৫৬ গাছের লিচুর মূল্য ৮ লাখ টাকা : এক বছরে ফরিদের ভাগ্য বদল


ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতা : লাল রংয়ের লিচুতে ভরে আছে গাছগুলো। পাতার মধ্যে থোকায় থোকায় শুধুই লিচু। মাত্র ৫৬টি গাছের লিচুর দাম হয়েছে ৮ লাখ টাকা। প্রতিটি গাছের লিচুর মূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এই অবস্থা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফরিদ উদ্দিনের লিচু বাগানে। তিনি আর কিছু বেশি দামে বিক্রির আশা করছেন। ২০০২ সালে করা বাগানে মাত্র ১১ বছর বয়সের গাছগুলোয় এই পরিমাণ লিচু এসেছে। গত তিন বছর তিনি লিচু পেলেও সেটা ছিল খুবই কম। এবার লিচুতে ভরে গেছে তার বাগান। দেখলেই মন ভরে যায়। ফরিদ উদ্দিন উপজেলার চাপালী গ্রামের বাসিন্দা। যাকে সকলেই ফরিদ মাস্তান বলে চেনেন। এক সময় যার দাপট ছিল গোটা উপজেলায়। ফরিদ উদ্দিন জানান, তিনি ১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। এরপর রাজনীতি ও রাজনীতির বাইরে অনেক হঠকারী কাজের সাথে জড়িত থেকেছেন। ৪ বার জেল খেটেছেন। সর্বশেষ ২০০২ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে অস্ত্র মামলায় কারাগারে যান। সেই মামলায় তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। 
ফরিদ উদ্দিন জানান, রাজনীতি চলে গেছে ব্যবসায়ীদের দখলে। সঠিক রাজনীতির পরিবেশ খুব কম। আর হঠকারী কাজ করে মাস্তান উপাধি নিয়ে কেউ ভালো হতে পারেনি। যে কারণে ২০০১ সালের পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন কৃষি কাজে নিজেকে জড়িত করবেন। গড়ে তুলবেন ফলজ-বনজ বাগান। সেই চিন্তা থেকে ২০০২ সালের প্রথমদিকে এক একর জমিতে ৭২টি লিচু গাছের চারা রোপণ করেন। কিন্তু রোপণের পরই তাকে চলে যেতে হয় কারাগারে। সেখান থেকে ৫ বছর পর ফিরে এসে দেখেন ৫৬টি গাছ ভালো আছে, বাকিগুলো গরু-ছাগলে খেয়ে গেছে। তিনি কারাগার থেকে ফিরে এসে ওই ১৬টি গাছ আবারো রোপণ করেন। বেঁচে থাকা গাছগুলো পরিচর্জা করতে থাকেন। সেই সাথে গড়ে তোলেন কলার বাগান, মেহগনি বাগানসহ নানা ফলজ ও বনজ বাগান। এভাবে একটি সময় আসে তার বাগানে লিচু আসতে শুরু করে। ২০১০ সালে তিনি ওই ৫৬টি গাছে আসা লিচু ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এর পরের বছর ৮০ হাজার, তারপরের বছর ১ লাখ ২০ হাজার টাকার লিচু বিক্রি করেন। সর্বশেষ চলতি মৌসুমে ওই ৫৬টি গাছের লিচুর দাম হয়েছে ৮ লাখ টাকা। ব্যাপারীরা গাছ থেকেই লিচু কেনার জন্য এই দাম হেকেছেন। ঝিনাইদহ শহরের লিচু ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম এই মূল্যে লিচু কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। নজরুল ইসলাম জানান, গাছগুলোতে এতো লিচু এসেছে যে ওই মূল্যে কেনার পরও তিনি বিক্রি করে লাভবান হবেন। ফরিদ উদ্দিন আরো জানান, নানাভাবে জীবনের অনেক সময় পার করেছেন। এখন কৃষিতে সফলতা আনতে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি আরো ৪ জনের বাগান তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন। তার বাগান দেখে এবার আরো অনেকে বাগান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। 

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়