সব সময় আল্লাহকে ডেকেছি: রেশমা
- Get link
- X
- Other Apps
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১৩-০৫-২০১৩
সাভার সিএমএইচে সংবাদ সম্মেলনে রেশমা। ছবি: হাসান রাজা
ওই দিন ছিল বুধবার। আগের দিনই ভবনে ফাটলের খবরে কারখানায় কোনো কাজ হয়নি। বুধবার সকালে কারখানায় গেলেও ওপরে উঠতে চাননি রেশমাসহ অন্য শ্রমিকেরা। তবে মালিকপক্ষের কথায় আশ্বস্ত হয়ে তৃতীয় তলায় কর্মস্থলে গিয়ে দেখেন সহকর্মী শ্রমিকেরা বের হয়ে যাওয়ার জন্য চিত্কার-চেঁচামেচি করছে। এসব দেখে অন্য একজন নারী সহকর্মীর সঙ্গে ভবন থেকে বের হওয়ার জন্য সিঁড়ির কাছাকাছি আসতে না আসতেই ভবনটি ভেঙে পড়ে। মাথায় আঘাত পান রেশমা। এরপর জীবন্ত অবস্থায় কবরের পরিবেশে আটকা ছিলেন, আল্লাহকে ডেকেছেন সব সময়। ১৭তম দিনে গত ১০ মে তাঁকে যখন বের করা হলো, তখন রেশমা ইতিহাস।
উদ্ধারের পর থেকেই রেশমার সঙ্গে কথা বলার জন্য উদগ্রিব ছিল দেশের ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। অবশেষে আজ সোমবার বিকেলে সেই সুযোগ মেলে। দুপুরেই সাভার ক্যান্টমেন্টের মুন্সী আবদুর রউফ ফটকে জমা হয়ে যান অর্ধশতাধিক সংবাদকর্মী। ছিলেন কয়েকজন বিদেশিও। বেলা তিনটার দিকে সাংবাদিকদের নেওয়া হয় সেনানিবাসের ভেতরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল চত্বরে। আরও এক দফা সময় পেছানোর পর শেষ পর্যন্ত বিকেল পাঁচটার কয়েক মিনিট পর নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের দরজা দিয়ে একজন সেবিকাকে একটি হুইলচেয়ার ঠেলে বের করতে দেখা গেল। সেই হুইলচেয়ারে গোলাপি-বেগুনি ম্যাক্সি আর মাথায় পশমি চাদর জড়িয়ে বসা রেশমা। অনেকটা পাথরের মতো নির্জীব। কয়েকবার চোখ বন্ধ করলেন, ঠোঁট কামড়ালেন। রেশমাকে দেখেই ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরাগুলো ক্লিক ক্লিক করে উঠল, তত্পর হয়ে উঠলেন টিভি সাংবাদিকেরা।
রেশমার এক পাশে বসলেন মনোরোগ চিকিত্সক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশফাকুজ্জামান চৌধুরী, আরেক পাশে রেশমার চিকিত্সায় গঠিত বোর্ডের প্রধান কর্নেল আজিজুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন আরও জনা বিশেক সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য।
প্রথমেই মনোরোগ চিকিত্সক আশফাকুজ্জামান বললেন, উদ্ধারের পরপর রেশমা ভীতসন্ত্রস্ত ও বিভ্রান্ত ছিলেন। তাঁর অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে স্পর্শ করলেই ভয়ে কেঁপে উঠত। তাঁকে স্বাভাবিক করার অনেক চেষ্টা হয়েছে। তিনি এখন অনেকটাই সহজ হয়েছেন। আগের চেয়ে অনেক ভালো।
এরপর কর্নেল আজিজুর বলেন, রেশমার শারীরিক অবস্থা ভালো। তিনি এখন নিজের খাবার নিজেই খাচ্ছেন। তাঁর হাতে স্যালাইনের সূচের (আইভি চ্যানেল) মাধ্যমে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে, যাতে তিনি কোনোভাবে সংক্রমিত না হন। অচিরেই তাঁকে আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে নেওয়া হবে।
এরপর রেশমাকে আরও এক দফা সাহস দেন মনোরোগ চিকিত্সক আশফাকুজ্জামান। এরপর কথা বলা শুরু করেন রেশমা। কিন্তু তাঁর স্বর ছিল খুবই নিচু এবং তিনি ধীরে ধীরে কথা বলছিলেন। অনেক সময় কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল।
রেশমার বেঁচে থাকার গল্প
রেশমা বলা শুরু করেন, ‘সকালবেলা কাজ করতে গেছি। শুনছি যে পিলার ফাটছে। আমরা যেতে চাইনি। স্যারেরা বলছে, “কিছু হয়নি। পানির জন্য ওয়াল ফেটে গেছে। তোমরা যার যার জায়গায় গিয়ে কাজ করো।” এর পরে ফ্লোরে উঠে দেখি সবাই চিল্লাইতেছে। না, কাজ করা যাবে না। তখন অনেকেই বের হয়ে যেতে চাইছে। একটা আপু বলল, “রেশমা, তুমি আমার সাথে যাবা, তুমি-আমি একসাথে বের হবো।” আপুর হাত ধরে বের হচ্ছি। তখনই ভবন ভেঙে পড়ে। আর আমার মাথায় পড়ল ইট।
‘আমি অনেকক্ষণ পড়ে ছিলাম। পরে দেখি খুব গরম লাগে। খুব অন্ধকার, কিছুই দেখা যাচ্ছে না। কারা যেন চিল্লাইতেছে। বলতেছে, “রেশমা, রেশমা, পানি দাও।” আমি বললাম, “পানি পাব কোথায়।” কয়েকটা ভাইয়া আছে। বলে, “আপু, আমাদের বাঁচাও।” আমি বলি, “ভাইয়া, ক্যামনে বাঁচাব। আমি নিজেই বাঁচতে পারতাছি না।” একজন বলে, “পানি দাও।” আমি খুঁজলাম, পানি পাই নাই।
‘পরে আমি আস্তে আস্তে শুয়ে শুয়ে নড়াচড়া করতে থাকি। রাস্তা খুঁজতে থাকি। কিছুই দেখা যায় না।’
একটানা কথাগুলো বলে একটু থামলেন রেশমা।
এরপর সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা তাঁর বক্তব্যগুলো স্পষ্টভাবে আরেকবার বলেন। তারপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেশমা বলেন, ‘এখন আমার অনেক ভালো লাগছে।’
ভেঙে পড়ার পরপর কী হয়েছিল, জানতে চাইলে রেশমা বলেন, ‘মাথায় অনেক ব্যথা পাইছি তো। ভেঙে পড়ার পর কখন কী হইল, ঘটনা মনে করতে পারছি না।’
কী খেয়েছিলেন এত দিন, জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি জাস্ট একটু পানি পাইছি, আর চার পিস বিস্কুট। আর কোনো খাবার পাইনি। অনেক খুঁজছি, আর পাইনি।’
তাঁর সঙ্গে আর কেউ ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে অনেকেই ছিল। তারা মারা গেছে। অনেক চিল্লাইছিল ‘বাঁচাও’ ‘বাঁচাও’ করে। আমি চেষ্টা করছি, বের হওয়ার পথ পাইনি।’
একেবারে অন্ধকারে সাহস কোথায় পেলেন, জানতে চাইলে রেশমা বলেন, ‘আমি নিজেও জানি না, এত সাহস কোত্থেকে পেলাম। সবই আল্লাহর ইচ্ছা।’
ভেতরে থাকার সময় কোনো উদ্ধারকর্মীর ডাক শুনেছিলেন কি না, জানতে চাইলে বলেন, ‘কোনো উদ্ধারকর্মীর ডাক শুনিনি। যেদিন বের হয়ে আসছি, সেই দিনই একজনের ডাক শুনতে পাইছি। তবে উদ্ধারকাজের অনেক আওয়াজ পাইছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি শুয়ে ছিলাম।’ হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেন, ‘এক হাতের মতো ওয়াল হবে মাথার ওপর।’
আমি তো মেয়ে, ছেলে না
উদ্ধার পাওয়ার বর্ণনা দিয়ে রেশমা বলেন, ‘তখন আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি ও আলো দেখতে পাচ্ছি। শুনতে পাচ্ছি, এখানে জীবিত লোক আছে। আমি বলছি, “ভাই, আমারে বাঁচাও।” তাঁরা শুনতে পারছে। কিন্তু কাপড়চোপড় তো ছিঁড়ে গেছে। তার পরে আমি ভাবতাছি, যাব, ক্যামনে যাব। আমি তো মেয়ে, ছেলে না। ভাবতাছি, কী করব, কী করব। আপনারা যখন উদ্ধার করেন, তখন একজন একটা টর্চলাইট দিছে। বলছে, “আপু, টর্চ নিয়া ভেতরে যাও।”’ পরের কথা কিছুটা জড়িয়ে যায়।
সেনা কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি শুয়ে শুয়ে চলায় তাঁর জামাকাপড় ছিঁড়ে গিয়েছিল। পরে আলো দেখতে পেয়ে তিনি যখন উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে পারলেন, একজন উদ্ধারকর্মী তাঁকে একটি টর্চ দেয়। সেই টর্চের আলো জ্বালিয়ে তিনি দেখেন তিনি মার্কেটে রয়েছেন। পরে তিনি শুয়ে শুয়েই সেখান থেকে একটি নতুন জামা নিয়ে পরে ফেলেন।
জানতে চাইলে রেশমা বলেন. ‘আর কখনো গার্মেন্টসে কাজ করব না।’ এরপর কী করতে চান, এ প্রশ্নের আর কোনো জবাব দেননি তিনি। প্রশ্নটি শোনার পর আরো বিষণ্ন্ন হয়ে যান রেশমা।
রেশমা জানান, ২০১০ সালের জুন মাসে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসেন রেশমা। চলতি বছরের ২ এপ্রিল, ভবনধসের ২২ দিন আগে, রানা প্লাজার ওই কারখানায় যোগ দেন চার হাজার ৭০০ টাকা মূল বেতনে। কারখানার নামটিও এখন মনে করতে পারেন না।
তিনি বলেন, ‘আমি কখনো কল্পনাই করিনি বের হতে পারব। সব আল্লাহর ইচ্ছা। সব সময় আল্লারে ডাকছি।’
উদ্ধারের পর থেকেই রেশমার সঙ্গে কথা বলার জন্য উদগ্রিব ছিল দেশের ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। অবশেষে আজ সোমবার বিকেলে সেই সুযোগ মেলে। দুপুরেই সাভার ক্যান্টমেন্টের মুন্সী আবদুর রউফ ফটকে জমা হয়ে যান অর্ধশতাধিক সংবাদকর্মী। ছিলেন কয়েকজন বিদেশিও। বেলা তিনটার দিকে সাংবাদিকদের নেওয়া হয় সেনানিবাসের ভেতরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল চত্বরে। আরও এক দফা সময় পেছানোর পর শেষ পর্যন্ত বিকেল পাঁচটার কয়েক মিনিট পর নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের দরজা দিয়ে একজন সেবিকাকে একটি হুইলচেয়ার ঠেলে বের করতে দেখা গেল। সেই হুইলচেয়ারে গোলাপি-বেগুনি ম্যাক্সি আর মাথায় পশমি চাদর জড়িয়ে বসা রেশমা। অনেকটা পাথরের মতো নির্জীব। কয়েকবার চোখ বন্ধ করলেন, ঠোঁট কামড়ালেন। রেশমাকে দেখেই ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরাগুলো ক্লিক ক্লিক করে উঠল, তত্পর হয়ে উঠলেন টিভি সাংবাদিকেরা।
রেশমার এক পাশে বসলেন মনোরোগ চিকিত্সক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশফাকুজ্জামান চৌধুরী, আরেক পাশে রেশমার চিকিত্সায় গঠিত বোর্ডের প্রধান কর্নেল আজিজুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন আরও জনা বিশেক সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য।
প্রথমেই মনোরোগ চিকিত্সক আশফাকুজ্জামান বললেন, উদ্ধারের পরপর রেশমা ভীতসন্ত্রস্ত ও বিভ্রান্ত ছিলেন। তাঁর অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে স্পর্শ করলেই ভয়ে কেঁপে উঠত। তাঁকে স্বাভাবিক করার অনেক চেষ্টা হয়েছে। তিনি এখন অনেকটাই সহজ হয়েছেন। আগের চেয়ে অনেক ভালো।
এরপর কর্নেল আজিজুর বলেন, রেশমার শারীরিক অবস্থা ভালো। তিনি এখন নিজের খাবার নিজেই খাচ্ছেন। তাঁর হাতে স্যালাইনের সূচের (আইভি চ্যানেল) মাধ্যমে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে, যাতে তিনি কোনোভাবে সংক্রমিত না হন। অচিরেই তাঁকে আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে নেওয়া হবে।
এরপর রেশমাকে আরও এক দফা সাহস দেন মনোরোগ চিকিত্সক আশফাকুজ্জামান। এরপর কথা বলা শুরু করেন রেশমা। কিন্তু তাঁর স্বর ছিল খুবই নিচু এবং তিনি ধীরে ধীরে কথা বলছিলেন। অনেক সময় কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল।
রেশমার বেঁচে থাকার গল্প
রেশমা বলা শুরু করেন, ‘সকালবেলা কাজ করতে গেছি। শুনছি যে পিলার ফাটছে। আমরা যেতে চাইনি। স্যারেরা বলছে, “কিছু হয়নি। পানির জন্য ওয়াল ফেটে গেছে। তোমরা যার যার জায়গায় গিয়ে কাজ করো।” এর পরে ফ্লোরে উঠে দেখি সবাই চিল্লাইতেছে। না, কাজ করা যাবে না। তখন অনেকেই বের হয়ে যেতে চাইছে। একটা আপু বলল, “রেশমা, তুমি আমার সাথে যাবা, তুমি-আমি একসাথে বের হবো।” আপুর হাত ধরে বের হচ্ছি। তখনই ভবন ভেঙে পড়ে। আর আমার মাথায় পড়ল ইট।
‘আমি অনেকক্ষণ পড়ে ছিলাম। পরে দেখি খুব গরম লাগে। খুব অন্ধকার, কিছুই দেখা যাচ্ছে না। কারা যেন চিল্লাইতেছে। বলতেছে, “রেশমা, রেশমা, পানি দাও।” আমি বললাম, “পানি পাব কোথায়।” কয়েকটা ভাইয়া আছে। বলে, “আপু, আমাদের বাঁচাও।” আমি বলি, “ভাইয়া, ক্যামনে বাঁচাব। আমি নিজেই বাঁচতে পারতাছি না।” একজন বলে, “পানি দাও।” আমি খুঁজলাম, পানি পাই নাই।
‘পরে আমি আস্তে আস্তে শুয়ে শুয়ে নড়াচড়া করতে থাকি। রাস্তা খুঁজতে থাকি। কিছুই দেখা যায় না।’
একটানা কথাগুলো বলে একটু থামলেন রেশমা।
এরপর সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা তাঁর বক্তব্যগুলো স্পষ্টভাবে আরেকবার বলেন। তারপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেশমা বলেন, ‘এখন আমার অনেক ভালো লাগছে।’
ভেঙে পড়ার পরপর কী হয়েছিল, জানতে চাইলে রেশমা বলেন, ‘মাথায় অনেক ব্যথা পাইছি তো। ভেঙে পড়ার পর কখন কী হইল, ঘটনা মনে করতে পারছি না।’
কী খেয়েছিলেন এত দিন, জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি জাস্ট একটু পানি পাইছি, আর চার পিস বিস্কুট। আর কোনো খাবার পাইনি। অনেক খুঁজছি, আর পাইনি।’
তাঁর সঙ্গে আর কেউ ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে অনেকেই ছিল। তারা মারা গেছে। অনেক চিল্লাইছিল ‘বাঁচাও’ ‘বাঁচাও’ করে। আমি চেষ্টা করছি, বের হওয়ার পথ পাইনি।’
একেবারে অন্ধকারে সাহস কোথায় পেলেন, জানতে চাইলে রেশমা বলেন, ‘আমি নিজেও জানি না, এত সাহস কোত্থেকে পেলাম। সবই আল্লাহর ইচ্ছা।’
ভেতরে থাকার সময় কোনো উদ্ধারকর্মীর ডাক শুনেছিলেন কি না, জানতে চাইলে বলেন, ‘কোনো উদ্ধারকর্মীর ডাক শুনিনি। যেদিন বের হয়ে আসছি, সেই দিনই একজনের ডাক শুনতে পাইছি। তবে উদ্ধারকাজের অনেক আওয়াজ পাইছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি শুয়ে ছিলাম।’ হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেন, ‘এক হাতের মতো ওয়াল হবে মাথার ওপর।’
আমি তো মেয়ে, ছেলে না
উদ্ধার পাওয়ার বর্ণনা দিয়ে রেশমা বলেন, ‘তখন আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি ও আলো দেখতে পাচ্ছি। শুনতে পাচ্ছি, এখানে জীবিত লোক আছে। আমি বলছি, “ভাই, আমারে বাঁচাও।” তাঁরা শুনতে পারছে। কিন্তু কাপড়চোপড় তো ছিঁড়ে গেছে। তার পরে আমি ভাবতাছি, যাব, ক্যামনে যাব। আমি তো মেয়ে, ছেলে না। ভাবতাছি, কী করব, কী করব। আপনারা যখন উদ্ধার করেন, তখন একজন একটা টর্চলাইট দিছে। বলছে, “আপু, টর্চ নিয়া ভেতরে যাও।”’ পরের কথা কিছুটা জড়িয়ে যায়।
সেনা কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি শুয়ে শুয়ে চলায় তাঁর জামাকাপড় ছিঁড়ে গিয়েছিল। পরে আলো দেখতে পেয়ে তিনি যখন উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে পারলেন, একজন উদ্ধারকর্মী তাঁকে একটি টর্চ দেয়। সেই টর্চের আলো জ্বালিয়ে তিনি দেখেন তিনি মার্কেটে রয়েছেন। পরে তিনি শুয়ে শুয়েই সেখান থেকে একটি নতুন জামা নিয়ে পরে ফেলেন।
জানতে চাইলে রেশমা বলেন. ‘আর কখনো গার্মেন্টসে কাজ করব না।’ এরপর কী করতে চান, এ প্রশ্নের আর কোনো জবাব দেননি তিনি। প্রশ্নটি শোনার পর আরো বিষণ্ন্ন হয়ে যান রেশমা।
রেশমা জানান, ২০১০ সালের জুন মাসে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসেন রেশমা। চলতি বছরের ২ এপ্রিল, ভবনধসের ২২ দিন আগে, রানা প্লাজার ওই কারখানায় যোগ দেন চার হাজার ৭০০ টাকা মূল বেতনে। কারখানার নামটিও এখন মনে করতে পারেন না।
তিনি বলেন, ‘আমি কখনো কল্পনাই করিনি বের হতে পারব। সব আল্লাহর ইচ্ছা। সব সময় আল্লারে ডাকছি।’
- Get link
- X
- Other Apps
Comments