সোনা ফেলে আঁচলে গেরো দেবেন না
- Get link
- X
- Other Apps
সহজিয়া কড়চা
সোনা ফেলে আঁচলে গেরো দেবেন না
সৈয়দ আবুল মকসুদ | তারিখ: ২৯-০১-২০১৩
যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশে, তা গলিত দূষিত গণতন্ত্রই হোক আর আদর্শ গণতন্ত্রই হোক, নির্বাচনের বছরের বৈশিষ্ট্য আলাদা। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আসে দৃষ্টিগ্রাহ্য পরিবর্তন। বাংলাদেশেও আমরা তা দেখছি ১৯৫৪ সাল থেকে। ষাটের দশকের মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচনগুলোতে উত্তেজনা ছিল কম। সত্তরের নির্বাচন ছিল সবচেয়ে উত্তেজনাময়। কারণ, তা ছিল জনগণের ভাগ্য পরীক্ষার নির্বাচন।
নির্বাচনের বছরে আমাদের দেশে মানুষে মানুষে সামাজিক যোগাযোগ বাড়ে। যার সঙ্গে কোনো দিনই আগে কথাবার্তা হয়নি, তাকেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একজন বলেন, ‘কেমন আছেন, চাচা? চাচির শরীলডা ভালো তো?’ নবসম্পর্কিত চাচা তাঁর ভাতিজাকে বলেন, ‘আপনের চাচি গত নির্বাচনের তিন দিন পর হার্টফেল কইরা মারা গেছে। এবার চার বছর হইল।’ ভাতিজা সম্ভাব্য প্রার্থীর একজন কর্মী। চার বছর পর চাচির মৃত্যুসংবাদে বড়ই মর্মাহত হন। শোকের ছায়ায় ঢেকে যায় ভাতিজার মুখ। বলেন, ‘আমাকে খবর দেন নাই। কুলখানিতে যাইতাম।’ চার বছর পর নতুন করে কুলখানি করা সম্ভব নয়, তা জেনেও চাচা বলেন, ‘বাড়িতে আইসেন, আপনের চাচির জন্য দোয়া কইরা যাইয়েন।’
দুই দিন পর ভাতিজা চাচির রুহের মাগফিরাত কামনা করতে চাচার বাড়ি যান। তবে একা নয়, তাঁর সঙ্গে আরও ১০-১২ জন। তাদের চেহারাই অন্য রকম। আগে চাচা তাঁদের দেখেননি। অন্য এলাকা থেকে এসেছে। তাদের কারও ভীতিকর গোঁফ দুই দিকে থুতনি পর্যন্ত নেমেছে। কারও জুলফি নাক পর্যন্ত। কারও এক চিলতে দাড়ি থুতনির কাছে। কারও মাথা ন্যাড়া। কারও লম্বা চুল বুড়িদের মতো খোঁপা করে বাঁধা। কারও মাথায় চে গুয়েভারার টুপি। কারও জিনসের প্যান্ট এবং গলায় মাফলার জড়ানো। ভাতিজা ও তাঁর সঙ্গীদের উঠানে দেখে চাচা খুশি হওয়ার অথবা ভয়ে রক্ত হিম হওয়ার অবসর পেলেন না। তার আগেই ভাতিজা বলেন, ‘দুরবার আলী খোন্দকার সাব এবার আমাগো এলাকা থিকা দাঁড়াইতেছেন। গার্মেন্টস আছে পাঁচটা। আপনার দোয়া চাইছেন। চাচির নামে কয়েকজন ফকির খাওয়াইয়া দিয়েন।’ বলেই পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা বান্ডিল বের করে চাচার হাতে দিলেন। ভাতিজার সময় নেই। আটটা মোটরসাইকেল একসঙ্গে স্টার্ট দিয়ে দ্রুত চলে গেলেন।
চাচা গুনে দেখেন যে পাঁচ শ টাকার তিরিশখানা নোট। ভাতিজাদের দেখে প্রথম মনে যে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল, তা মুহূর্তে কেটে যায়। মনে হয়, ছেলেগুলা খুব ভালো। দুরবার আলী সাবকে আগে চোখে না দেখলেও চাচার মনে হয়, লোকটা ভালো। মানুষটার দিল আছে। চার বছর পর কি আর ফকির খাওয়াবে! বাঁচা থাকতে কম জ্বালায় নাই। চাচা ওই দিন বাজারে যান একটু আগেই। চোরের বিলের তাজা চিতল একটা পেয়ে যান ভাগ্যক্রমে। আঠার শ পঞ্চাশ টাকা দিয়ে কেনেন। রাতে চিতলের পেটিটি পাতে নিয়ে তিন ছেলে আর ছেলের বউদের বলেন, ‘দুরবার আলী সাব খাড়াইতেছে। তার দিলডা অনেক বড়। ভোটগুলা তারেই দেওন লাগব।’
মেজো ছেলেটা কলেজে পড়েছে কিছুদিন। বলে, ‘কোন দুরবার আলী? হে তো দুইবার জেলে গেছে। একবার এক রেপ কেসে ছয় দিন হাজতে ছিল। তারপর এক মার্ডার কেসে গ্রেপ্তার হইয়া এখন জামিনে আছে।’
কুশিকাটার সমান চিতলের পেটির কাঁটাগুলো চুষতে চুষতে চাচা খেঁকিয়ে ওঠেন, ‘রাখ তোর রেপ কেস আর মার্টার কেস! তার মতো একটা কামের লোক আমাগো এলাকার এমপি হইলে কত সুবিধা।’
গণতন্ত্র শুধু নেতাদের বিষয় নয়, প্রার্থীর বিষয় নয়, ক্যাডারদের কর্ম নয়—জনগণেরও বিষয়। খুব সৎ আর খুব অসৎ প্রার্থীর মধ্যে কাকে বেছে নেবেন, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ভোটারদের। যেমন জনগণ, তেমন প্রার্থীই ‘বিপুল ভোটে’ নির্বাচিত হয়ে থাকেন। খুব খারাপ সংসদের জন্য দায়দায়িত্ব কি জনগণের ওপর বর্তায় না? সামান্য কিছু টাকা, এক প্যাকেট মিষ্টি, একটি লুঙ্গি, একখানা শাড়ি যেখানে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে, সে দেশের পার্লামেন্ট উত্তম আইনসভা কীভাবে হবে? জনগণ যতক্ষণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্র একটি পণ্য হয়েই থাকবে। বিত্তবান ও ক্ষমতাবানেরা গণতন্ত্রকে ব্যবহার করবে নিজেদের ভাগ্য গড়ার উপায় হিসেবে। সেই গণতন্ত্র গণমানুষের গণতন্ত্র নয়, রাজনীতিকদের গণতন্ত্র। বহু বছর যাবৎ আমরা গণতন্ত্রের নামে যে ব্যবস্থায় রয়েছি, তা গণতন্ত্র নয়, রাজনীতিকতন্ত্র: মি. লিংকনের ভাষায় অনুকরণ করে ইংরেজিতে বলা যায়, গভর্নমেন্ট অব দ্য পলিটিশিয়ান, বাই দ্য পলিটিশিয়ান অ্যান্ড ফর দ্য পলিটিশিয়ান। গণতন্ত্রের একটা আদল দিতে জনগণকে শুধু ব্যবহার করা হচ্ছে এবং জনগণও তাৎক্ষণিক ক্ষুদ্র প্রাপ্তিতেই সন্তুষ্ট। দুর্নীতি শুধু পদ্মা সেতুতে হয় না, নির্বাচনের দিন দুর্নীতি ভোটারদের অনেকেই করেন।
একটি অরণ্য আপনাআপনি গড়ে ওঠে। একটি রাষ্ট্র আপনাআপনি গড়ে ওঠার জিনিস নয়। তাকে গড়ে তুলতে হয়। কোনো কিছু ভালোমতো গড়ে তুলতে হলে তার জন্য কিছু মানুুষকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ষাটের দশকে আমাদের কিছু নেতা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন বলেই একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হতে পেরেছিল এবং আমরা একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলাম। কোনো কিছু প্রতিষ্ঠা করা পর্যন্ত একটি পর্যায়, তা ভালোভাবে গড়ে তোলা আরেকটি পর্যায়। এবং এই পর্যায়ের কাজ অতি কঠিন।
কোনো রাষ্ট্রে নিচের থেকে ওপর পর্যন্ত দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা না থাকলে সে রাষ্ট্র কোনো কার্যকর রাষ্ট্র নয়। রাষ্ট্রের পার্লামেন্ট সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ভেতর দিয়ে বছরের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়াই রীতি। রাষ্ট্রপতির ভাষণটি সরকারের কর্মকর্তারা লিখে দেন। তবে তাঁর বক্তব্যের সুরটা থাকে অভিভাবকের। ’৭৩ সাল থেকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পাই। এগুলো জাতীয় অনুষ্ঠান। এর মর্যাদা আলাদা। আমি সব সময়ই উপস্থিত থাকি। স্পিকারের পক্ষ থেকে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আমন্ত্রণ জানান। এবার আমার আমন্ত্রণপত্রটি যখন আমার বাড়িতে পৌঁছায়, তখন রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দিচ্ছিলেন। সুতরাং, উপস্থিত থাকতে পারিনি। আজকাল বহু সরকারি অফিসের আমন্ত্রণপত্র পাই অনুষ্ঠান হয়ে যাওয়ার দু-এক দিন পর। এটা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের দক্ষতার একটি দৃষ্টান্ত।
একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান সাহেব বিরোধী দল ও সরকারি দলসহ দলমত-নির্বিশেষে সবাইকেই উপদেশ ও পরামর্শ দিতে পারেন, সমালোচনা করতে পারেন। তাঁর কথার মূল্য দেওয়া সরকারি দল ও বিরোধী দলের কর্তব্য। বিএনপি-জামায়াত সরকারের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির ব্যর্থতার কথা বলেছেন। তাঁর এই বক্তব্যে দ্বিমত নেই কারও। কিন্তু সরকারের বহু আলোচিত ও প্রকাণ্ড সব ভুলের যদি সমালোচনা থাকত, তাহলে জনগণের মনে আস্থার সৃষ্টি হতো। মানুষ মনে করত আমাদের একজন মুরব্বি আছেন, যিনি সরকারকেও ছাড়েন না।
বর্তমান সংসদের এটাই শেষ বছর। তাই সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা শোনা যাচ্ছে। সরকারি দল নির্বাচনী সভা-সমাবেশও করছে এবং নেতারা দলের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন। আর একটিবার অন্তত দেশের সেবা করার সুযোগ দিতে জনগণকে অনুরোধ করছেন এবং এ কথাও বলছেন, নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে। বিরোধী দল চাইছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাতে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থার আশঙ্কা করছে মানুষ। গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্যটা মানুষ দেখল না।
আমরা দুই দশক যাবৎ দেখছি, নির্বাচিত সরকারের সময়ও ক্ষমতা প্রয়োগে অংশীদারি নেই। বিভিন্ন মতামতের সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। সব ক্ষমতা ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা কোনো ব্যক্তির অধিকার নয়, সাময়িক দায়িত্ব পালনমাত্র। রাষ্ট্রের ক্ষমতা যদি ব্যক্তিবিশেষের হাতে সঞ্চিত হয়, তাতে তিনি নিজেও কাজের চাপে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। বিভিন্ন ব্যাপারে তাঁকে অতিরিক্ত চিন্তা করতে হয়। অতিরিক্ত চিন্তা ও অত্যধিক কাজের চাপে অনেক ক্ষেত্রে তাঁর ভুল হওয়া স্বাভাবিক। সেই ভুলের দায় শেষ পর্যন্ত আর কেউ নেন না। তা ছাড়া ক্ষমতাসর্বস্বতা গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়; বরং তা সরকার বা শাসককে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। কোনো রাজনৈতিক দল যদি সমাজের সাধারণ মানুষের চিন্তাচেতনা ও আবেগ-অনুভূতির বিরুদ্ধে চলে যায়, জাতীয় চেতনার বিপরীতে অবস্থান নেয়, তা সাময়িক যতই দাপট দেখাক, একসময় দুর্বল হয়ে পড়ে। এতটাই দুর্বল হয়, যার দৃষ্টান্ত মুসলিম লীগ—বাংলাদেশে ও পাকিস্তানে।
