আমাদের যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি
আমাদের যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি
| « আগের সংবাদ | পরের সংবাদ» |
আরমান পারভেজ মুরাদ নিজেকে একজন সৌভাগ্যবান অভিনেতা মনে করেন। আর এর কারণ, তার ঝুলিতে জোঁক, তেভাগা, কুহক, সন্ধ্যালোকের যাত্রাসহ আরও অনেক মানসম্পন্ন ও দর্শকপ্রিয় নাটক রয়েছে। নাটকের বাইরে চলচ্চিত্রে কাজ করেও জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। ছোট ও বড় পর্দা—দুই মাধ্যমেই এখন তিনি ব্যস্ত। গুণী এই অভিনেতার সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রকিব হোসেন
নতুন কী কী নাটকে কাজ করছেন?
‘বাঁক’ শিরোনামের একটি ধারাবাহিকে কাজ করছি। এটি পরিচালনা করছেন আমিনুল ইসলাম বাচ্চু। নাটকটি সিরিয়াস ও ফানি—দুই ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মিত হচ্ছে। নাটকে দেখা যাবে, আমি আমিরুল হক চৌধুরীর বাড়িতে কাজের ছেলে হিসেবে থাকি। মূলত আমার পরিচয় হলো আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। যুদ্ধকালে আমার বাবাকে রাজাকাররা মেরে ফেলে। এরপর রাস্তা থেকে তুলে এনে আমাকে নিজের বাড়িতে কাজের লোক হিসেবে রেখে দেন আমিরুল হক।
নাটকটিতে আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে হিসেবে কাজ করেছেন বললেন। বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন?
মুক্তিযুদ্ধ আসলে গভীরভাবে অনুভব করার একটি বিষয়। তবে স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা—বিষয়গুলো নিয়ে এখন খুবই বাড়াবাড়ি দেখছি। পৃথিবীব আর কোনো দেশ এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধকরি এত বাড়াবাড়ি করে না। এ বিষয় নিয়ে এখন দেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছরই বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস এলে অনেক টাকা ও সময় ব্যয় হচ্ছে তা উদযাপন করা নিয়ে। আমার মনে হয়, তা এত জাঁকজমকভাবে না করে এ টাকা দেশের উন্নয়নে ব্যয় করলে জনগণের কল্যাণে আসবে। আমরা এত কিছু করছি, অথচ একটা পদ্মা সেতু করতে পারছি না। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে হয়তো, কিন্তু আমাদের যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।
আচ্ছা, আপনি অভিনয় করছেন অনেকদিন ধরে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তো একজন অভিনেতার রুচিরও বদল হয়। আপনার এই বদলগুলো কেমন ছিল?
আমি আসলে কচ্ছপগতিতে চলছি। ধীরে ধীরে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছি। মঞ্চ দিয়ে আমার অভিনয় জীবন শুরু হয়েছে। এরপর রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। একেক মাধ্যমের কাজের ধরন একেক রকম। উচ্চারণ, শব্দের অনুভূতি, একটি লাইনের প্রতিটি শব্দের ব্যবহার কীভাবে করতে হয়—আমাকে তা শিখতে হয়েছে। সত্যি বলতে কী, শিখতে শিখতেই আমার অনেক সময় লেগে গেছে। আমার মনে হয়, আমি খুব সমৃদ্ধ একজন অভিনেতা। এজন্য আমি প্রথমেই সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ, এরপর নির্মাতা, স্পন্সর কোম্পানি ও আমার দর্শকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এখন আমি ‘সংগ্রাম’ নামের একটি ছবিতে কাজ করছি। মনসুর নামের ইংল্যান্ড প্রবাসী একজন বাঙালি নির্মাতা এটি নির্মাণ করছেন। এতে আমি পাকিস্তানি একজন মেজরের চরিত্রে কাজ করছি। ছবিতে একটি দৃশ্যে আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করেছি আর তা এমন যে, তুম বাঙালি হো, পাকিস্তানি নেহি। এই দুটো শব্দ দিয়ে দুটি দেশ ও জাতিকে ডমিনেট করা হয়েছে। শব্দ এমনই পাওয়ারফুল। আমরা রক্ত দিয়ে ভাষার অধিকার পেয়েছি। আমাদের ভাষার প্রচুর শক্তি ও সৌন্দর্য রয়েছে। আমাদের শব্দ ভাণ্ডার অনেক সমৃদ্ধ, যা অন্য ভাষার নেই। কিন্তু আমরা রেডিও-টেলিভিশনে শুদ্ধ ও সুন্দর করে তার ব্যবহার করতে পারিনি। সবখানেই অশুদ্ধ ও ভুলের ছড়াছড়ি। আমরা মুসলমান হিসেবে শুদ্ধ করে সালামটাও দিতে জানি না। বেশিরভাগ মানুষকেই বলতে শুনি স্লামালাইকুম। অথচ তা ভুল। এটি হবে এমন যে, আসসালামু আলাইকুম। অর্থ আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
ক্যারিয়ারের এ সময়ে এসে একটি স্ক্রিপ্টে আপনি কী খোঁজেন?
