আইন মেনেই বিকাশকে মুক্তি দেয়া হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : যুবলীগ থাকলে কেউ দেশের অমঙ্গল করতে পারবে না

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদপরের সংবাদ»
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশকে আইন মেনেই মুক্তি দেয়া হয়েছে। সে ৪৫ মিনিটেই জেল থেকে ছাড়া পায়নি। আদালত তাকে একদিন আগেই জামিন দিয়েছিল। কিন্তু কারাগার থেকে বিকাশ একদিন পর মুক্তি পেয়েছে। গতকাল সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন শহীদ মিনারে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে তা সফলভাবে শেষ হবে। কোনো শক্তি এতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে চার দিকে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। মরিয়া হয়ে গুপ্ত হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। তবে যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কেউ ঠেকাতে পারবে না। এ সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিএমপি কমিশনার বেনজির আহমেদ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

prothom alo

পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাসকে আইন অনুযায়ী মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সন্ত্রাসী বিকাশের মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে ব্যক্তির কথা বলেছেন, তিনি আদালতের নির্দেশেই বের হয়েছেন। এখানে আমাদের করার কিছু নেই।’
বিকাশকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো দুর্বলতা ছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি সেটা মনে করি না। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন আইন অনুযায়ী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।’
এদিকে কারাগার থেকে মুক্তির পর বিকাশ কোথায় রয়েছেন, এ ব্যাপারে নানা গুঞ্জন রয়েছে। বিকাশকে গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তত্পরতা আজ পর্যন্ত দেখা যায়নি।
গত শুক্রবার কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে বিকাশ ছাড়া পান। অভিযোগ উঠেছে, এ ধরনের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের জেলখানা থেকে ছাড়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়। কিন্তু বিকাশকে ছাড়ার ক্ষেত্রে এ রীতি মানা হয়নি।
আইন শৃংখলার চরম অবনতি : জনমনে আতঙ্ক inqilab
স্টাফ রিপোর্টার : দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। জনমনে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। বাড়ছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা।  একের পর এক কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে বেরিয়ে আসাতে রাজধানীসহ সর্বত্রই এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, অতি গোপনীয়তার সাথে বিকাশকে কারাগার থেকে জামিনে বের করা হয়। এর সাথে প্রভাবশালী মহল জড়িত রয়েছে। বিকাশের আগে পুরান ঢাকার শহীদ কমিশনার, সানাউল্লাহসহ আরো কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসেছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তবে এদের আনাগোনাতে পুরো নগরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জামিনে মুক্তি পাওয়া বিকাশ গতকাল বনানী এলাকায় আওয়মী লীগের বিতর্কিত নেতা, ব্যাংকের মালিক ও সাবেক এমপির বাসায় প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সাথে একান্তে বৈঠক করেছেন। এ সময় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলন ও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখেই তাকে মুক্তি করানো হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরো ৫/৬ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে জামিনে মুক্তি দেয়া হচ্ছে। বনানীর ওই বাসায় উপস্থিত একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সরকারের ভেতর একটি অশুভ প্রভাবশালী মহল কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের কারাগার থেকে মুক্ত করতে সহযোগিতা করছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেছেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের খুন ও গুম করার উদ্দেশ্যে সরকার পুরস্কার ঘোষিত কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের কারাগার থেকে ছেড়ে দিচ্ছে। মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে জামাই আদরে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। গত শুক্রবার সকালে সন্ত্রাসী বিকাশ কাশিমপুর কারাগার থেকে বেরিয়ে কোথায় অবস্থান করছে তা কেউ বলছেন না। র‌্যাব পুলিশ কেউ জানে না বিকাশ এখন কোথায় আছে। রাতারাতি সে হাওয়া হয়ে গেল- এ প্রশ্ন নগরবাসীর। কাশিমপুর কারাগার গেটের সামনে শুক্রবার সকালে রঙিন গ্লাসের দামি গাড়িতে চড়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসী বিকাশ কাদের সাথে বেরিয়ে যায়, এ ব্যাপারেও র‌্যাব-পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কিছুই জানাতে পারেননি। এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। অথচ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ ব্যাপারে টুঁ শব্দটি করছেন না। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, আন্দোলন দমাতে সরকার সন্ত্রাসীদের কারাগার থেকে ছেড়ে দিচ্ছে।
র‌্যাব-পুলিশ, গোয়েন্দা কেউ কিছু জানেন না। হঠাৎ করে সন্ত্রাসী বিকাশ উধাও হয়ে গেছে, এ কথা বিশ্বাস করছেন না সাধারণ মানুষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী বলছেন, বিকাশের মুক্তিতে সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকালই বিকাশের নামে মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া একজন প্রভাবশালী শিল্পপতি ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার আশীর্বাদ নিয়ে বিকাশ এখন জামাই আদরে রয়েছে। বড় ধরনের কিলিং মিশন সফল করার লক্ষ্যে বিকাশ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যবহার করা হতে পারে বলে একাধিক ব্যবসায়ী আশঙ্কা করছেন। শুধু সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনাই লক্ষ্য নয়, বিকাশের নামে রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, কচুক্ষেত কাফরুল এবং আগারগাঁও এলাকায় মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সোহায়েল বলেছেন, বিকাশ কখন জামিনে বেরিয়ে গেছে তা জানি না। তবে গতকাল এ ব্যাপারে জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, বিকাশ এখন কোথায় আছেন তা জানা নেই। তার বিরুদ্ধে কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কে এই বিকাশ
চারদলীয় জোট সরকার আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর অন্যতম কুখ্যাত সন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাস। ঝিনাইদহ জেলার  কালীগঞ্জ থানার শিবনগর গ্রামের বিমল বিশ্বাসের ছেলে বিকাশ। তার ভাই প্রকাশ কুমার বিশ্বাস ওরফে প্রকাশ বিশ্বাসও তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। চারটি হত্যা মামলাসহ ১২টি মামলা ছিল বিকাশের বিরুদ্ধে। ৭টি মামলায় এর আগে অব্যাহতি পায় সে। অন্যান্য মামলায় জামিনে রয়েছেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কাশিমপুর কারাগার থেকে বিকাশ মুক্তি পান। ১৯৯৭ সালে গাবতলীতে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে জামিনে মুক্তি পায়। তখন কারাগারের গেট থেকেই তাকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। সেই সময় থেকে বিকাশ কারাগারেই ছিল।
একটি সূত্র জানায়, বিকাশকে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও স্থানীয় একজন এমপির নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ কিছুই জানাতে পারেনি। 
২০০১ সালের ২৫ মার্চ সরকার ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামের তালিকা প্রকাশ করে। তাদের মধ্যে কালা জাহাঙ্গীর, প্রকাশ বিশ্বাস, বিকাশ বিশ্বাস, মোল¬øা মাসুদ, সুব্রত বাইন, পিচ্চি হান্নান, আলাউদ্দিন, আগা শামীম ও আমিন রসুল সাগর ওরফে টোকাই সাগরকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা এবং লিয়াকত ও তার ছোট ভাই হান্নানসহ ১২ জনকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালে বর্তমান সরকার ৪২ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর একটি তালিকা তৈরি করেছিল। তাতে নাম ছিল না ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শাহাদাত ও ডাকাত শহীদের। সমালোচনার মুখে ওই তালিকা বাতিল করা হয়। পুরস্কার ঘোষিত সন্ত্রাসীদের মধ্যে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে প্রথম বলি হয় পিচ্চি হান্নান। গণপিটুনিতে মারা যায় আরেক সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন। ঘোষণার সময়ই পিচ্চি হেলাল কারাগারে ছিল। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- খোরশেদ আলম রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু, নাঈম আহমেদ টিটন, ফ্রিডম সোহেল, কিলার আব্বাস, লিয়াকত হোসেন, আরমান ও কামাল পাশা। সাবেক যুবলীগ নেতা লিয়াকতকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধানমন্ডির বাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তবে তাকে  গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করে তার স্বজনরা। পলাতক ১২ জন হলো- আমিন রসুল সাগর ওরফে টোকাই সাগর, জাফর আহমেদ মানিক, কামরুল ইসলাম হান্নান ওরফে জুনিয়র হান্নান, সুব্রত বাইন, মোল¬øা মাসুদ, জব্বার মুন্না, প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, ইমাম হোসেন, হারিস আহমেদ ওরফে হারেস, খন্দকার তানভিরুল ইসলাম জয়, আগা শামীম ও কালা জাহাঙ্গীর। কালা জাহাঙ্গীর মারা গেছে বলে বিভিন্ন মহল প্রচার চালালেও সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন সূত্র তা নিশ্চিত করতে পারেনি। বিদেশে পলাতক এসব সন্ত্রাসীর দেশে ফিরিয়ে আনার কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসীরা ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করে। তানভিরুল ইসলাম জয়কে গ্রেপ্তার করেছিল ভারতীয় পুলিশ। পরে জামিনে বের হয়ে সে ভারত থেকে পালিয়ে অন্য দেশে চলে যায়। সুব্রত বাইন ভারত ও দুবাই যাতায়াত করে। ভারতের জলপাইগুড়িতে মোল¬øা মাসুদ অবস্থান করছে। সেখানে সে বিয়ে করেছে। জাফর আহমেদ মানিক ভারতের আগরতলায় থাকে। আমিনুর রসুল সাগর ওরফে টোকাই সাগর দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে। কিছুদিন আগেও প্রকাশ কুমার বিশ্বাস ভারতে ছিল, তবে বর্তমানে স্থান পরিবর্তন করেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ কালা জাহাঙ্গীর। গত ১০ বছর ধরে সে মারা গেছে নাকি বেঁচে আছে তা কেউ নিশ্চিত করতে পারছে না। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে যুবদল নেতা আমিন রসুল সাগরকে জোট সরকারের আমলে পালিয়ে যেতে সাহায্য করা হয়। আমেরিকায় তার বর্তমান অবস্থান। কানাডায় অবস্থান করছে ইমাম হোসেন। হারিস আহেমদ অবস্থান করছে পাকিস্তানে। তানভিরুল ইসলাম জয় অবস্থান করছে কলকাতায়। জাব্বার মুন্না, জাফর আহমেদ কোথায় অবস্থান করছে সে ব্যাপারে কারও কাছে কোন তথ্য নেই। পুরস্কার ঘোষিত বিদেশে পলাতক এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে খুন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকা- চলছে দিনের পর দিন। দেশের কারাগারে আটক যারা তারাও আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করে। দেশের বাইরে পলাতক ও কারাগারে থাকা এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগীরা গড়ে তুলেছে অনেক উপদল। এসব দলই মাঠপর্যায়ে চাঁদাবাজি করছে। এমনকি সন্ত্রাসবিরোধী স্থানীয় কমিটিতেও থাকছে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা। তবে পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অব্যাহত অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের কর্মকা- কোণঠাসা। এরপরও নাম ভাঙিয়ে এবং নতুন দল গঠন করে অপরাধ কর্মকা-ের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি আছে। এসব সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারও হচ্ছে।  মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে। একের পর এক হত্যা, লুট ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ও জিডি হয়। একপর্যায়ে ভারতে পালিয়ে যায় শাহাদাত। সন্ত্রাসী শাহাদাত এখন ভারতে আত্মগোপনে। শাহাদাতের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ফারুক আহমেদ হেলাল, আলমগীর, আওলাদ হোসেন লাক্কু, রায়হান, রফিক, মাউরা আশিক, রমজান, স্বপন, সেলিম, নাহিদ, মুরগি হোসেন ও ডিশ শাহীন। এছাড়া প্রতিনিয়তই তার বাহিনীতে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন সদস্য। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, শাহাদাত নিয়মিত কলকাতা, দুবাই যাতায়াত করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার সে দেশেও এসেছে এমন কথা শোনা যায়। শাহাদাত গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতার পক্ষ হয়ে কাজও করে। ভারতে গেলে অনেকেই শাহাদাতের অতিথি হয়- এমন অভিযোগ রয়েছে। শাহাদাত বিদেশে বসেই বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছে। তার কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে। যোগাযোগ করা হলে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্তের জন্য অব্যাহত চেষ্টা করে যাচ্ছে র‌্যাব। ডাকাত শহীদের অবস্থান শনাক্তের পর তাকে গ্রেপ্তারের অভিযান চালানোর সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। অন্য শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তাদের সম্পর্কে নিরবচ্ছিন্ন গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে। র‌্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে এখন সন্ত্রাসীর সংখ্যা বেড়েছে। নতুন করে তালিকা তৈরী করে এদের গ্রেফতার করার জন্য কোন ধরনের দিকনির্দেশনাও নেই। বরং র‌্যাবকে দুর্বল করার প্রক্রিয়া চলছে।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়