আমাদের দেশে বহু কালের পুরোনো ধর্মীয় আদর্শ বাস্তবায়নের একটা অপতৎপরতা অনেক দিন থেকেই রয়েছে। এটা খুবই নিম্নমানের শুধু নয়, ক্ষতিকর রাজনৈতিক আদর্শ। ধর্মের আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক তাৎপর্যকে মূল্য দেওয়া যায়, তার রাজনৈতিক দিককে নয়। ধর্মের আদি শিক্ষায় পবিত্রতা রয়েছে। কিন্তু ধর্ম কোনো সৃষ্টিশীল বিষয় নয়। একটি অনড় ও অপরিবর্তনীয় বিষয়। অন্যদিকে রাজনীতি একটি সৃষ্টিশীল জিনিস। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি খুব বেশি উগ্র হলে তা জঙ্গিবাদে পরিণত হয়। যে লক্ষ্যেই করা হোক, কোনো সমস্যারই জঙ্গিবাদ সমাধান নয়। অনেক সময় অনেকে ভুল করেন, বিপ্লবী রাজনীতি ও জঙ্গিবাদকে এক করে দেখেন। এই দুটি দুই জিনিস।
কোনো সরকার যখন স্বেচ্ছাচারী হয়ে অতিরিক্ত শক্তি প্রদর্শন করতে থাকে, তখন তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দুভাবে হতে পারে। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন অথবা অনিয়মতান্ত্রিক গোপন তৎপরতা। অনিয়মতান্ত্রিক গোপন তৎপরতা, তা যে নামেই হোক, যে আদর্শ বাস্তবায়নের জন্যই হোক, নৈরাজ্যের দিকে গেলে সমাজ বিপর্যস্ত হয়। সমাজে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরিণামে জনগণের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। হতাশাগ্রস্ত জাতি সৃষ্টিশীল হয় না। জীবন্মৃত হয়ে টিকে থাকে। ওই জনগণকে দিয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। সুতরাং, রাজনীতি যাতে নিয়মতান্ত্রিকতার বাইরে চলে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখা দরকার।
সরকারের কোনো ভুল নীতির কারণে, সরকারের অসংগত আচার-আচরণে যদি জনগণ তাদের সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক অধিকার হারায়, তাহলে গণ-অসন্তোষ দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। গণ-অসন্তোষ থেকে গণবিস্ফোরণ পর্যন্ত হতে পারে। উনসত্তরে পাকিস্তানে, নব্বইতে বাংলাদেশে এবং সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে তা দেখা গেছে। গণবিস্ফোরণ মানেই যে ভালো কিছু, তা নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সত্য। কোনো গণবিস্ফোরণের দার্শনিক ভিত্তি ও যোগ্য নেতৃত্ব না থাকলে তা সমাজকে বরং তছনছ করে দেয়। সুতরাং, যেকোনো সরকারের নীতিনির্ধারকদের উচিত, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে, গণ-অসন্তোষ না দেখা দেয়, সেদিকে নজর রাখা। গণবিস্ফোরণ কারও নেতৃত্বে বলে-কয়ে হয় না। হঠাৎ কেউ সুবিধা নেয়।
বিরোধী দল নির্দলীয় সরকারের জন্য আন্দোলন করছে। সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোনোটাই দোষের নয়। কিন্তু দুই পক্ষকেই চূড়ান্ত পর্যায়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছতে হবে তাদের নিজেদের স্বার্থেই। এক পক্ষের ক্ষতি করে আরেক পক্ষ শান্তিতে বাস করতে পারবে না। স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের গুরুত্ব কোথায়, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার গৌরব যে কত বিরাট, তা বোঝার শক্তি যদি রাজনৈতিক নেতাদের না থাকে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন হওয়াই স্বাভাবিক। জনগণ অনেক কিছুই বোঝে। কিন্তু অসংগঠিত ও নেতৃত্বহীন মানুষের কোনো মূল্য নেই। পুরোনো নেতৃত্বের ভেতর থেকে কেউ হোন, নতুন নেতৃত্ব হোন, কাউকে না কাউকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সময়ের দাবি পূরণ করতেই হবে। নেতারা সোনা ফেলে আঁচলে গেরো দেবেন, তা আমাদের কাম্য নয়।
