লক্ষ্মীপুরে চলছে ভোট জালিয়াতির মচ্ছব

Prothom Alo

মোর্শেদ নোমান, লক্ষ্মীপুর থেকে | আপডেট: ১৫:৪৩, মার্চ ৩১, ২০১৪
 
পঞ্চম দফা উপজেলা নির্বাচনে আজ সোমবার লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলায় জালিয়াতির মধ্য দিয়ে ভোট নেওয়া চলছে। বেলা দুইটার মধ্যেই প্রায় সব কেন্দ্রে ভোট নেওয়া শেষ হয়েছে।
আওয়ামী-সমর্থিত প্রার্থী পৌর মেয়র আবু তাহেরপুত্র এ কে এম সালাউদ্দিন টিপুর সমর্থকেরা কেন্দ্র দখল করে ভোট জালিয়াতি করছেন। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই দখলের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কোনো এজেন্টকে কোথাও দেখা যায়নি। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা সহিংসতার মাধ্যমে ভোট জালিয়াতি প্রতিরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতায় তাঁরা ব্যর্থ হন। প্রশাসনকেও তাহেরপুত্র টিপুর পক্ষে নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব ও সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সরকারি দল-সমর্থিত প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা সেখানে ভোটারদের তাঁদের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক ভোটার। তবে এ বিষয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যদের তত্পর হতে দেখা যায়নি।
সদরের আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ভোটারদের শুধু ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট দেওয়া হচ্ছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট রেখে দিচ্ছেন সরকারি দলের এজেন্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে লক্ষ্মীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার শেখ শরিফুল ইসলাম পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘তারা আপনাদের কাছে কেন অভিযোগ করে? আমাদের কাছে কেন করে না?’
বেলা ১১টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির কথা জেলা প্রশাসক এ কে এম টিপু সুলতানকে জানানো হলে তিনি ওই কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। সেখানে কেন্দ্রের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি জানতে চান, ভোট কেমন হচ্ছে। তাঁরা ভোট ভালো হচ্ছে জানালে তিনি ওই কেন্দ্র থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় সংবাদকর্মীদের কাছে সহযোগিতা চান জেলা প্রশাসক।
সকাল নয়টার দিকে মটবী কেন্দ্রে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সরকার-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে সিল মারেন স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা।
দুপুর ১২টার দিকে কফিলউদ্দিন ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে সরকারি দল সমর্থকদের ভোট জালিয়াতি প্রতিরোধ করতে সশস্ত্র অবস্থায় কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করে বিএনপি-সমর্থক জিসান বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তাঁরা ককটেল ও পেট্রলবোমা ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। জবাবে পুলিশ ৫০টির বেশি গুলি ছোড়ে বলে জানান ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র।
পরবর্তী সময়ে পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স, বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মাহমুদুল হক দীপু ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দিন বকুল।
সূত্র প্রথম আলো

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়