৫ জানুয়ারি হবে তামাশা প্রতিরোধ দিবস : ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ সফলের আহ্বান : অভিযাত্রা সফল হলে ঘৃণ্য ইতিহাস থেকে জাতি মুক্তি পাবে - বি চৌধুরী : হাসিনার ‘ম্যাড গভর্নমেন্টের’ পতন ঘণ্টা বেজে গেছে - কাজী জাফর : ৫ জানুয়ারি ইলেকশন নয়, সিলেকশন হচ্ছে - ব্যারিস্টার রফিক-উল হক : হাসিনার সরকার ইতিহাসের সবচেয়ে নিম্নমানের স্বৈরাচার - কাদের সিদ্দিকী : ৫ জানুয়ারির পর ক্ষমতায় থাকতে চাইলে হাসিনার পরিণতি হবে ভয়াবহ - আ স ম রব
স্টাফ রিপোর্টার
| « আগের সংবাদ | পরের সংবাদ» |
আগামী ৫ জানুয়ারিকে ‘তামাশা প্রতিরোধ দিবস’ ঘোষণা করে পেশাজীবী সমাবেশে দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্টজনরা বলেছেন, তামাশার এ নির্বাচন প্রতিরোধ করতেই হবে। কারণ এটি ইলেকশন নয়, সিলেকশন। বক্তারা গণতন্ত্র রক্ষায় আগামী ২৯ ডিসেম্বর বিরোধীদলীয় নেত্রীর ঘোষিত ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’র প্রতি পূর্ণ সমর্থন এবং তা সফলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের এ অভিযাত্রা সফল হলে জাতি ঘৃণ্য ইতিহাস থেকে মুক্তি পাবে। শেখ হাসিনার সরকারকে ইতিহাসের সবচেয়ে নিম্নমানের স্বৈরাচার উল্লেখ করে তারা বলেন, ৫ জানুয়ারির পরেও ক্ষমতায় থাকতে চাইলে হাসিনার পরিণতি হবে ভয়াবহ। ওই পরিণতির আগেই প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করে দেশে গণতন্ত্র ও শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তারা।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে পেশাজীবী সমাবেশে দেশের বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, প্রহসনের নির্বাচন স্থগিত, সমঝোতার ভিত্তিতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের দাবিতে’ এ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ। এতে রাজনীতিক, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিত্সক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, আগামী ২৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া যে ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’র ঘোষণা দিয়েছেন এটা হবে গণতন্ত্রের জন্য একটি অভিযাত্রা। এ অভিযাত্রার বিরুদ্ধে সরকারের বক্তব্য দেয়া অত্যন্ত লজ্জাকর। কিন্তু আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড এতোটাই লজ্জাকর যে, লজ্জাও এখন আওয়ামী লীগকে লজ্জা পায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ১৫৪ জনকে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত করেছেন। তখন কী তাদের লজ্জা লাগে না? ২৯ ডিসেম্বরের অভিযাত্রার প্রতি বিকল্প ধারার পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ওই অভিযাত্রায় তার দল অংশ নেবে। দেশবাসীকেও ওই কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, যদি গণতন্ত্রের পথে এ অভিযাত্রা সফল হয়, তবে ঘৃণ্য ইতিহাস থেকে জাতি মুক্তি পাবে। আর যদি সফল না হয় তবে দুর্নীতিবাজদের চিরস্থায়ী করার লজ্জায় আমরা পড়বো। সরকার বাধা দিয়ে এটা রুখতে পারবে না।
৫ জানুয়ারিকে ইতিহাসে ‘তামাশা প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সাবধান হওয়ার সময় হয়েছে। আমি শঙ্কিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কতটুকু থাকবে তা নিয়ে। কারণ, ৫ জানুয়ারি দেশে একটি তামাশা হতে যাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা সবাই ম্যাজিশিয়ান হয়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রী-এমপিরা গত পাঁচ বছরে শতগুণ সম্পদ বাড়িয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা রাজনীতিবিদ থেকে এখন মত্স্যজীবী হয়ে গেছেন। নির্বাচনের হলফনামায় দেশ ও জনগণের সম্পদ লুটের কথা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তারপরও তাদের লজ্জা হয় না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লজ্জা হওয়া উচিত। কারণ, তিনি কাদের মন্ত্রী বানিয়েছেন, সংসদে জায়গা করে দিয়েছেন।
