অভিষেক ও রক্তকরবীর ছায়া
শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল এর গল্প
এখানে আকাশ অনেক গভীর নীল। কথাটা বলে থামল অভিষেক। মনে হল এমনভাবে বলাটা ঠিক হয়নি। আকাশ তো আকাশের মতই হবে। যেখানে মেঘ থাকবে না, সেখানে আকাশ গভীর নীলাভ হবে। এটাই স্বাভাবিক। তবুও মনকে প্রবোধ দেয়ার জন্যে নিজেকে বলল, আকাশ মানেই হল গভীর শূন্যতায় সাজানো গাঢ় নীলের অতলান্ত মিশ্রণ।
অভিষেক স্বপ্নের রথে সারাদিন চড়ে বেড়ায়। সেই স্বপ্নের নির্লোভ খেলায় মেতে থাকতে গিয়ে দেখতে পায় সবকিছুর মধ্যেই বিমূর্ত লোভ বিদ্যমান। সবাই সবটা বোঝে না। কারো কারো বোঝার দরকারও পড়ে না। যারা বোঝে তারা মরে। বিষাদময় কষ্টের সমুদ্রে ভেসে বেড়ায়। কখনো স্থির জীবনের সন্ধান পায় না। সুখের ঠিকানা বার বার বদলে যায়। ভুলে ভরা সমস্ত অতীত বত্রিশ দাঁত বের করে ব্যঙ্গ করে। অভিষেক এই অতীত শব্দটাকে খুবই ভয় পায়। আফ্রিকার জঙ্গলের হিংস্র বাঘ, ভাল্লুকের মত চিবিয়ে খেতে চায় অতীতের প্রতিটা মুহূর্তের কণা। চরম একাকিত্ব গ্রাস করে মরচেপড়া জীবনের বর্তমানকে। ভাবনাগুলো মেতে ওঠে রবীন্দ্রনাথের অদেখা নির্লিপ্ত আনন্দের মত। ভুল গন্তব্যের দিকে ছুটতে গিয়ে স্বপ্নচ্যুত হয় বার বার। যারা তাকে চিনে, জানে, বুঝে তারা তাকে কিছুতেই ঘাটাতে চায় না। সবাই জানে ওর ভিতরে জঘন্য বেপরোয়া বেদনাময় উচ্ছ্বাস ছাড়া আর কিছু নেই।
অভিষেক ভালবাসে। অর্থহীন বেদনার্ত দুঃখ কষ্টকে বুকের ভিতর পোষণ করে। বন্ধু অনিরুদ্ধ বলে, তুই কখনও কাউকে ভালবাসিস না। তোর কাছে কেউ একদিনও থাকতে পারে না। তোর মাঝে প্রেম নেই। ভালবাসা নেই। বুকে কেবল ঘৃণা লালন করিস। সবাইকে মনে করিস তোর কাল্পনিক জমিদারীর প্রজা। তোর মন বলতে কিছু নেই। তোর মনে কেবলই ধ্বংসাত্মক ছলনা।
অভিষেক অনিরুদ্ধের কথার কোন অর্থ খুঁজে পায় না। এসব কথাকে তাই পাত্তাও দিতে চায় না। সে বোঝে তার ধরনটা অন্য দশজনের মত নয়। অন্যরা যেখানে শেষ করে সেখান থেকেই তার শুরু হয়। এবার নিজেকেই প্রশ্নে প্রশ্নে জর্জরিত করতে তোলে। আমি কি নীলাকে ভালবাসিনি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অবরুদ্ধ সময়ের হাত ধরে পৌঁছে যেতে চাইল একটা নির্ভুল উপসংহারে।
