গৃহবধূর ওপর স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ
- Get link
- X
- Other Apps
যশোর অফিস | আপডেট: ১৫:৫৬, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৪
এক গৃহবধূর (২৪) ওপর তাঁর স্বামী অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই বধূকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ভোরে সদর উপজেলায় নিজ ঘরে ওই বধূ এ নির্যাতনের শিকার হন। ঘটনার তিন দিনেও এ ব্যাপারে এখনো কোনো মামলা হয়নি।
ওই জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক (সার্জন) এন কে আলমপ্রথম আলোকে জানান, স্বামীর ধারালো কাস্তের আঘাতে ওই গৃহবধূর যৌনাঙ্গ, পায়ুপথ ও মূত্রথলি মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। পায়ুপথের ওপরে মেরুদণ্ডের শক্ত হাড়টিও অনেকটা কেটে গেছে।
চিকিত্সকের ভাষ্য, ওই নারীর শরীরে এর মধ্যে একবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এখনো তিনি আশঙ্কামুক্ত নন। আরও দু-এক দিন না গেলে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
প্রথম আলোকে দেওয়া হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ওই গৃহবধর ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো সে রাতেও খাওয়া-দাওয়া সেরে তাঁরা বিছানায় ঘুমাতে যান। এ সময় স্বামীর সঙ্গে তাঁর একটি বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। তিনি বলেন, ‘একপর্যায়ে আমি প্রকৃতির ডাকে বাইরে যাই। ফিরে এসে দেখি বিছানার ওপর কাঁচি (কাস্তে)। কাঁচি দি কী করবা—জানতে চাইলে সে (স্বামী) বলে “তোরে খুন করব”। এই বলেই সে হঠাত্ আমার পেটের ওপর জোর করে বসে যৌনাঙ্গ দি কাঁচি ঢুকিয়ে দেয়। আমারে মারে ফেলল বলে চিত্কার দিলি আশপাশের লোকজন আসে রক্তাক্ত অবস্থায় আমারে উদ্ধার করি হাসপাতালে আনে।’
গৃহবধূর বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বছর চারেক আগে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। দেড় বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে তাদের। যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই আমার মেয়েকে তার স্বামী নির্যাতন করত। কিছুদিন আগে ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ইঞ্জিনচালিত একটি আলমসাধু কিনে দিছি। আবার বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্যে আমার মেয়েকে চাপ দিতে থাকে। শেষে মঙ্গলবার আমার মেয়ের ওপর সে অমানবিক নির্যাতন চালায়। এর পর থেকে সে পলাতক।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
থানার উপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল আলম জানান, সদর উপজেলার সাজিয়ালি গ্রামে পুলিশ ফাঁড়িতে ওই গৃহবধূর বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে তা মামলা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়নি। যাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি নির্বাচনী দায়িত্বে থাকায় এখনো কিছু করা যায়নি।
এ বিষয়ে এখনো মামলা করেননি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই গৃহবধূর বাবা জানান, চিকিত্সার জন্য প্রতিদিন হাজার তিনেক টাকা খরচ হচ্ছে। ওই টাকার জোগান দেওয়া অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই মামলা-মোকদ্দমায় যাওয়ার আগে জামাতাকে দেওয়া আলমসাধুটা বিক্রি করে টাকা আনার জন্য ওই পরিবারের সঙ্গে একটি সমঝোতার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তবে এখন আর কোনো সমঝোতা করব না। আমার মেয়ের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, আমরা তার বিচার চাই।’
ওই গৃহবধূর শ্বশুর বলেন, ‘ওই রাতে চিত্কার শুনে ছেলের ঘরে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বউকে দেখতে পাই। পরে স্থানীয় চিকিত্সকের মাধ্যমে তাকে হাসপাতালে পাঠাই।’ তাঁর ছেলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ওই দিনের ঘটনার পর ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments