সাক্ষী জালিয়াতি : পুনর্বিচারের দাবি কাদের মোল্লার স্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»
জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে ‘জালিয়াতি’র অভিযোগ উঠেছে। তদন্তপূর্বক এ মামলার সঠিক ও পুনর্বিচার দাবি করেছেন কাদের মোল্লার পরিবার।
গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি অডিটরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ারা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে সানোয়ারা বেগম বলেন, একমাত্র সাক্ষ্যের (মোমেনা বেগম) ভিত্তিতে আমার স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। সেই মোমেনা বেগম কখনও আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেননি। ক্যামেরা ট্রায়ালের নামে গোপন বিচারে ভুয়া একজন মহিলাকে মোমেনা বেগম সাজিয়ে আদালতে বক্তব্য দেয়ানো হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে জল্লাদখানায় সংরক্ষিত প্রকৃত মোমেনা বেগমের ছবি দেখে আমাদের আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন আদালতে সাক্ষ্য দেয়া মোমেনা বেগম প্রকৃত মোমেনা বেগম ছিলেন না। অথচ এরকম একজন ভুয়া সাক্ষীর তিন জায়গায় প্রদত্ত তিন রকমের বক্তব্যে পরে শুধু তার সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই আমার স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আমরা মনে করি এসব নজিরবিহীন এবং এটি একটি ভুল রায়। আমরা মনে করি সংবিধান প্রদত্ত রিভিউর সুযোগ পেলে সুপ্রিমকোর্টে এসব বিষয় তুলে ধরার মাধ্যমে আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের রায় পাল্টে যাওয়া সম্ভব।
লিখিত বক্তব্যে সানোয়ারা বেগম বলেন, এমতাবস্থায় আমরা সরকার, সুপ্রিমকোর্ট, দেশের সব আইনজীবী, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জনাচ্ছি, যে বিচার প্রক্রিয়া এবং সাক্ষী নিয়ে এতো বড় জালিয়াতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, একজন নির্দোষ মানুষের জীবন বাঁচানোর স্বার্থে এই রিভিউ গ্রহণ করে একটি স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে এই ভয়াবহ জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত করে উদঘাটনপূর্বক মামলার সঠিক এবং পুনর্বিচার করা হোক।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আমরা মনে করি সংবিধান স্বীকৃত রিভিউর অধিকার না দিয়ে এবং জেল কোডের বিধান অনুসরণ না করে তড়িঘড়ি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের যে চেষ্টা করা হচ্ছে তা শুধু অবৈধ নয়, সর্বজনীন মানবাধিকারের ন্যূনতম ধারারও পরিপন্থী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাদের মোল্লার ছেলে হাসান জামিল, মেয়ে আমানাতুন পারভীন, আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন খান প্রমুখ।
১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গত ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এরপর রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ তারসহ সব যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করে । এ আন্দোলনের মুখে সরকার আইন পরিবর্তন করে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিল শুনানি শেষে সুপ্রিমকোর্ট ১৭ সেপ্টেম্বর তার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
গত বৃহস্পতিবার এই রায়ের চূড়ান্ত অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এরপর ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতির স্বাক্ষরের পর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে রেজিস্ট্রার।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়