শেখ হাসিনার সরকারকে ‘ম্যাড গভর্নমেন্ট’ উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নবগঠিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ বলেন, এই ম্যাড গভর্নমেন্টের পতন ঘণ্টা ইতিমধ্যে বেজে গেছে। পচনও ধরে গেছে। সরকার শুধু উন্মাদই নয়, তামাশার নির্বাচনের জন্য সরকার ইতিহাসের ‘গিনেজ বুকে’ স্থান পাবে। আগামীর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে তামাশা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে নির্বাচনে ১৫৪ জন জনগণের ভোট ছাড়াই বিজয়ী হয়েছেন। এর মাধ্যমে দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষকে তাদের ভোটারাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শেখ হাসিনার জনগণের সামনে দাঁড়ানোর সাহস নেই জন্যই মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি জায়গায় তিনি নির্বাচন দিতে সাহস পাননি। সরকারের লোকেরা ক্ষমতায় থেকে পাঁচ বছরে ধনকুবের হয়েছে মন্তব্য করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে তারা অঢেল সম্পদের অধিকারী হয়েছে।
আগামী ২৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলের ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’তে জাতীয় পার্টির পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে দেয়া খালেদা জিয়ার বক্তব্য অত্যন্ত মার্জিত, শালীন, ঐতিহাসিক এবং রাষ্ট্রনায়কোচিত। আমরা তার বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। ৫ জানুয়ারির তামাশার নির্বাচন হতে দেয়া হবে না হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বরের আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে। সরকার মানুষের জাগরণ রুদ্ধ করতে পারবে না।
নির্বাচন কমিশনকে মেরুদণ্ডহীন আখ্যা দিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধিক্কার জানাই এই মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশনকে। তারা আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির দলিল উধাও করে দিয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের পাতা থেকে এটা কখনও মোছা যাবে না। এই নির্বাচন কমিশনকে মানুষ ক্ষমা করবে না।
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে সময়ের সাহসী সন্তান উল্লেখ করে কাজী জাফর অবিলম্বে তার এবং গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতাদের মুক্তির দাবি জানান। এরশাদের বিষয়ে তিনি বলেন, পুতুল নাচের নায়ক আটক হয়ে হাসপাতালে বসে গলফ খেলছেন। তিনি সকালে এক কথা বিকালে আরেক কথা বলেন। এখনও তিনি রঙ তামাশা করছেন।
প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে নির্বাচন। কারণ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এরই মধ্যে ১৫৪ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তাই আগামী ৫ জানুয়ারি যে ইলেকশন হতে যাচ্ছে সেটা ইলেকশন নয়, সিলেকশন। তিনি বলেন, এতদিন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা জানতাম ‘ফর দ্যা পিপল, অব দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল। অথচ এখন দেখছি ফর দ্যা আওয়ামী লীগ, বাই দ্যা আওয়ামী লীগ এবং অব দ্যা আওয়ামী লীগ।
নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপিকে আন্দোলন করার জন্য পরামর্শ দিয়ে প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, খালেদা জিয়া তার ভাষণে বলেননি, ২৯ ডিসেম্বর অভিযাত্রার পর কর্মসূচি কী হবে। তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’র ডাক দিয়েছে। কিন্তু তাদের মনে রাখতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই ২৯ ডিসেম্বর তাদের প্রধান দাবি হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নির্বাচন দিন। যদি আপনারা দেশের জন্য কাজ করেন তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলেও আওয়ামী লীগ জয়ী হবে।
শেখ হাসিনার সরকারকে ইতিহাসের সবচেয়ে নিম্নমানের স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ইতিহাসের স্বৈরাচারী সরকারদেরও আপনি হার মানিয়েছেন। ২৪ জানুয়ারির পর ক্ষমতা থেকে সড়ে না দাঁড়ালে আপনি আপনার মন্ত্রী ও চেলাদের অস্তিত্ব বাংলার মাটিতে থাকবে না। দেশ ছেড়ে আপনাদের পালাতে হবে। কারণ লুটেরার জায়গা বাংলাদেশে হতে পারে না। তিনি বলেন, এদেশের মানুষ আর আপনাকে সহ্য করবে না। তারা আর এক মুহূর্তও আপনাকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
নির্বাচনের আগেই ১৫৪ জন প্রার্থীর বিজয় বিয়ের আগেই সন্তান প্রসবের শামিল মন্তব্য করে মুক্তিযুদ্ধের এই অন্যতম সংগঠক বলেন, এটা দেখে সারাবিশ্ব ছি ছি করছে। জনসাধারণের উদ্দেশে কাদের সিদ্দিকী বলেন, নিষ্ঠার সঙ্গে আন্দোলন করলে জয় অবশ্যম্ভাবী।
বেগম খালেদা জিয়া আগামী ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’তে সারাদেশ থেকে গণতন্ত্রকামী মানুষদের জাতীয় পতাকা হাতে ঢাকায় আসার আহ্বানকে যথার্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার দেশকে দোজখে পরিণত করেছে। আর খালেদা জিয়া যদি এই দোজখ থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারেন তাহলে আল্লাহ তার পূর্বের ভুল ক্ষমা করে দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে দেশের অশান্তি অর্ধেক কমে যাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি তো এদেশের নাগরিক না, এদেশে আপনার কেউ থাকে না। এক সময় আপনিও এদেশে থাকবেন না।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, বাংলাদেশ আজ বিপর্যয়ের মুখে। স্বাধীনতা আছে কিন্তু সার্বভৌমত্ব থাকবে কি না সেটাই আজ প্রশ্ন। সারাদেশ আজ জ্বলছে কিন্তু ঢাকা থেকে দেখে সেটা বোঝা যাবে না। সারাদেশের জনগণের ওপর অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে, গুলি করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা-মেহেরপুরের গ্রামে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। এটা কোন স্বাধীন দেশ, এদেশের জন্যই কি আমরা যুদ্ধ করেছিলাম? এটা জাতিকে রক্ষার জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা নয়, এটা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার ষড়যন্ত্র। তিনি সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারির পর ক্ষমতায় থাকতে চাইলে শেখ হাসিনার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
তিনি সরকারকে প্রশ্ন রাখেন আপনারা বলছেন, বিরোধী দল বোমা মারছে, সন্ত্রাস করছে, মানুষ মারছে তাহলে গুলি করছে কারা? প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচন বাতিল করুন, পদত্যাগ করুন। আপনাদের নির্বাচন জগাখিচুড়ি হয়ে গেছে। এই নির্বাচন জাতির স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে। আত্মঘাতী এই সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে জনগণ কঠিন দুর্ভোগে পড়বে।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এক বিচারপতির রায়ের কারণে সারাদেশ আজ জ্বলছে। এর দায় তাকে নিতেই হবে। সরকার এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষের কথা বলে জাতিকে বিভক্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশ আজ বাকরুদ্ধ। কিছু বললেই আদালত অবমাননার বিপদ আসছে। তিনি বলেন, আমার দেশ সম্পাদক কি অন্যায় করেছেন যে তাকে বিনা বিচারের প্রায় এক বছর ধরে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে? আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমানের মামলা নিয়ে গেলেই বিচারকরা বিব্রতবোধ করেন, সেটা আর আদালতে ওঠে না। এটা কোন দেশ? তিনি বলেন, দেশে বর্তমান সঙ্কট সৃষ্টি করেছে বিচার বিভাগ। তাই বিচার বিভাগকেই সুয়োমোটো রুল দিয়ে সঙ্কটের সমাধান করতে হবে।
সভাপতির বক্তৃতায় সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী বলেন, দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এদেশে আইয়ুব-ইয়াহিয়া টিকে থাকতে পারেনি, শেখ হাসিনাও পারবে না। শেখ হাসিনার পতন, বন্ধ গণমাধ্যম চালু, সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি, সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত পেশাজীবীরা ঘরে ফিরে যাবে না।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা আগামী ২৯ ডিসেম্বর যে ঢাকা অভিযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন এটা শুধু বিএনপি কিংবা ১৮ দলের কর্মসূচি নয়, দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটারাধিকার প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার। তাই সবাইকে তিনি ওই আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, গোটা বিশ্ব আজ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ সরকার মানুষের অধিকার ভূলুণ্ঠিত করেছে। তাই শুধু নির্দলীয় সরকার নয়, সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি, বন্ধ গণমাধ্যম চালু, সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হলে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সে নির্বাচন সাংবাদিকরা হতে দেবে না।