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
নির্বাচনের বছরে আমাদের দেশে মানুষে মানুষে সামাজিক যোগাযোগ বাড়ে। যার সঙ্গে কোনো দিনই আগে কথাবার্তা হয়নি, তাকেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একজন বলেন, ‘কেমন আছেন, চাচা? চাচির শরীলডা ভালো তো?’ নবসম্পর্কিত চাচা তাঁর ভাতিজাকে বলেন, ‘আপনের চাচি গত নির্বাচনের তিন দিন পর হার্টফেল কইরা মারা গেছে। এবার চার বছর হইল।’ ভাতিজা সম্ভাব্য প্রার্থীর একজন কর্মী। চার বছর পর চাচির মৃত্যুসংবাদে বড়ই মর্মাহত হন। শোকের ছায়ায় ঢেকে যায় ভাতিজার মুখ। বলেন, ‘আমাকে খবর দেন নাই। কুলখানিতে যাইতাম।’ চার বছর পর নতুন করে কুলখানি করা সম্ভব নয়, তা জেনেও চাচা বলেন, ‘বাড়িতে আইসেন, আপনের চাচির জন্য দোয়া কইরা যাইয়েন।’
দুই দিন পর ভাতিজা চাচির রুহের মাগফিরাত কামনা করতে চাচার বাড়ি যান। তবে একা নয়, তাঁর সঙ্গে আরও ১০-১২ জন। তাদের চেহারাই অন্য রকম। আগে চাচা তাঁদের দেখেননি। অন্য এলাকা থেকে এসেছে। তাদের কারও ভীতিকর গোঁফ দুই দিকে থুতনি পর্যন্ত নেমেছে। কারও জুলফি নাক পর্যন্ত। কারও এক চিলতে দাড়ি থুতনির কাছে। কারও মাথা ন্যাড়া। কারও লম্বা চুল বুড়িদের মতো খোঁপা করে বাঁধা। কারও মাথায় চে গুয়েভারার টুপি। কারও জিনসের প্যান্ট এবং গলায় মাফলার জড়ানো। ভাতিজা ও তাঁর সঙ্গীদের উঠানে দেখে চাচা খুশি হওয়ার অথবা ভয়ে রক্ত হিম হওয়ার অবসর পেলেন না। তার আগেই ভাতিজা বলেন, ‘দুরবার আলী খোন্দকার সাব এবার আমাগো এলাকা থিকা দাঁড়াইতেছেন। গার্মেন্টস আছে পাঁচটা। আপনার দোয়া চাইছেন। চাচির নামে কয়েকজন ফকির খাওয়াইয়া দিয়েন।’ বলেই পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা বান্ডিল বের করে চাচার হাতে দিলেন। ভাতিজার সময় নেই। আটটা মোটরসাইকেল একসঙ্গে স্টার্ট দিয়ে দ্রুত চলে গেলেন।
চাচা গুনে দেখেন যে পাঁচ শ টাকার তিরিশখানা নোট। ভাতিজাদের দেখে প্রথম মনে যে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল, তা মুহূর্তে কেটে যায়। মনে হয়, ছেলেগুলা খুব ভালো। দুরবার আলী সাবকে আগে চোখে না দেখলেও চাচার মনে হয়, লোকটা ভালো। মানুষটার দিল আছে। চার বছর পর কি আর ফকির খাওয়াবে! বাঁচা থাকতে কম জ্বালায় নাই। চাচা ওই দিন বাজারে যান একটু আগেই। চোরের বিলের তাজা চিতল একটা পেয়ে যান ভাগ্যক্রমে। আঠার শ পঞ্চাশ টাকা দিয়ে কেনেন। রাতে চিতলের পেটিটি পাতে নিয়ে তিন ছেলে আর ছেলের বউদের বলেন, ‘দুরবার আলী সাব খাড়াইতেছে। তার দিলডা অনেক বড়। ভোটগুলা তারেই দেওন লাগব।’
মেজো ছেলেটা কলেজে পড়েছে কিছুদিন। বলে, ‘কোন দুরবার আলী? হে তো দুইবার জেলে গেছে। একবার এক রেপ কেসে ছয় দিন হাজতে ছিল। তারপর এক মার্ডার কেসে গ্রেপ্তার হইয়া এখন জামিনে আছে।’
