ছাত্রলীগের নৃশংসতার শিকার বিশ্বজিত্ : চাপাতি শাকিল ৮ দিনের রিমান্ডে


ছাত্রলীগের নৃশংসতার শিকার বিশ্বজিত্ : চাপাতি শাকিল ৮ দিনের রিমান্ডে

কোর্ট রিপোর্টার
« আগের সংবাদপরের সংবাদ»
পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিত্ দাস হত্যার মূলনায়ক মো. রফিকুল ইসলাম শাকিলকে ৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে ঢাকা সিএমএম আদালত।
গতকাল বিকালে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরফান উল্লাহ ওই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি (দক্ষিণ) পুলিশের পরিদর্শক মো. তাজুল ইসলাম এ রিমান্ডের আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় আসামি শাকিল চাপাতি দিয়ে ভিকটিম বিশ্বজিেক এলোপাতাড়ি কোপাতে দেখা গেছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছে। ঘটনার পরপরই সে চাপাতিটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের ২নং গেটের বাইরে পানের দোকানের পাশে ও আবর্জনার নিচে লুকিয়ে রেখেছে। শনিবার রাতে পুলিশ তাকে নিয়ে চাপাতি উদ্ধার করতে গেলে সে নিজেই তার বর্ণনা অনুযায়ী ওই স্থানের আবর্জনার নিচ থেকে চাপাতিটি বের করে আনে।
শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে জিআরও এসআই রাকিব হোসেন বলেন, এটি একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ড। বিশ্ববাসী এটি দেখেছে। আসামি আরও অনেকের নাম প্রকাশ করেছে, যারা পলাতক আছে।
তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ, গ্রেফতার এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তার প্রার্থিত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আবশ্যক।
এ সময় আসামিপক্ষে শুনানির জন্য কোনো আইনজীবী ছিলেন না। ম্যাজিস্ট্রেট তখন শাকিলের কাছে জানতে চান, তার কোনো আইনজীবী আছে কি না? জবাবে সে বলে আজ তার বাবা মারা গেছেন। তার কেউ নেই বলে সে কেঁদে ওঠে।
এ নিয়ে মামলাটির বর্তমানে আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ১০ জন। অপর ৯ জন হলো মামুন অর রশিদ, ফারুক হোসেন, কাজী নাহিদুজ্জামান তুহিন, মোসলেহউদ্দীন মোসলেম, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, কাইয়ুম মিয়া টিপু, এইচএম কিবরিয়া, রাশেদুজ্জামান শাওন ও সাইফুল ইসলাম।
এদের মধ্যে মামুন অর রশিদ, ফারুক হোসেন, কাজী নাহিদুজ্জামান তুহিন ও মোসলেহউদ্দীন মোসলেমকে গত ১১ ডিসেম্বর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়।
বর্তমানে কারাগারে থাকা এ ৪ জনকে বৃহস্পতিবার এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
এছাড়া মাহফুজুর রহমান নাহিদ, কাইয়ুম মিয়া টিপু ও এইচএম কিবরিয়াকে গত শুক্রবার এবং রাশেদুজ্জামান শাওন ও সাইফুল ইসলামকে শনিবার দিন ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মাহাবুবুল আলম দুলাল নামে সুপ্রিমকোর্টের এক আইনজীবী ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ঢাকা সিএমএম আদালতে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় ১০ জনের মধ্যে রিমান্ড হওয়া মাহফুজুর রহমান নাহিদ, মো. রফিকুল ইসলাম শাকিল ও মো. কিবরিয়ার নাম রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন টেইলারিং ব্যবসায়ী বিশ্বজিত্ দাস। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর মশুরা গ্রামে।
ওইদিন রাতেই অজ্ঞাত ২৫ জন আসামির বিরুদ্ধে সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন এসআই জালাল আহমেদ।
এদিকে বিশ্বজিত্ হত্যায় জড়িত রফিকুল ইসলাম শাকিল, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন ও ওবায়দুল হককে স্থায়ী বহিষ্কার এবং মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও মো. এমদাদুল হকের সনদ বাতিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়