ভারতে শিশুসৈনিক ব্যবহার বাড়ছে



এডিটিভি
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»
ভারতে শিশুদের সৈনিক হিসেবে ব্যবহারের ধারা কার্যত বেড়েই চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্রোহীরা ব্যাপকহারে শিশুদের ব্যবহার করছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রও কখনও কখনও তাদের কাজে লাগাচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য মনিপুর থেকে গত বছরের এপ্রিলে তিন ‘টিএনএজার’কে অপহরণ করা হয়। পরিবারের ধারণা, আত্মগোপনে থাকা কোনো চরমপন্থী গোষ্ঠী তাদের অপহরণ করেছে। তিন টিএনএজারের বাবা-মা এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগও করেছেন। কিন্তু অপহৃতদের কোনো সন্ধান আজও পাওয়া যায়নি। কোনো রকম চিহ্ন ছাড়াই হারিয়ে গেছে এ তিনটি প্রাণ। মনিপুর রাজ্যে অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের এভাবে হারিয়ে যাওয়া এখন আর অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। আর এভাবে হারিয়ে যাওয়াদের মধ্যে যাদের সন্ধান পরে পাওয়া গেছে, তাদের অধিকাংশই ছিল সৈনিকের বেশে। শুধু মনিপুর নয়, উড়িষ্যাতেও শিশু সৈনিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত বছর উড়িষ্যার পুলিশের কাছে অস্ত্রসমপর্ণ করে পাঁচ কিশোরী। ২০০৮ সালে মাওবাদীরা তাদের অপহরণ করেছিল। আত্মসমর্পণ করা এই পাঁচ কিশোরীর একজন শান্তি শয়। তিনি বলেন, ‘আমি শুরুতে অস্ত্র বহন এবং আক্রমণের প্রশিক্ষণ পাই। এরপর তারা আমাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেয়। আমি কয়েকটি আক্রমণেও অংশ নিয়েছি।’ সম্প্রতি এশিয়া সেন্টার পর হিউম্যান রাইটস (এসিএইচআর) ‘ভারতের শিশুযোদ্ধারা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে ভারতে শিশু সৈনিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চরমপন্থী গোষ্ঠী ছাড়াও সরকারের দিকেও আঙুল তোলা হয়েছে। এসিএইচআরের পরিচালক সুহাশ চাকমা এ বিষয়ে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘কমপক্ষে তিন হাজার শিশুর বিষয়ে আমরা জেনেছি, যাদের ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং জম্মু-কাশ্মীর থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী অপহরণ করেছে। অধিকাংশ অপহৃত শিশুকে মাওবাদীরা সৈনিক হিসেবে ছয়টি রাজ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে।’
চাকমা জানান, শিশুদের সৈনিক হিসেবে ব্যবহারের এ বিষয়টি ভারত সরকার জানে। কেননা শত শত শিশু সৈনিক অন্য কেউ নয়, খোদ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের সামনে আত্মসমর্পণ করেছে। এসিএইচআরের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সী শত শত শিশুকে ‘আজ্ঞাবাহক’ হিসেবে নিয়োগ করেছে মধ্য প্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ের পুলিশ। ঝাড়খণ্ডের হিউম্যান রাইটস মুভমেন্ট সংগঠনের মহাসচিব গ্লাডসটন ডুংডুং এ বিষয়ে বলেন, ‘এসব শিশু শুধু শিক্ষার অধিকার থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে না বরং তাদের সেসব বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে যারা সন্ত্রাস প্রতিরোধে লড়াই করছে। ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী অতীতে শিশুদের গুপ্তচর এবং বার্তাবাহক হিসেবে ব্যবহার করেছে।’
ভারত সরকার অবশ্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়