কুশিকাটার সমান চিতলের পেটির কাঁটাগুলো চুষতে চুষতে চাচা খেঁকিয়ে ওঠেন, ‘রাখ তোর রেপ কেস আর মার্টার কেস! তার মতো একটা কামের লোক আমাগো এলাকার এমপি হইলে কত সুবিধা।’
গণতন্ত্র শুধু নেতাদের বিষয় নয়, প্রার্থীর বিষয় নয়, ক্যাডারদের কর্ম নয়—জনগণেরও বিষয়। খুব সৎ আর খুব অসৎ প্রার্থীর মধ্যে কাকে বেছে নেবেন, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ভোটারদের। যেমন জনগণ, তেমন প্রার্থীই ‘বিপুল ভোটে’ নির্বাচিত হয়ে থাকেন। খুব খারাপ সংসদের জন্য দায়দায়িত্ব কি জনগণের ওপর বর্তায় না? সামান্য কিছু টাকা, এক প্যাকেট মিষ্টি, একটি লুঙ্গি, একখানা শাড়ি যেখানে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে, সে দেশের পার্লামেন্ট উত্তম আইনসভা কীভাবে হবে? জনগণ যতক্ষণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্র একটি পণ্য হয়েই থাকবে। বিত্তবান ও ক্ষমতাবানেরা গণতন্ত্রকে ব্যবহার করবে নিজেদের ভাগ্য গড়ার উপায় হিসেবে। সেই গণতন্ত্র গণমানুষের গণতন্ত্র নয়, রাজনীতিকদের গণতন্ত্র। বহু বছর যাবৎ আমরা গণতন্ত্রের নামে যে ব্যবস্থায় রয়েছি, তা গণতন্ত্র নয়, রাজনীতিকতন্ত্র: মি. লিংকনের ভাষায় অনুকরণ করে ইংরেজিতে বলা যায়, গভর্নমেন্ট অব দ্য পলিটিশিয়ান, বাই দ্য পলিটিশিয়ান অ্যান্ড ফর দ্য পলিটিশিয়ান। গণতন্ত্রের একটা আদল দিতে জনগণকে শুধু ব্যবহার করা হচ্ছে এবং জনগণও তাৎক্ষণিক ক্ষুদ্র প্রাপ্তিতেই সন্তুষ্ট। দুর্নীতি শুধু পদ্মা সেতুতে হয় না, নির্বাচনের দিন দুর্নীতি ভোটারদের অনেকেই করেন।
একটি অরণ্য আপনাআপনি গড়ে ওঠে। একটি রাষ্ট্র আপনাআপনি গড়ে ওঠার জিনিস নয়। তাকে গড়ে তুলতে হয়। কোনো কিছু ভালোমতো গড়ে তুলতে হলে তার জন্য কিছু মানুুষকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ষাটের দশকে আমাদের কিছু নেতা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন বলেই একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হতে পেরেছিল এবং আমরা একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলাম। কোনো কিছু প্রতিষ্ঠা করা পর্যন্ত একটি পর্যায়, তা ভালোভাবে গড়ে তোলা আরেকটি পর্যায়। এবং এই পর্যায়ের কাজ অতি কঠিন।
কোনো রাষ্ট্রে নিচের থেকে ওপর পর্যন্ত দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা না থাকলে সে রাষ্ট্র কোনো কার্যকর রাষ্ট্র নয়। রাষ্ট্রের পার্লামেন্ট সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ভেতর দিয়ে বছরের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়াই রীতি। রাষ্ট্রপতির ভাষণটি সরকারের কর্মকর্তারা লিখে দেন। তবে তাঁর বক্তব্যের সুরটা থাকে অভিভাবকের। ’৭৩ সাল থেকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পাই। এগুলো জাতীয় অনুষ্ঠান। এর মর্যাদা আলাদা। আমি সব সময়ই উপস্থিত থাকি। স্পিকারের পক্ষ থেকে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আমন্ত্রণ জানান। এবার আমার আমন্ত্রণপত্রটি যখন আমার বাড়িতে পৌঁছায়, তখন রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দিচ্ছিলেন। সুতরাং, উপস্থিত থাকতে পারিনি। আজকাল বহু সরকারি অফিসের আমন্ত্রণপত্র পাই অনুষ্ঠান হয়ে যাওয়ার দু-এক দিন পর। এটা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের দক্ষতার একটি দৃষ্টান্ত।
একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান সাহেব বিরোধী দল ও সরকারি দলসহ দলমত-নির্বিশেষে সবাইকেই উপদেশ ও পরামর্শ দিতে পারেন, সমালোচনা করতে পারেন। তাঁর কথার মূল্য দেওয়া সরকারি দল ও বিরোধী দলের কর্তব্য। বিএনপি-জামায়াত সরকারের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির ব্যর্থতার কথা বলেছেন। তাঁর এই বক্তব্যে দ্বিমত নেই কারও। কিন্তু সরকারের বহু আলোচিত ও প্রকাণ্ড সব ভুলের যদি সমালোচনা থাকত, তাহলে জনগণের মনে আস্থার সৃষ্টি হতো। মানুষ মনে করত আমাদের একজন মুরব্বি আছেন, যিনি সরকারকেও ছাড়েন না।
বর্তমান সংসদের এটাই শেষ বছর। তাই সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা শোনা যাচ্ছে। সরকারি দল নির্বাচনী সভা-সমাবেশও করছে এবং নেতারা দলের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন। আর একটিবার অন্তত দেশের সেবা করার সুযোগ দিতে জনগণকে অনুরোধ করছেন এবং এ কথাও বলছেন, নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে। বিরোধী দল চাইছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাতে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থার আশঙ্কা করছে মানুষ। গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্যটা মানুষ দেখল না।
আমরা দুই দশক যাবৎ দেখছি, নির্বাচিত সরকারের সময়ও ক্ষমতা প্রয়োগে অংশীদারি নেই। বিভিন্ন মতামতের সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। সব ক্ষমতা ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা কোনো ব্যক্তির অধিকার নয়, সাময়িক দায়িত্ব পালনমাত্র। রাষ্ট্রের ক্ষমতা যদি ব্যক্তিবিশেষের হাতে সঞ্চিত হয়, তাতে তিনি নিজেও কাজের চাপে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। বিভিন্ন ব্যাপারে তাঁকে অতিরিক্ত চিন্তা করতে হয়। অতিরিক্ত চিন্তা ও অত্যধিক কাজের চাপে অনেক ক্ষেত্রে তাঁর ভুল হওয়া স্বাভাবিক। সেই ভুলের দায় শেষ পর্যন্ত আর কেউ নেন না। তা ছাড়া ক্ষমতাসর্বস্বতা গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়; বরং তা সরকার বা শাসককে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। কোনো রাজনৈতিক দল যদি সমাজের সাধারণ মানুষের চিন্তাচেতনা ও আবেগ-অনুভূতির বিরুদ্ধে চলে যায়, জাতীয় চেতনার বিপরীতে অবস্থান নেয়, তা সাময়িক যতই দাপট দেখাক, একসময় দুর্বল হয়ে পড়ে। এতটাই দুর্বল হয়, যার দৃষ্টান্ত মুসলিম লীগ—বাংলাদেশে ও পাকিস্তানে।
আমাদের দেশে বহু কালের পুরোনো ধর্মীয় আদর্শ বাস্তবায়নের একটা অপতৎপরতা অনেক দিন থেকেই রয়েছে। এটা খুবই নিম্নমানের শুধু নয়, ক্ষতিকর রাজনৈতিক আদর্শ। ধর্মের আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক তাৎপর্যকে মূল্য দেওয়া যায়, তার রাজনৈতিক দিককে নয়। ধর্মের আদি শিক্ষায় পবিত্রতা রয়েছে। কিন্তু ধর্ম কোনো সৃষ্টিশীল বিষয় নয়। একটি অনড় ও অপরিবর্তনীয় বিষয়। অন্যদিকে রাজনীতি একটি সৃষ্টিশীল জিনিস। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি খুব বেশি উগ্র হলে তা জঙ্গিবাদে পরিণত হয়। যে লক্ষ্যেই করা হোক, কোনো সমস্যারই জঙ্গিবাদ সমাধান নয়। অনেক সময় অনেকে ভুল করেন, বিপ্লবী রাজনীতি ও জঙ্গিবাদকে এক করে দেখেন। এই দুটি দুই জিনিস।