খুব ভোরবেলা ঘুম ভেঙেছে আজ। এত ভোরে কখনও তার ঘুম ভাঙে না। ভোরবেলা উঠতেও চায় না। অরুণ আলোর কোমল স্নিগ্ধতায় মনটা নিদারুণ শীতার্ত বিষণœতায় উষ্ণতার আশায় শিশুর মত ক্রন্দন করে। সেই ক্রন্দনে চিৎকার নেই। কখনও অশ্রুপাত নেই। আছে গ্রীষ্মের দাবাদাহ। আছে কষ্টের বিষণœ বিষাদ। সেই কষ্টের অভিসম্পাতে সে অন্য মানুষ হয়ে যায়। বোধশক্তি লোপ পেতে থাকে। শব্দহীন চিৎকারে বলতে থাকে- নীলা, আমি তোমাকে ভালবাসি! ফুল, পাখি, গাছ আমি ভালবাসি! কবিতা, ছড়া, গান আমি ভালবাসি! ওর বিষাদময় কথা শব্দহীন চিৎকারে সীমাহীন শূন্যতায় মিলিয়ে যায়। কেবলই মিলিয়ে যায়। কেউ শুনতে পায় না। ফুল, পাখি, গাছ, গানের সুর, কবিতার শব্দ, ছড়ার ছন্দ কিংবা নীলা, ওরা কেউ তার শব্দহীন চিৎকারের কথাগুলো শুনতে পায় না। পাবেও না কোনদিন।
নিউমার্কেটের দুই নম্বর গেইটের ভিড়ের মধ্যে অভিষেক নীলার হাতটা ধরেছিল বন্ধু অনিরুদ্ধের হাত মনে করে। এমন ভুল তো কোনদিন হয় না। কি হয়েছিল সেদিন বুঝতে পারে না। ইচ্ছে করেই কি নীলার হাত ধরেছিল? না, এমন হতে পারে না। সে তো যা করার সরাসরি করে। কোন ভ-ামী তার মধ্যে নেই।
অনিরুদ্ধ তাচ্ছিল্যের সুরে বলেছিল, বুঝলাম তোর এমন ভুল হয় না। তবে ভুল হল কেন? ঠিক করে বল কেন হল?
অভিষেক অনিরুদ্ধকে জোড়হাত করে বলেছে, বিশ্বাস কর আমি ইচ্ছে করে নীলার হাত ধরিনি। ভুল করে তোর হাত মনে করে ধরেছিলাম।
- তুই কি নীলাকে ভালবাসিস?
- আমি ভালবাসব কি করে? কিভাবে ভালবাসতে হয় তা কি আমি জানি?
- তোর ভিতর প্রেম নেই বলতে চাস?
- আমাকে কে ভালবাসবে? আমি নেতাদের চামচাগিরি করি। ক্যাডার হিসাবে কাজ করি। মারদাঙ্গা করা, মানুষের বুকে পিঠে ছুরি মারা আমার কাজ। একটি সুন্দরী রমণীর লোভনীয় শরীর থেকে ফেন্সিডিলের বোতল আমার কাছে অধিক লোভনীয়। বল কোন পাগলী আমাকে ভালবাসবে?
- তুই তো মূর্খ না। কেন বুঝিস না যেসব নেতা তোকে দিয়ে মারদাঙ্গার কাজ করাচ্ছে, মানুষ খুন করাচ্ছে তারাই একদিন তোকে ছেড়ে চলে যাবে।
- আমি বুঝতে চাই না। বুঝতে গেলে যারা আজ আমাকে নেশার টাকার যোগান দেয়, তারাই আমাকে মেরে ফেলবে।
- এই নেতাদের কাছ থেকে কি মুক্তির কোন উপায় নেই?
- অবশ্যই উপায় আছে।
- উপায়টা কি বল?
- উপায়টা হচ্ছে মরে যাওয়া নতুবা মেরে ফেলা।
শংকর বাসস্ট্যান্ডের একটু সামনে উল্টো দিকে ছায়ানটের কাছে নীলা অভিষেককে ডাক দিল। সে থমকে দাঁড়াল। কালো দানবের মত ভয় তাকে জড়িয়ে ধরল। ভাবল নীলা নিশ্চয়ই তাকে জিজ্ঞেস করবে, আপনি সেদিন ইচ্ছে করেই আমার হাত ধরেছিলেন কেন? এতটা সাহস আপনার আসে কোথা থেকে?
না, নীলা সেদিনের কথা তোলেনি। কাছে এসে মিষ্টি হেসে বলেছে, আপনি নাকি আগে কবিতা লিখতেন?
নীলার কথা শুনে অভিষেক কিছুটা সময় দৃষ্টি মেলে ধরে শ্রাবণের আকাশের কালো মেঘের ছায়ার দিকে। ভাবে এই কালো মেঘের ছায়ার মত তার বিপন্ন জীবন। সেখানে কবিতা আসবে কোথা থেকে। তার বসবাস অন্ধকারের সাথে গলাগলি করে। সেখানে কবিতা আসে না। ঘৃণা আসে। চরম ঘৃণা আপন বন্ধুর মত বসবাস করে। অভিষেক রাস্তার ওপারে বিক্রমপুর মিষ্টির দোকানের সাইনবোর্ডটার দিকে তাকিয়ে বলে, আপনি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন?
নীলা আবার হাসে। বলে, না, আপনার সাথে ঠাট্টা করব কেন? আপনার সাথে কি আমার ঠাট্টার সম্পর্ক?
এবার অভিষেক ভিতরের ভয়টাকে মুছে ফেলে বলে, দেখুন, কবিতা লিখে তারাই যারা সুবোধ বালকের মত জীবন-যাপন করে। আমরা তো সভ্য সমাজের মানুষ না। সেখানে আমাদের মত মানুষের প্রবেশাধিকার নেই। আমাদের কাজ হল বড় বড় নেতাদের ভাড়া খাটা। তাদের হয়ে মাস্তানি করা। আজকাল যাদের একটু সমীহ করে বলা হয় পলিটিক্যাল ক্যাডার। আমরা হলাম সেই পলিটিক্যাল ক্যাডার। ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা। আমরা নেশা করি। আমাদের বুকে কবিতা বাস করবে কি করে?
- এটা তো আপনার অভিমানের কথা।
- আমাদের অভিমান নেই। আমাদের অভিমান থাকলে চলে না। আমরা আপনাদের মত গৃহবাসী মানুষ নই। কখন কোথায় থাকি নিজেরাই বলতে পারি না। তবে হ্যাঁ, আমরা যা বলি সরাসরি বলি। আমাদের কোন ভনিতা নেই। এটা আমার অভিমানের কথা নয়। আমি মাস্তান ক্যাডার মানুষ। কবিতা আমার জন্য নয়। কবিতা হল আপনাদের মতো সুখী মানুষের ড্রয়িং রুমের খাঁচায় বন্দী পাখি।
- না, এখনও আপনি বড় মস্তান কিংবা বড় ক্যাডার যা-ই বলেন না কেন হতে পারেন নি।
- আপনি কি করে বুঝলেন? আপনি কি মাস্তান ক্যাডারদের নিয়ে গবেষণা করেন?
- আপনি ভয়ানক আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ক্যাডার বা মাস্তান হলে আপনার নাম হত কপালকাটা অভিষেক। আপনার কপালে কাটাদাগ আছে। এই দাগ দিয়েই আপনার পরিচয় নির্ধারিত হত। সবচেয়ে বড় কথা আপনি বড় মাস্তান বা ক্যাডার হলে এতদিনে র্যাবের ভোগে চলে যেতেন।
- র্যাবের ভোগে চলে যেতাম মানে! কথাটা বুঝলাম না।
- আপনি পৃথিবীর সব জানা-অজানা বিষয় বুঝেন। এতক্ষণ আমাকে এত জ্ঞান দিলেন। র্যাবের ভোগ কথাটা বুঝলেন না?
