সহায় যখন ইন্টারনেট
- Get link
- X
- Other Apps
সহায় যখন ইন্টারনেট
জেবুননেছা চপলাবাংলাদেশ থেকে উন্নত দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পড়তে আসা এখন কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণীর বিষয় নয়। একটা সময় ছিল, যখন বিদেশে পড়াশোনা করতে পারত শুধু ধনীর ছেলেমেয়েরাই। কিন্তু সময় বদলে গেছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত বা অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী ছেলেমেয়েরাও দেশের বাইরে পড়াশোনা করে সুন্দর জীবন গড়ছে।
এ ক্ষেত্রে আমি নিজেই বড় উদাহরণ। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা নিজেই সম্পন্ন করে পরিবারসহ পরিচিত সবাইকে চমকে দিয়েছিলাম। তখন আমার বয়স ২৪। আমার জীবনের সেরা বন্ধু ইন্টারনেট আমাকে সম্মানজনক সুযোগের তথ্য দিয়ে আমার জীবনটাকে বদলে দিয়েছে।
নিজের জীবন থেকে শিখেছি, বিদেশে সফলভাবে পড়তে হলে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি, সাহস, নতুন পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। হতে হবে পরিশ্রমী, আত্মনির্ভরশীল। থাকতে হবে ইংরেজিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও ইন্টারনেটের সঙ্গে বন্ধুত্ব। এই বন্ধুত্ব হবে মূলত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের সঙ্গে।
২০০৩ সালে সুইডেনের University of Gûteborg-এ সোশ্যাল ওয়ার্কে এমএস করতে গিয়েছিলাম, তখন ঢাকায় সর্বত্র ইন্টারনেটের সুবিধা ছিল না। ১৯৯৬-২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একমাত্র ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরি ও মোকাররম ভবন ছাড়া আর কোথাও ছিল বলে মনে পড়ে না। নীলক্ষেত আর ধানমন্ডিতে ছিল কয়েকটি সাইবার ক্যাফে। কিন্তু সেগুলো ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয়বহুল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবনের তিন-চারটি কম্পিউটার নিয়ে সাজানো ছোট্ট কক্ষ আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখন নিজের জন্য আজ খুব মায়া হয়। শুধু গুগল ব্যবহার করেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, নিজের পছন্দমতো বিভাগ ও স্কলারশিপ-সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে যাই।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সুইডেনে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে কিছুদিন পর নোরাডের (দ্য নরোজিয়ান এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন) স্কলারশিপ নিয়ে নরওয়েতে জেন্ডার ও উন্নয়ন বিষয়ে এমফিল করার সুযোগ পাই।
স্কলারশিপ নিয়ে উন্নত দেশে পড়াশোনা করার মজাই ভিন্ন। মনে পড়ে বাবার কাছ থেকে মাত্র ২০০ ডলার নিয়ে নরওয়েতে পাড়ি দিয়েছিলাম। মাস শেষ হওয়ার আগেই স্কলারশিপের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসত। এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত ছিল দেশে ফিরে যাওয়ার রিটার্ন বিমান টিকিট, ফার্নিশড স্টুডেন্ট অ্যাপার্টমেন্ট, বিনা পয়সায় বইপত্র ও পড়ার সুযোগ। শুধু তা-ই নয়, প্রায় বিনা মূল্যে চিকিৎসা এবং ওই দেশের নানা ধরনের নাগরিক সুবিধাও পেয়েছিলাম নোরাড ফেলো হিসেবে। সুইডেন ও নরওয়ের এই উচ্চশিক্ষাই তৈরি করেছে আজকের আমাকে। আজ আমি একজন স্কিল ইমিগ্র্যান্ট হয়ে মাথা উঁচু করে কাজ করে যাচ্ছি কানাডার সাস্কাটুন শহরে।
নরওয়ে ও সুইডেনে পড়াশোনা করার জন্য অনেক স্কলারশিপ আছে। নামগুলো গুগলে সার্চ করে আবেদন করুন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। কে জানে আপনার সফলতার গল্প আমরাও হয়তো একদিন প্রথম আলোতে পড়ব! এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানার থাকলে আমাকে লিখুন। ঠিকানা banglargaanokotha@gmail.com
