একধরনের দন্ত রোগ দ্বারা সহজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে। (২) স্বাস্থ্যকর দাঁত থাকলেও বছরে অন্তত দু’বার দন্ত চিকিৎকের কাছে যাওয়া উচিত। (৩) দাঁতের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট করে দাঁত ব্রাশ করা উচিত। কিন্তু বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মাত্র ২-৩ মিনিট এবং শিশুদের ক্ষেত্রে আরও কম সময় ব্যয় করতে দেখা যায়। (৪) ইলেক্ট্রিক টুথব্রাশ দাঁত পরিষ্কারে সাধারণ টুথব্রাশের তুলনায় অধিক কার্যকর। এই টুথব্রাশ সহজেই দাঁতের মাড়ির নিচে ও ফাঁকে প্রবেশ করে পরিষ্কার করতে পারে। (৫)  চটকদার বিজ্ঞাপনে এমন অনেক টুথপেস্ট পাওয়া যায়, যা দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বাড়ানো, দাঁতের রোগ প্রতিরোধ এবং দাগ নির্মূলে কার্যকর হয় না। তাই কেনার সময় অবশ্যই দাঁতের রোগ প্রতিরোধে সহায়ক এমন টুথপেস্ট কেনার প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। (৬) মুখের দুর্গন্ধ এবং জীবাণু প্রতিরোধে মাউথওয়াশের ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে মনে রাখা উচিত মাউথওয়াশের কার্যকারিতা মাত্র ৩০ মিনিট এবং এরপর মুখ আগের মতো দুর্গন্ধযুক্ত ও জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হবে। (৭) দন্ত চিকিৎসকরা বুদ বুদ ওঠা খাবার পানিকে তরল করাত হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। কারণ তারা এই পানিতে থাকা চিনি এবং অমøকে দ্রুত দাঁত ক্ষয়ের কারণ হিসেবে মনে করেন। (৮) প্রতিটি দাঁতের চারপাশে জীবাণু মিশ্রিত লালা থাকে। সেজন্য সকলের উচিত বেশি বেশি করে দাঁত পরিষ্কার রাখা। (৯) গত কয়েক দশক ধরে দন্ত চিকিৎসকরা বাবা-মার সঙ্গে শিশুকে দুধ খাওয়ানো ফিডারে নিপলের ব্যবহার ও দাঁতে ক্ষয়রোগ বিষয়ে আলোচনা করে আসছেন। চিকিৎসকরা প্রায়ই ফিডারে দুধ খেতে খেতে বাচ্চাদের ঘুমাতে না দেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ পরামর্শ খুব বেশি একটা কার্যকর হয়নি। (১০) দাঁত পরিষ্কারের সময় যদি রক্ত বের হয়, তাহলে আপনি হয়তো তখনই ডাক্তারের কাছে যাবেন। কিন্তু দাঁত ব্রাশের সময় রক্ত বের হলে অনেকে খেয়াল করেন না। আসলে মাড়ি থেকে রক্ত বের হওয়ার মানে আপনার দাঁতে রোগ আছে। (১১) অনেকেই আছেন যাদের ভেতরের দাঁত খুব খারাপ, কিন্তু সামনের দাঁত সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর। এর কারণ সামনের দাঁত সহজে লোকে দেখতে পায়। তাই তার দিকেই বেশি নজর থাকে। ভেতরের দাঁত পরিষ্কারের ক্ষেত্রে বেশি নজর দেয়া হয় না। (১২) দাঁতের ডাক্তাররা সব সময়ে রোগীদের প্রতিবার দাঁত পরিষ্কার শেষে বিশেষ সুতা-‘ফ্লজ’ ব্যবহার করে দাঁতের ক্ষয়রোধ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। (১৩) সাধারণত যে কোনো মানুষ অপর একজনের মুখম-লের মধ্যে প্রথমে তাকায় তার চোখ, তারপর দাঁত এবং এরপর চুলের দিকে। কিন্তু চুলের পরিচর্যায় যে সময় ব্যয় করা হয় তা দাঁতের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। তাই এখন থেকে দাঁত পরিচর্যার ক্ষেত্রেও যথাযথ নজর দেয়া প্রয়োজন। সূত্র : ওয়েবসাইট।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়