- আসলেই আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি না।
- আপনি যদি বড় মাস্তান বা ক্যাডার হতেন, এতদিনে র্যাবের ক্রসফায়ারে চলে যেতেন। ছায়ানটের সামনে দাঁড়িয়ে আমার সাথে কথা বলার ভাগ্য হত না।
অভিষেক হাসল। ওর হাসির রেখায় নিদারুণ কষ্টের পাখিদের অবিরাম আসা-যাওয়া।
অভিষেক পালাবে। কোথায় পালাবে! সামনে আইনের লোকের তাড়া। পিছনে প্রতিপক্ষের ক্যাডাররা এগিয়ে আসছে। সে কোথায় পালাবে? পালাবার পথ নেই। কোন নেতা এখন পাত্তা দেয় না। যারা এতদিন লালন-পালন করত তাদেরই নাকি সময় ভাল না। সে পৃথিবীর কাছাকাছি নেমে আসা জলভরা শ্রাবণের বিবর্ণ আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল, আমি বাঁচতে চাই! আমি ভালবাসতে চাই! যারা আমাকে অস্ত্রধারী ক্যাডার বানিয়েছে, সমাজ-সংসারের ভালবাসা থেকে উৎখাত করেছে তাদের রক্ত পান করতে চাই! আমি আবার কবিতা লিখতে চাই! নীলা নামের সহজ-সরল মেয়েটাকে ভালবাসতে চাই!
তৃষ্ণার্থ হৃদয়ের চিৎকার কেবল শূন্যতায় মিলিয়ে যায়। সে শিশুর মত কান্নায় ভেঙে পড়ে। যেন আকাশ থেকে জলভরা মেঘ ভেঙে পড়ছে বৃষ্টিধারায়। এখন তার অভিমানী নীলার কথা মনে হচ্ছে। নীলার চোখে ভালবাসার আগুন দেখেছিল। সে আগুনে পুড়ে যাবার ভাগ্য তার হয়নি। নষ্টের বাচ্চারা তার ভাগ্যকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বন্দুকের নলের সামনে।
অভিষেক এখন একটা জঙ্গলে ঘেরা ভাঙা পরিত্যক্ত মন্দিরের মেঝেতে শুয়ে আছে। মন্দিরের বর্তমান অবস্থা দেখে বোঝা যায় এখানে কেউ পূজা দিতে আসে না। দরজা-জানালাগুলো ভাঙা। ভিতরের বেদীতে কোন দেবতার মূর্তি নেই। অনেকটা তার ফেলে আসা জীবনের মত বিবর্ণ। অভিষেক আপাতত এই ভাঙাচুরা, পরিত্যক্ত বেদীতে মূর্তিহীন মন্দিরেই আশ্রয় নিল। আজকের রাতটুকু এখানে কোনমতে কাটিয়ে সে ওপারে চলে যাবে। জায়গাটা বাংলাদেশ-ভারতের বর্ডার এরিয়া। ও জানে, ভাল-মন্দ মিলিয়ে সব ধরনের লোক সীমান্তবর্তী এলাকায় বাস করে। আত্মগোপন করতে হলে তাকে ছদ্মবেশ ধরতে হবে। সে গভীর ঘুমে ডুবে থাকতে চায়। কতদিন সে ঘুমায়নি। কিন্তু ঘুম আসছে না। ফেন্সিডিলের বোতল সঙ্গে যা এনেছিল সব শেষ হয়ে গেছে। চোখ বন্ধ করলেই বরুণের মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠে। সহজ-সরল ছেলে ছিল বরুণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়ত। বরুণ গল্প কবিতা লিখত। মার্কস, লেনিন, মাওসেতুং ও চারু মজুমদারকে নিয়ে ঘাটাঘাটি করত। পত্র-পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখত। বরুণকে তাদের দলে ভেড়াবার দায়িত্ব দিয়েছিলেন পার্টির মাঝারি ধরনের নেতা স্বপন ভাই। সে দলে আসেনি। বলত অভিষেক তোর এই রাজনীতি আমার পছন্দ নয়। আমি বিশ্বাসও করি না। অথচ একদিন দেখা যায় বরুণ প্রতিপক্ষের দলে মিশে গিয়ে আত্মগোপণকারী বড় তাত্ত্বিক নেতা হয়ে গেছে। এজন্য স্বপন ভাইয়ের কাছ থেকে সে কম কথা শুনেনি। স্বপন ভাইয়ের চেয়েও বড় নেতা অগ্নিশ্বর ধর বলেছেন, তোমার পিছনে কম পয়সা খরচ করি না। সন্ধ্যা হলে ফেন্সিডিলের বোতল তোমার হাতে ধরাতে হয়। তা না হলে তুমি কাজ করতে পার না। অগ্নিশ্বর আর স্বপন ভাইয়ের কথা অভিষেকের সহ্য হয়নি। একদিন সুযোগ বুঝে শীতের রাতে মাংস কাটার ছুরি দিয়ে বরুণকে স্বর্গের সিঁড়ি ধরিয়ে দিয়েছিল। ওর লাশটা পড়ে ছিল চিৎ হয়ে। বরুণ কেবল আর্তনাদ করে বলেছিল, কাজটা ভাল করলি না, অভিষেক। আমি তোদের মত ছেলেদের লম্পট নেতাদের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য রাজনীতি করতাম। এই একটি কথা বলেই বরুণ স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে স্বর্গে চলে যায়।
পরিত্যক্ত মন্দিরের একটু দূরে, যেখানে একটি রক্তকরবী গাছ রয়েছে, সেখানে ফুলগাছটার নিচে অনেক মানুষের ভিড়। এখানে কয়েকজন মধ্যবয়সী মহিলাও আছে। ওরা কি দেখছে ফুলে ভরা রক্তকরবী গাছটার নিচে? ওরা দেখছে একটা মানুষ গুলি খেয়ে মরে পড়ে আছে। লোকটাকে তারা চেনে না। লোকটা এই এলাকারও না। ওকে কে মেরেছে ভিড়করা মানুষগুলো জানে না। মানুষগুলো বলাবলি করছে হয়ত কোন সরকারী বাহিনীর লোক নতুবা প্রতিপক্ষের লোকজন মেরে ফেলে চলে গেছে। গুলি দু’টি লেগেছে মাথায়। দু’টি বুকে। একটি পেটে। একটি অ-কোষে। মারার ধরন দেখে বুঝা যায় যারাই তাকে মেরেছে চরম প্রতিহিংসা থেকে মেরে মনের ক্ষোভ মিটিয়েছে। লোকগুলো দেখতে পেল, মরে যাওয়া লোকটার ডান হাতে সাদাকালো বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার যুগল ছবি।
কে একজন বলে উঠল হায় রে, কোন পাষাণ জানি এমন করে নির্মমভাবে মেরে গেল!
কোনদিন লোকগুলি জানবে না, গুলি খেয়ে মরে যাওয়া লোকটার হাতে সাদাকালো যে বৃদ্ধবৃদ্ধার যুগল ছবি আছে, তারা হচ্ছেন মরে যাওয়া লোকটার মা-বাবা। যারা চেয়েছিলেন ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানাবেন।
অন্য একজন বলল, দেখ, লোকটার বুক পকেট থেকে উঁকি মারছে আরেকটা রঙিন ছবি।
দূর থেকে ভাল করে বোঝা যায় না। ছবিটা যে পুরুষের নয় তা ধরা যায়। কম বয়সী একটা মেয়ের ছবি। ছবিটি কার? লোকগুলো ভাবতে থাকল। নিশ্চয়ই তার ভালবাসার কেউ।
কতক্ষণ পর পুলিশের বাঁশির তীব্র চিৎকার শোনা যায়। সবাই বলে উঠল, ভাগ, ভাগ, পুলিশ আসছে! বিপদে পড়বে।
লোকগুলো সরে যাবার আগেই পুলিশের লোক এসে পড়ে। লোকজনকে নানা প্রশ্ন করে তাদের খাতায় কি সব লিখে উপস্থিত লোকদের টিপ-দস্তখত নিয়ে অভিষেকের লাশটাকে নিয়ে চলে যায়। পিছনে পড়ে থাকে রক্তকরবী গাছের ছায়ার নিচে ভিড় করা মানুষের বেদনার্ত হাহাকার।
Comments