জেবুননেছা চপলা
সমাজকর্মী, গবেষক ও মিডিয়াকর্মী
সাস্কাটুন, সাস্কাচোওয়ান, কানাডা
এ ক্ষেত্রে আমি নিজেই বড় উদাহরণ। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা নিজেই সম্পন্ন করে পরিবারসহ পরিচিত সবাইকে চমকে দিয়েছিলাম। তখন আমার বয়স ২৪। আমার জীবনের সেরা বন্ধু ইন্টারনেট আমাকে সম্মানজনক সুযোগের তথ্য দিয়ে আমার জীবনটাকে বদলে দিয়েছে।
নিজের জীবন থেকে শিখেছি, বিদেশে সফলভাবে পড়তে হলে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি, সাহস, নতুন পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। হতে হবে পরিশ্রমী, আত্মনির্ভরশীল। থাকতে হবে ইংরেজিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও ইন্টারনেটের সঙ্গে বন্ধুত্ব। এই বন্ধুত্ব হবে মূলত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের সঙ্গে।
২০০৩ সালে সুইডেনের University of Gûteborg-এ সোশ্যাল ওয়ার্কে এমএস করতে গিয়েছিলাম, তখন ঢাকায় সর্বত্র ইন্টারনেটের সুবিধা ছিল না। ১৯৯৬-২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একমাত্র ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরি ও মোকাররম ভবন ছাড়া আর কোথাও ছিল বলে মনে পড়ে না। নীলক্ষেত আর ধানমন্ডিতে ছিল কয়েকটি সাইবার ক্যাফে। কিন্তু সেগুলো ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয়বহুল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবনের তিন-চারটি কম্পিউটার নিয়ে সাজানো ছোট্ট কক্ষ আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখন নিজের জন্য আজ খুব মায়া হয়। শুধু গুগল ব্যবহার করেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, নিজের পছন্দমতো বিভাগ ও স্কলারশিপ-সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে যাই।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সুইডেনে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে কিছুদিন পর নোরাডের (দ্য নরোজিয়ান এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন) স্কলারশিপ নিয়ে নরওয়েতে জেন্ডার ও উন্নয়ন বিষয়ে এমফিল করার সুযোগ পাই।
স্কলারশিপ নিয়ে উন্নত দেশে পড়াশোনা করার মজাই ভিন্ন। মনে পড়ে বাবার কাছ থেকে মাত্র ২০০ ডলার নিয়ে নরওয়েতে পাড়ি দিয়েছিলাম। মাস শেষ হওয়ার আগেই স্কলারশিপের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসত। এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত ছিল দেশে ফিরে যাওয়ার রিটার্ন বিমান টিকিট, ফার্নিশড স্টুডেন্ট অ্যাপার্টমেন্ট, বিনা পয়সায় বইপত্র ও পড়ার সুযোগ। শুধু তা-ই নয়, প্রায় বিনা মূল্যে চিকিৎসা এবং ওই দেশের নানা ধরনের নাগরিক সুবিধাও পেয়েছিলাম নোরাড ফেলো হিসেবে। সুইডেন ও নরওয়ের এই উচ্চশিক্ষাই তৈরি করেছে আজকের আমাকে। আজ আমি একজন স্কিল ইমিগ্র্যান্ট হয়ে মাথা উঁচু করে কাজ করে যাচ্ছি কানাডার সাস্কাটুন শহরে।
নরওয়ে ও সুইডেনে পড়াশোনা করার জন্য অনেক স্কলারশিপ আছে। নামগুলো গুগলে সার্চ করে আবেদন করুন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। কে জানে আপনার সফলতার গল্প আমরাও হয়তো একদিন প্রথম আলোতে পড়ব! এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানার থাকলে আমাকে লিখুন। ঠিকানা banglargaanokotha@gmail.com
জেবুননেছা চপলা
সমাজকর্মী, গবেষক ও মিডিয়াকর্মী
সাস্কাটুন, সাস্কাচোওয়ান, কানাডা
- Get link
- X
- Other Apps
Comments