চাঁদার টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীর পায়ে গুলি
- Get link
- X
- Other Apps
অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
মনিরুল ইসলাম, যশোর | আপডেট: ০৩:০১, জুন ২৩, ২০১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ
আহত দুজনকে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ পরে তাঁদের ঢাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু) পাঠানো হয়৷ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীর হাঁটুর ওপর থেকে বাঁ পা কেটে বাদ দিতে হবে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত যশোরের কোতোয়ালি থানার এসআই জামাল উদ্দিন প্রথম আলোর কাছে গুলি করার কথা স্বীকার করেছেন৷ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসপি (পুলিশ সুপার) সাহেবের অনুমতি নিয়ে গুলি করেছি।’
যশোরের পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান বর্তমানে ছুটিতে আছেন৷ পুলিশ সুপারের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি গুলির ঘটনা ছিল না; ছিল সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ। আর যারা আহত হয়েছে, তারা ছিনতাইকারী।’
আহত ব্যবসায়ী বিকির বাবা বাবু শিকদার বলেন, ‘ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে সাদাপোশাকে যশোরের কোতোয়ালি থানার এসআই শোয়েব উদ্দিন ও জামাল উদ্দিনসহ পুলিশের কয়েকজন শহরের বেজপাড়ার বাড়ি থেকে বিকিকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তুলে নিয়ে যান। চাঁচড়া ফাঁড়িতে নিয়ে এসআই শোয়েব আমার ছেলের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে পায়ে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। পুলিশের একজনের ফোন থেকে ছেলের সঙ্গে কথা বলিয়ে চাঁদার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়। ওই রাতে এত টাকা কোথায় পাব৷ তা ছাড়া, আমার ছেলে কোনো অপরাধী না। পুলিশকে টাকা দিতে হবে কেন? এমন কথা বলে আমি চাঁচড়া ফাঁড়িতে যাই। ফাঁড়ির পুলিশ জানায়, ছেলেকে থানায় নেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পরে ফোনে খবর আসে। ছেলে হাসপাতালে।’
বাবু শিকদার অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে গুলি করেন যশোর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল উদ্দিন। এ সময় পাশে ছিলেন আরেক উপপরিদর্শক শোয়েব উদ্দিন। বাবু বলেন, আট দিনেও বিকির হাঁটু থেকে গুলি বের করা হয়নি। বিকি যশোর শহরের বকচর এলাকার গাড়ির যন্ত্রাংশ পাইকারি বিক্রির ব্যবসা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম বিকি এন্টারপ্রাইজ।
পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ইব্রাহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিকেলে এক লোকের জানাজা পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ আমাকে ধরে৷ এরপর চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। টাকা দিতে পারিনি বলে চাঁচড়া কবরস্থানের পাশে নিয়ে বাঁ পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে।’
আহত দুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দুজনের পায়ে গুলি করার পর এসআই জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা করেন।
চাঁচড়া ডাল মিল এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী রিনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই রাতে দুটি গুলির শব্দ শুনেছি। পরে পরিবারের সবাই দেখতে গিয়েছিলাম।’
চাঁদা না পেয়ে পায়ে গুলি করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শোয়েব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সত্য না। কারও কাছে আমি টাকা চাইনি। কারও বাড়ি থেকে আমি কাউকে গ্রেপ্তার করিনি। গুলিও করিনি।’
বিকির পরিবারের সদস্যরা জানান, এ ঘটনার কয়েক দিন আগে যশোর জেলা ছাত্রলীগের উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক রেজাউল হোসেন সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে জখম হন। এ ঘটনায় ১৫ জুন দুপুরে আহত রেজাউলের মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই রাতে পায়ে গুলি করার পর বিকিকে ওই মামলার আসামি করে পুলিশ।
হামলার শিকার রেজাউল প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামলার সময় একজনকে চিনতে পারেছি। কিন্তু সেই ব্যক্তি বিকি নন৷’
কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (দ্বিতীয় কর্মকর্তা) জহিরুল আলম জানান, ছাত্রলীগের নেতা মিথুনকে ছুরিঘাতের মামলায় বিকিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের করা মামলা ও ছাত্রলীগ নেতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ছাড়া বিকির বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments