যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হামাসের


প্রথম আলো ডেস্ক | আপডেট: ০৩:৫৬, জুলাই ১৬, ২০১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
গাজায় গতকালও চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হামলা হয়। বাড়ির ওপর দিয়ে বিমান উড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখছে ফিলিস্তিনি এই শিশু l এএফপিমিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব ভেস্তে যাওয়ায় ফিলিস্তিনি-শাসিত গাজায় রক্তক্ষয় চলছেই। গতকাল মঙ্গলবার মিসরের দেওয়া প্রস্তাবটি ইসরায়েল গ্রহণ করলেও হামাস একে ‘আত্মসমর্পণের’ সমতুল্য আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ছয় ঘণ্টা।
গতকাল দুপুরের পর গাজা উপত্যকায় আবারও বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। চলমান সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেওয়া যুদ্ধবিরতির উদ্যোগে একে একটি বড় আঘাত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপির।
গাজায় ইসরায়েলের টানা আট দিনের প্রায় একতরফা সামরিক অভিযানের পর মিসর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করে। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল নয়টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ইসরায়েল সরকার বেঁধে দেওয়া সময়ের সামান্য আগে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে হামলা বন্ধ করে। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দেয়, হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ না করলে তার জবাব হবে কঠিন। প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের আওতা বাড়ানো হবে। হামাস এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে বলেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এ প্রস্তাব আনা হয়েছে। এটি তাদের জন্য আত্মসমর্পণের সমতুল্য। হামাস পূর্ণাঙ্গ কোনো চুক্তি ছাড়া রকেট হামলা বন্ধ করবে না। এই অবস্থায় গতকাল বেলা তিনটার দিকে ইসরায়েল আবার বিমান হামলা চালানো শুরু হয়।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, ‘আমরা সকাল নয়টায় গাজায় হামলা চালানো বন্ধ করার পর থেকে হামাস ৪৭টি রকেট ছুড়েছে। তাই আমরাও হামাসের বিরুদ্ধে আবার অভিযান শুরু করেছি।’
নতুন করে শুরু করা হামলায় গাজার অন্তত দুটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তবে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
গাজায় আট দিনের ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯২ জনে। আহত হয়েছে হাজারের বেশি, যাদের বেশির ভাগই নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশু। অন্যদিকে ইসরায়েলের পক্ষে মাত্র চারজন নাগরিক আহত হয়েছে।
সংঘাত নিরসনে গত সোমবার কায়রোতে জরুরি বৈঠকে বসেন আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠক শেষে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন ধাপের ওই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়