মামলা নেওয়ার আদেশ সংশোধন কেন বাতিল নয়


নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০২:২১, জুলাই ১৬, ২০১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
র‌্যাবের ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়কসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে নির‌্যাতন ও হত্যার অভিযোগে মামলা নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম। এরপর এই আদেশ সংশোধন করে ‘তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা’ নিতে বলেন জেলা দায়রা জজ আদালত। দায়রা জজ আদালতের আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আবেদনের (বাতিল) প্রাথমিক শুনানির পর এ রুল দেন। ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের শাহনূর আলম নামের এক ব্যক্তিকে নির‌্যাতন করে হত্যার অভিযোগে ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়কসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা র‌্যাবের আরও সাত সদস্যের বিরুদ্ধে বিচারিক হাকিম আদালতে (নবীনগর) নালিশি আবেদন দেন নিহত ব্যক্তির ভাই মেহেদী হাসান।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ এপ্রিল শাহনূরকে র‌্যাব পরিচয়ে একটি দল বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির‌্যাতন করে। ক্যাম্পের অধিনায়ক সাকিব সিদ্দিক রাতে শাহনূরকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। ওই সময় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরদিন জ্ঞান ফিরলে তাঁকে নবীনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে হাজির করে। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। অসুস্থ শাহনূরকে কারাগার থেকে ৪ মে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল ও পরে ৬ মে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিনই শাহনূরের মৃত্যু হয়।
বিচারিক হাকিম আদালত ৪ জুন আবেদনটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন র‌্যাব-১৪-এর এক সদস্য। এই আদালত ৮ জুন এক আদেশে বিচারিক হাকিমের আদেশ সংশোধন করে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। দায়রা জজ আদালতের আদেশের বৈধতা চালেঞ্জ করে গত রোববার হাইকোর্টে আবেদন করেন শাহনূরের ভাই মেহেদী হাসান।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রফিকুল ইসলাম মিয়া ও রফিকুল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তাঁকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোশারফ হোসেন সরদার।
শুনানিকালে আদালত বলেন, আদেশ চ্যালেঞ্জ করার এখতিয়ার র‌্যাব সদস্যের আছে কি? ফৌজদারি মামলার কার্যপদ্ধতি অনুযায়ী, এ রকম আবেদন করার সুযোগ আছে কি? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইন অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট সরাসরি মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন না। তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। এ কারণে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ সংশোধন করে জেলা ও দায়রা জজ আদেশ দিয়েছেন, তা যথার্থ ও সঠিক।
এ সময় আদালত বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আইন কর্মকর্তা আবেদন দিতে পারতেন। জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন আসার আগে দেখা উচিত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আদেশ বেআইনি হয়েছে কি না। আইন অনুযায়ী জেলা জজ আদালত আদেশ দিয়েছেন। ওখানে বেআইনি কিছু হয়নি। তাই এই আবেদন খারিজ হওয়া উচিত।
এরপর আদালত দায়রা জজ আদালতের আদেশ স্থগিত করে রুল দিতে চাইলে মাহবুবে আলম এর বিরোধিতা করে বলেন, র‌্যাব বা পুলিশের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হলে জাতির কাছে কী বার্তা যাবে, তা বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, র‌্যাবকে আসামির কাঠগড়ায় তোলার জন্যই উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ আবেদন করা হয়েছে। আদালত বলেন, ‘আমরা বিষয়টি পরীক্ষা করতে চাচ্ছি। কারও বিরুদ্ধে কোনো বার্তা দিচ্ছি না বা কাউকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাচ্ছি না।’ এরপর আদালত রুল দেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোশারফ হোসেন সরদার প্রথম আলোকে বলেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৮ জুন দেওয়া ওই আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ও প্রতিপক্ষ হিসেবে ওই চারজনকে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়