কোনো সরকার যখন স্বেচ্ছাচারী হয়ে অতিরিক্ত শক্তি প্রদর্শন করতে থাকে, তখন তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দুভাবে হতে পারে। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন অথবা অনিয়মতান্ত্রিক গোপন তৎপরতা। অনিয়মতান্ত্রিক গোপন তৎপরতা, তা যে নামেই হোক, যে আদর্শ বাস্তবায়নের জন্যই হোক, নৈরাজ্যের দিকে গেলে সমাজ বিপর্যস্ত হয়। সমাজে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরিণামে জনগণের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। হতাশাগ্রস্ত জাতি সৃষ্টিশীল হয় না। জীবন্মৃত হয়ে টিকে থাকে। ওই জনগণকে দিয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। সুতরাং, রাজনীতি যাতে নিয়মতান্ত্রিকতার বাইরে চলে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখা দরকার।
সরকারের কোনো ভুল নীতির কারণে, সরকারের অসংগত আচার-আচরণে যদি জনগণ তাদের সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক অধিকার হারায়, তাহলে গণ-অসন্তোষ দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। গণ-অসন্তোষ থেকে গণবিস্ফোরণ পর্যন্ত হতে পারে। উনসত্তরে পাকিস্তানে, নব্বইতে বাংলাদেশে এবং সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে তা দেখা গেছে। গণবিস্ফোরণ মানেই যে ভালো কিছু, তা নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সত্য। কোনো গণবিস্ফোরণের দার্শনিক ভিত্তি ও যোগ্য নেতৃত্ব না থাকলে তা সমাজকে বরং তছনছ করে দেয়। সুতরাং, যেকোনো সরকারের নীতিনির্ধারকদের উচিত, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে, গণ-অসন্তোষ না দেখা দেয়, সেদিকে নজর রাখা। গণবিস্ফোরণ কারও নেতৃত্বে বলে-কয়ে হয় না। হঠাৎ কেউ সুবিধা নেয়।
বিরোধী দল নির্দলীয় সরকারের জন্য আন্দোলন করছে। সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোনোটাই দোষের নয়। কিন্তু দুই পক্ষকেই চূড়ান্ত পর্যায়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছতে হবে তাদের নিজেদের স্বার্থেই। এক পক্ষের ক্ষতি করে আরেক পক্ষ শান্তিতে বাস করতে পারবে না। স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের গুরুত্ব কোথায়, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার গৌরব যে কত বিরাট, তা বোঝার শক্তি যদি রাজনৈতিক নেতাদের না থাকে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন হওয়াই স্বাভাবিক। জনগণ অনেক কিছুই বোঝে। কিন্তু অসংগঠিত ও নেতৃত্বহীন মানুষের কোনো মূল্য নেই। পুরোনো নেতৃত্বের ভেতর থেকে কেউ হোন, নতুন নেতৃত্ব হোন, কাউকে না কাউকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সময়ের দাবি পূরণ করতেই হবে। নেতারা সোনা ফেলে আঁচলে গেরো দেবেন, তা আমাদের কাম্য নয়।
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments