ক্যানসারের চিকিৎসায় সামুদ্রিক উদ্ভিদ



ইনকিলাব ডেস্ক : পাকস্থলীর ক্যানসারের চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে অ্যালজি বা সামুদ্রিক উদ্ভিদ। জার্মান গবেষকদের এই উদ্যোগ সফল হলে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে অ্যালজি থেকে ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হবে। প্যানক্রিয়াটিক বা পাকস্থলীর ক্যানসারের এখনো কোনো চিকিৎসা নেই। অ্যালজি এগেইনস্ট ক্যান্সার বা এএসি নামের এক সহযোগিতা প্রকল্পের মাধ্যমে রোগীদের জন্য আশার আলো এনে দেবার চেষ্টা চলছে। সমুদ্রে হাজার হাজার জাতের অ্যালজি আছে। সমুদ্রের নিচের জীবের মধ্যে আরও শক্তিশালী গুণাগুণ পাওয়া যায়, কারণ তাদের সরাসরি শিকারি বা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। ডাঙার উপরের জীবদের সুবিধা হলো, বাতাস অনেকটা বর্মের কাজ করে। এই বায়োটেকনোলজিস্টদের সব অ্যালজি আলাদা করে ধুতে হয়। এই কাজের জন্য বেশ সময় ও পরিশ্রম চাই। বাছাই করা অ্যালজি বিভিন্ন ফিলটারের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রত্যেকটি উপাদানের জন্য চাই আলাদা ফিল্টার। উপাদানগুলিকে এতটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আলাদা করে পরীক্ষা করে দেখা হয়, যাতে তাদের নির্দিষ্ট প্রভাব স্পষ্ট হয়ে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত সামান্য কিছু উপাদান চিহ্নিত করা যায়, যেগুলিকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এর পরের পর্যায়ে পরীক্ষা করে দেখতে হয়, তাদের কতটা কার্যকারিতা রয়েছে। কিল শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের কোষ তৈরি করা হয়। তারপর তার মোকাবিলা করতে অ্যালজি থেকে বের করা উপাদান প্রয়োগ করা হয়। একদিন পরীক্ষামূলক এই ওষুধ সত্যি সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে। সবুজ ও জীবন্ত সব কোষগুলি লাল হয়ে যায়, তারপর মরে যায়। যে সব কোষগুলির মোকাবিলা করতে অ্যালজির উপাদান ব্যবহার করা হয়, গবেষক সেগুলি নীল রং করে দেন। এই তরল গোলাপি হয়ে গেলে বুঝতে হবে, ক্যানসারের কোষ মরে গেছে। রং দেখেই প্রভাব বোঝা যায়। সূত্র : ডয়েচে ভেলে।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়