৫৬ গাছের লিচুর মূল্য ৮ লাখ টাকা : এক বছরে ফরিদের ভাগ্য বদল
ফরিদ উদ্দিন জানান, রাজনীতি চলে গেছে ব্যবসায়ীদের দখলে। সঠিক রাজনীতির পরিবেশ খুব কম। আর হঠকারী কাজ করে মাস্তান উপাধি নিয়ে কেউ ভালো হতে পারেনি। যে কারণে ২০০১ সালের পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন কৃষি কাজে নিজেকে জড়িত করবেন। গড়ে তুলবেন ফলজ-বনজ বাগান। সেই চিন্তা থেকে ২০০২ সালের প্রথমদিকে এক একর জমিতে ৭২টি লিচু গাছের চারা রোপণ করেন। কিন্তু রোপণের পরই তাকে চলে যেতে হয় কারাগারে। সেখান থেকে ৫ বছর পর ফিরে এসে দেখেন ৫৬টি গাছ ভালো আছে, বাকিগুলো গরু-ছাগলে খেয়ে গেছে। তিনি কারাগার থেকে ফিরে এসে ওই ১৬টি গাছ আবারো রোপণ করেন। বেঁচে থাকা গাছগুলো পরিচর্জা করতে থাকেন। সেই সাথে গড়ে তোলেন কলার বাগান, মেহগনি বাগানসহ নানা ফলজ ও বনজ বাগান। এভাবে একটি সময় আসে তার বাগানে লিচু আসতে শুরু করে। ২০১০ সালে তিনি ওই ৫৬টি গাছে আসা লিচু ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এর পরের বছর ৮০ হাজার, তারপরের বছর ১ লাখ ২০ হাজার টাকার লিচু বিক্রি করেন। সর্বশেষ চলতি মৌসুমে ওই ৫৬টি গাছের লিচুর দাম হয়েছে ৮ লাখ টাকা। ব্যাপারীরা গাছ থেকেই লিচু কেনার জন্য এই দাম হেকেছেন। ঝিনাইদহ শহরের লিচু ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম এই মূল্যে লিচু কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। নজরুল ইসলাম জানান, গাছগুলোতে এতো লিচু এসেছে যে ওই মূল্যে কেনার পরও তিনি বিক্রি করে লাভবান হবেন। ফরিদ উদ্দিন আরো জানান, নানাভাবে জীবনের অনেক সময় পার করেছেন। এখন কৃষিতে সফলতা আনতে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি আরো ৪ জনের বাগান তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন। তার বাগান দেখে এবার আরো অনেকে বাগান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
Comments