পেশাজীবী এ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক সচিব ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনাম আহমেদ চৌধুরী, চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এ্যাব) ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেন পিইঞ্জ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী হারুন-অর রশিদ, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি ডা. এ কে এম আজিজুল হক ও যুগ্ম মহাসচিব ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুইয়া, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (আইইবি) সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মিয়া মো. কাইয়ুম, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) ভারপ্রাপ্ত আহ্বাক অধ্যাপক ড. আবদুল আজিজ, মহাসচিব অধ্যাপক তাহমিনা আক্তার টফি, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন, কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, প্রকৌশলী এ কে এম জহিরুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন প্রমুখ।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে পেশাজীবী সমাবেশে দেশের বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, প্রহসনের নির্বাচন স্থগিত, সমঝোতার ভিত্তিতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের দাবিতে’ এ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ। এতে রাজনীতিক, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিত্সক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, আগামী ২৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া যে ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’র ঘোষণা দিয়েছেন এটা হবে গণতন্ত্রের জন্য একটি অভিযাত্রা। এ অভিযাত্রার বিরুদ্ধে সরকারের বক্তব্য দেয়া অত্যন্ত লজ্জাকর। কিন্তু আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড এতোটাই লজ্জাকর যে, লজ্জাও এখন আওয়ামী লীগকে লজ্জা পায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ১৫৪ জনকে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত করেছেন। তখন কী তাদের লজ্জা লাগে না? ২৯ ডিসেম্বরের অভিযাত্রার প্রতি বিকল্প ধারার পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ওই অভিযাত্রায় তার দল অংশ নেবে। দেশবাসীকেও ওই কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, যদি গণতন্ত্রের পথে এ অভিযাত্রা সফল হয়, তবে ঘৃণ্য ইতিহাস থেকে জাতি মুক্তি পাবে। আর যদি সফল না হয় তবে দুর্নীতিবাজদের চিরস্থায়ী করার লজ্জায় আমরা পড়বো। সরকার বাধা দিয়ে এটা রুখতে পারবে না।
৫ জানুয়ারিকে ইতিহাসে ‘তামাশা প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সাবধান হওয়ার সময় হয়েছে। আমি শঙ্কিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কতটুকু থাকবে তা নিয়ে। কারণ, ৫ জানুয়ারি দেশে একটি তামাশা হতে যাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা সবাই ম্যাজিশিয়ান হয়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রী-এমপিরা গত পাঁচ বছরে শতগুণ সম্পদ বাড়িয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা রাজনীতিবিদ থেকে এখন মত্স্যজীবী হয়ে গেছেন। নির্বাচনের হলফনামায় দেশ ও জনগণের সম্পদ লুটের কথা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তারপরও তাদের লজ্জা হয় না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লজ্জা হওয়া উচিত। কারণ, তিনি কাদের মন্ত্রী বানিয়েছেন, সংসদে জায়গা করে দিয়েছেন।
শেখ হাসিনার সরকারকে ‘ম্যাড গভর্নমেন্ট’ উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নবগঠিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ বলেন, এই ম্যাড গভর্নমেন্টের পতন ঘণ্টা ইতিমধ্যে বেজে গেছে। পচনও ধরে গেছে। সরকার শুধু উন্মাদই নয়, তামাশার নির্বাচনের জন্য সরকার ইতিহাসের ‘গিনেজ বুকে’ স্থান পাবে। আগামীর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে তামাশা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে নির্বাচনে ১৫৪ জন জনগণের ভোট ছাড়াই বিজয়ী হয়েছেন। এর মাধ্যমে দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষকে তাদের ভোটারাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শেখ হাসিনার জনগণের সামনে দাঁড়ানোর সাহস নেই জন্যই মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি জায়গায় তিনি নির্বাচন দিতে সাহস পাননি। সরকারের লোকেরা ক্ষমতায় থেকে পাঁচ বছরে ধনকুবের হয়েছে মন্তব্য করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে তারা অঢেল সম্পদের অধিকারী হয়েছে।