ম্যাজিক খুঁজি। কেমেস্ট্রি খুঁজি। সুন্দর একটা কনসেপ্ট খুঁজি। গল্পের মধ্যে চরিত্র খুঁজি। আমার চরিত্রটি কী বলছে। দেশ-জাতির জন্য সে কোনো মেসেজ বহন করছে কিনা। ১৭ কোটি মানুষের সুখ- দুঃখ ও দুর্দশার কথা ফুটে উঠছে কি-না আমার কাজের মধ্য দিয়ে—এটাই আমার চাওয়া।
ঘানি চলচ্চিত্রে কাজের জন্য আপনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। আপনার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো কিন্তু রুট লেভেলের দর্শকদের কাছে পৌঁছায়নি। কোন ভাবনা থেকে এ মাধ্যমে কাজ করেন?
কমিটমেন্ট থেকে। আমি আমার কাজের মাধ্যমে দেশের কিছু ঘটনা, কিছু মুহূর্তকে তুলে ধরছি। আমাদের কমার্শিয়াল ছবিগুলোতে তা নেই। সিনেমা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা গণমাধ্যম। এখানে সেরা মানুষগুলোরই কাজ করার কথা। কিন্তু এখন এ দেশে তা দেখা যায় না। এ কারণে সিনেমাহল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের বাণিজ্যিক ছবির দর্শকরা সমাজের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর মানুষ। সিনেমাহলগুলোয় যেন এখন জোর করেই ছবি চালানো হয়। আমাদের শাকিব খান ও রিয়াজরা বেশি দিন টিকতে পারছেন না। কিন্তু মিঠুন ও অমিতাভরা বছরের পর বছর তাদের ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করছে। আমি ১৩ বছর ধরে অভিনয় করছি। অভিনয়, অভিনয় সংশ্লিষ্ট সবকিছু ভালোভাবে শিখে এসেছি। অথচ বাণিজ্যিক ঘরানার নির্মাতারা আমাদের চরিত্র দিতে ভয় পান। এটা তাদের এক ধরনের দুর্বলতা।
নতুন কী কী নাটকে কাজ করছেন?
‘বাঁক’ শিরোনামের একটি ধারাবাহিকে কাজ করছি। এটি পরিচালনা করছেন আমিনুল ইসলাম বাচ্চু। নাটকটি সিরিয়াস ও ফানি—দুই ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মিত হচ্ছে। নাটকে দেখা যাবে, আমি আমিরুল হক চৌধুরীর বাড়িতে কাজের ছেলে হিসেবে থাকি। মূলত আমার পরিচয় হলো আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। যুদ্ধকালে আমার বাবাকে রাজাকাররা মেরে ফেলে। এরপর রাস্তা থেকে তুলে এনে আমাকে নিজের বাড়িতে কাজের লোক হিসেবে রেখে দেন আমিরুল হক।
নাটকটিতে আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে হিসেবে কাজ করেছেন বললেন। বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন?
মুক্তিযুদ্ধ আসলে গভীরভাবে অনুভব করার একটি বিষয়। তবে স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা—বিষয়গুলো নিয়ে এখন খুবই বাড়াবাড়ি দেখছি। পৃথিবীব আর কোনো দেশ এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধকরি এত বাড়াবাড়ি করে না। এ বিষয় নিয়ে এখন দেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছরই বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস এলে অনেক টাকা ও সময় ব্যয় হচ্ছে তা উদযাপন করা নিয়ে। আমার মনে হয়, তা এত জাঁকজমকভাবে না করে এ টাকা দেশের উন্নয়নে ব্যয় করলে জনগণের কল্যাণে আসবে। আমরা এত কিছু করছি, অথচ একটা পদ্মা সেতু করতে পারছি না। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে হয়তো, কিন্তু আমাদের যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।
আচ্ছা, আপনি অভিনয় করছেন অনেকদিন ধরে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তো একজন অভিনেতার রুচিরও বদল হয়। আপনার এই বদলগুলো কেমন ছিল?
আমি আসলে কচ্ছপগতিতে চলছি। ধীরে ধীরে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছি। মঞ্চ দিয়ে আমার অভিনয় জীবন শুরু হয়েছে। এরপর রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। একেক মাধ্যমের কাজের ধরন একেক রকম। উচ্চারণ, শব্দের অনুভূতি, একটি লাইনের প্রতিটি শব্দের ব্যবহার কীভাবে করতে হয়—আমাকে তা শিখতে হয়েছে। সত্যি বলতে কী, শিখতে শিখতেই আমার অনেক সময় লেগে গেছে। আমার মনে হয়, আমি খুব সমৃদ্ধ একজন অভিনেতা। এজন্য আমি প্রথমেই সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ, এরপর নির্মাতা, স্পন্সর কোম্পানি ও আমার দর্শকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এখন আমি ‘সংগ্রাম’ নামের একটি ছবিতে কাজ করছি। মনসুর নামের ইংল্যান্ড প্রবাসী একজন বাঙালি নির্মাতা এটি নির্মাণ করছেন। এতে আমি পাকিস্তানি একজন মেজরের চরিত্রে কাজ করছি। ছবিতে একটি দৃশ্যে আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করেছি আর তা এমন যে, তুম বাঙালি হো, পাকিস্তানি নেহি। এই দুটো শব্দ দিয়ে দুটি দেশ ও জাতিকে ডমিনেট করা হয়েছে। শব্দ এমনই পাওয়ারফুল। আমরা রক্ত দিয়ে ভাষার অধিকার পেয়েছি। আমাদের ভাষার প্রচুর শক্তি ও সৌন্দর্য রয়েছে। আমাদের শব্দ ভাণ্ডার অনেক সমৃদ্ধ, যা অন্য ভাষার নেই। কিন্তু আমরা রেডিও-টেলিভিশনে শুদ্ধ ও সুন্দর করে তার ব্যবহার করতে পারিনি। সবখানেই অশুদ্ধ ও ভুলের ছড়াছড়ি। আমরা মুসলমান হিসেবে শুদ্ধ করে সালামটাও দিতে জানি না। বেশিরভাগ মানুষকেই বলতে শুনি স্লামালাইকুম। অথচ তা ভুল। এটি হবে এমন যে, আসসালামু আলাইকুম। অর্থ আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
ক্যারিয়ারের এ সময়ে এসে একটি স্ক্রিপ্টে আপনি কী খোঁজেন?
ম্যাজিক খুঁজি। কেমেস্ট্রি খুঁজি। সুন্দর একটা কনসেপ্ট খুঁজি। গল্পের মধ্যে চরিত্র খুঁজি। আমার চরিত্রটি কী বলছে। দেশ-জাতির জন্য সে কোনো মেসেজ বহন করছে কিনা। ১৭ কোটি মানুষের সুখ- দুঃখ ও দুর্দশার কথা ফুটে উঠছে কি-না আমার কাজের মধ্য দিয়ে—এটাই আমার চাওয়া।
ঘানি চলচ্চিত্রে কাজের জন্য আপনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। আপনার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো কিন্তু রুট লেভেলের দর্শকদের কাছে পৌঁছায়নি। কোন ভাবনা থেকে এ মাধ্যমে কাজ করেন?
কমিটমেন্ট থেকে। আমি আমার কাজের মাধ্যমে দেশের কিছু ঘটনা, কিছু মুহূর্তকে তুলে ধরছি। আমাদের কমার্শিয়াল ছবিগুলোতে তা নেই। সিনেমা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা গণমাধ্যম। এখানে সেরা মানুষগুলোরই কাজ করার কথা। কিন্তু এখন এ দেশে তা দেখা যায় না। এ কারণে সিনেমাহল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের বাণিজ্যিক ছবির দর্শকরা সমাজের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর মানুষ। সিনেমাহলগুলোয় যেন এখন জোর করেই ছবি চালানো হয়। আমাদের শাকিব খান ও রিয়াজরা বেশি দিন টিকতে পারছেন না। কিন্তু মিঠুন ও অমিতাভরা বছরের পর বছর তাদের ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করছে। আমি ১৩ বছর ধরে অভিনয় করছি। অভিনয়, অভিনয় সংশ্লিষ্ট সবকিছু ভালোভাবে শিখে এসেছি। অথচ বাণিজ্যিক ঘরানার নির্মাতারা আমাদের চরিত্র দিতে ভয় পান। এটা তাদের এক ধরনের দুর্বলতা।
Comments