শিক্ষিকার অপসারণসহ ৭ দফা দাবি আদায়ে কর্মসূচিতে যাচ্ছে অভিভাবকরা


স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষার্থীদের জামার হাতা ন্যূনতম ৭ ইঞ্চি রাখা, বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপালের পদত্যাগ, হাতাকাটার সঙ্গে জড়িত শিক্ষিকা মাহবুবা খানম কল্পনার অপসারণসহ ৭ দফা দাবি আদায়ে লাগাতার কর্মসূচিত যাচ্ছে রাজধানীর উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা। আগামীকাল শনিবার মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে এই লাগাতার কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে র‌্যালি, বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবেন অভিভাবকরা।
এসব কর্মসূচিগুলোতে অভিভাবকরা মুখে কালো ব্যাচ ধারণ করবেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে উদয়ন অভিভাবক পরিষদের শীর্ষনেতারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ৭ দফা দাবি আদায়ে ৩ হাজার অভিভাবকের স্বাক্ষর অভিযান চলছে। শনিবারই এই স্বাক্ষরসহ একটি স্মারকলিপি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিকী এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
অভিভাবকদের দাবি, ১ জুনের মধ্যে মানা না হলে পরের দিন থেকে উদয়ন অভিভাবক পরিষদ আরো কঠোর আন্দোলনে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপালের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে উম্মে সালেমা বেগম একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। তার নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ফলপ্রসূ হয়নি।
তারা বলেন, সালেমা ম্যাডামের প্রশ্রয়ে মাহবুবা খানম ইচ্ছেমতো শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেন, যার সর্বশেষ নমুনা জোর করে শিক্ষার্থীদের জামার হাতা কেটে দেয়া।
অভিভাবকরা বলেন, প্রিন্সিপাল এই বিদ্যালয়ের আগে আরো ৮টি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে তিনি একইভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
জানা গেছে, নতুন দায়িত্বে এসেই সালেমা বেগম বছরের শুরুতে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফি ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার করেন। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। তখন উদয়ন অভিভাবক পরিষদ ৬ পৃষ্ঠায় ১৫শ’ অভিভাবকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রিন্সিপালের কাছে জমা দেন। কিন্তু প্রিন্সিপাল শুধু প্রথম পৃষ্ঠার ১৩  জন অভিভাবকের স্বাক্ষর রেখে বাকি পৃষ্ঠাগুলো লুকিয়ে ফেলেন।
পরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে তা উপস্থাপন করেন এবং ওই ১৩ জনের কথা উলে¬খ করে প্রিন্সিপাল তাদের নামে অভিযোগ করে বলেন, এই ১৩ জন অভিভাবক আমাকে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে সমস্যা করছেন।
এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস সকাল ৭টা থেকে পরিবর্তন করে ১২টায় আনা হয়েছিল। এটিও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের জন্ম দেয়। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের সিলেবাস জানুয়ারি মাসে দেয়ার কথা থাকলেও তা এই বছর এপ্রিল মাসে দেয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগে সিলেবাস শেষ করতে অনেক কষ্ট হয়েছে।
উল্লে¬খ্য, গত ২২ মে উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা খানম কল্পনা শ্রেণিকক্ষে ঢুকে জোর করে ফুল হাতা কামিজের হাতা কাঁচি দিয়ে কেটে দিতে থাকেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় অনুশাসনের কথা বললে চটে যান মাহবুবা খানম। তিনি বলেন, কিসের পর্দা। আগে নিয়ম। তোমরা নিয়ম মানতেই বাধ্য।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়