তিন ঘণ্টার মধ্যে ভোট গ্রহণ শেষ পর্যায়ে!


মোর্শেদ নোমান ও জহুরুল ইসলাম, বরিশাল থেকে | আপডেট: ১২:০৬, মার্চ ২৩, ২০১৪
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাচনে আজ রোববার আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী চার প্রার্থী। তাঁরা নির্বাচন স্থগিত ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবাদে আগামীকাল উপজেলায় অর্ধদিবস হরতালের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী। এদিকে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোট শুরুর তিন ঘণ্টার মধ্যে উপজেলার অধিকাংশ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
আধা ঘণ্টায় ১৮০০ ভোট
আজ সকালে উপজেলা সদরের আগৈলঝাড়া বিএইচপি একাডেমি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী গোলাম মোর্তুজা খানের সমর্থকেরা ব্যালট পেপারে সিল মেরে তা বাক্সে ভরছেন। এ সময় পোলিং অফিসারদের অনেকটা অসহায়ের মতো ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বকতিয়ার উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রের নয়টি বুথের প্রতিটিতে ২০০টি করে ব্যালট পেপার পোলিং অফিসারদের সরবরাহ করা হয়েছে। ভোট শুরু হওয়ার পর প্রথম আধা ঘণ্টায় সব ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে। কেন্দ্রটির মোট ভোট দুই হাজার ৮৭৮টি। প্রথম আধা ঘণ্টায় ব্যালট বাক্সে ভোট ঢুকেছে এক হাজার ৮০০টি।
ভোট গ্রহণ শেষ পর্যায়ে
উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের কাঠিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে নয়টায় গিয়ে দেখা গেছে, কেন্দ্রের এক হাজার ২৬১ ভোটের মধ্যে ৮৫০ ভোট দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নয়টা ৪৫ মিনিটে গিয়ে দেখা গেছে, কেন্দ্রের চার হাজার ৫১৪ ভোটের মধ্যে তিন হাজারেরও বেশি ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।
নাগার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নগরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আগৈলঝাড়া এস এম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গৈলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার বেশির ভাগ কেন্দ্রে একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রি প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে থেকেই আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আনারস প্রতীকের সমর্থকেরা বলেছেন, যাঁর যা-ই সমর্থন থাকুন না কেন, সকাল ১০টার  মধ্যে ভোট গ্রহণ শেষ হবে। আনারস প্রতীকের প্রার্থীই জয়ী হবেন। সেই ঘটনাই সত্যি হলো।’
নির্বাচন স্থগিত ও পুনর্নির্বাচনের দাবি
কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি, এজেন্টদের জোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এস এম আফজাল হোসেন সকাল ১০টায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন স্থগিত ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। ভোট স্থগিত ও পুনর্নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা দিয়েছেন তিনি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার জানিয়েছেন, আফজাল হোসেনের আবেদনটি শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
অনিয়মের অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গিয়াসউদ্দিন খান এবং ইসলামী আন্দোলনের রফিকুন্নবী ভাট্টি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন স্থগিত ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রিও নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপি, জোর করে ভোট দানে বিরত রাখা, কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে। তিনি জানিয়েছেন, সব কেন্দ্রের ভোট স্থগিত ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা দিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে যান চলাচল সীমিত থাকার কথা থাকলেও উপজেলার সড়কগুলোতে মোটরসাইকেল মহড়া দিতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিশ্চুপ থাকতে দেখা গেছে।
অর্ধদিবস হরতাল
কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি, এজেন্টদের জোর করে কেন্দ্রে থেকে বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগ এনে আগামীকাল আগৈলঝাড়ায় অর্ধদিবস হরতালের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এস এম আফজাল হোসেন। আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন তিনি।
আগে থেকেই আশঙ্কা
আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী পাঁচজন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা খান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রি, গিয়াসউদ্দিন খান, বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এস এম আফজাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলনের রফিকুন্নবী ভাট্টি।
উপজেলা নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে আগেই শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সেখানকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। সরকারি দল আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে তাঁদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে সরকারি দল ও প্রশাসন এসব অভিযোগ নাকচ করে।
গতকাল এলাকার ২০-২৫ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী গোলাম মোর্তুজা খান দীর্ঘদিন এলাকায় না থাকায় ভোটারদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তার পরও দলের সমর্থন পান তিনি। আর সমর্থন চেয়েও ব্যর্থ হন যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রি। এ এলাকার প্রায় ৯৯ হাজার ভোটারের মধ্যে ৫৪ হাজারের মতো ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। দলীয় পরিচয়ের বাইরেও এ সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক ভোট যতীন্দ্রনাথের পক্ষে যেতে পারে বলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দিন থেকেই যতীন্দ্রনাথ তাঁর সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। 
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য নীলকান্ত বেপারী তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
গতকাল শনিবার বরিশাল শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রিও তাঁকে (যতীন্দ্রনাথ) হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, সরকারি দল-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষ হয়ে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও করেছেন। 
অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়