আগামী ২৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলের ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’তে জাতীয় পার্টির পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে দেয়া খালেদা জিয়ার বক্তব্য অত্যন্ত মার্জিত, শালীন, ঐতিহাসিক এবং রাষ্ট্রনায়কোচিত। আমরা তার বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। ৫ জানুয়ারির তামাশার নির্বাচন হতে দেয়া হবে না হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বরের আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে। সরকার মানুষের জাগরণ রুদ্ধ করতে পারবে না।
নির্বাচন কমিশনকে মেরুদণ্ডহীন আখ্যা দিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধিক্কার জানাই এই মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশনকে। তারা আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির দলিল উধাও করে দিয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের পাতা থেকে এটা কখনও মোছা যাবে না। এই নির্বাচন কমিশনকে মানুষ ক্ষমা করবে না।
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে সময়ের সাহসী সন্তান উল্লেখ করে কাজী জাফর অবিলম্বে তার এবং গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতাদের মুক্তির দাবি জানান। এরশাদের বিষয়ে তিনি বলেন, পুতুল নাচের নায়ক আটক হয়ে হাসপাতালে বসে গলফ খেলছেন। তিনি সকালে এক কথা বিকালে আরেক কথা বলেন। এখনও তিনি রঙ তামাশা করছেন।
প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে নির্বাচন। কারণ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এরই মধ্যে ১৫৪ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তাই আগামী ৫ জানুয়ারি যে ইলেকশন হতে যাচ্ছে সেটা ইলেকশন নয়, সিলেকশন। তিনি বলেন, এতদিন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা জানতাম ‘ফর দ্যা পিপল, অব দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল। অথচ এখন দেখছি ফর দ্যা আওয়ামী লীগ, বাই দ্যা আওয়ামী লীগ এবং অব দ্যা আওয়ামী লীগ।
নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপিকে আন্দোলন করার জন্য পরামর্শ দিয়ে প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, খালেদা জিয়া তার ভাষণে বলেননি, ২৯ ডিসেম্বর অভিযাত্রার পর কর্মসূচি কী হবে। তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’র ডাক দিয়েছে। কিন্তু তাদের মনে রাখতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই ২৯ ডিসেম্বর তাদের প্রধান দাবি হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নির্বাচন দিন। যদি আপনারা দেশের জন্য কাজ করেন তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলেও আওয়ামী লীগ জয়ী হবে।
শেখ হাসিনার সরকারকে ইতিহাসের সবচেয়ে নিম্নমানের স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ইতিহাসের স্বৈরাচারী সরকারদেরও আপনি হার মানিয়েছেন। ২৪ জানুয়ারির পর ক্ষমতা থেকে সড়ে না দাঁড়ালে আপনি আপনার মন্ত্রী ও চেলাদের অস্তিত্ব বাংলার মাটিতে থাকবে না। দেশ ছেড়ে আপনাদের পালাতে হবে। কারণ লুটেরার জায়গা বাংলাদেশে হতে পারে না। তিনি বলেন, এদেশের মানুষ আর আপনাকে সহ্য করবে না। তারা আর এক মুহূর্তও আপনাকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
নির্বাচনের আগেই ১৫৪ জন প্রার্থীর বিজয় বিয়ের আগেই সন্তান প্রসবের শামিল মন্তব্য করে মুক্তিযুদ্ধের এই অন্যতম সংগঠক বলেন, এটা দেখে সারাবিশ্ব ছি ছি করছে। জনসাধারণের উদ্দেশে কাদের সিদ্দিকী বলেন, নিষ্ঠার সঙ্গে আন্দোলন করলে জয় অবশ্যম্ভাবী।
বেগম খালেদা জিয়া আগামী ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’তে সারাদেশ থেকে গণতন্ত্রকামী মানুষদের জাতীয় পতাকা হাতে ঢাকায় আসার আহ্বানকে যথার্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার দেশকে দোজখে পরিণত করেছে। আর খালেদা জিয়া যদি এই দোজখ থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারেন তাহলে আল্লাহ তার পূর্বের ভুল ক্ষমা করে দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে দেশের অশান্তি অর্ধেক কমে যাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি তো এদেশের নাগরিক না, এদেশে আপনার কেউ থাকে না। এক সময় আপনিও এদেশে থাকবেন না।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, বাংলাদেশ আজ বিপর্যয়ের মুখে। স্বাধীনতা আছে কিন্তু সার্বভৌমত্ব থাকবে কি না সেটাই আজ প্রশ্ন। সারাদেশ আজ জ্বলছে কিন্তু ঢাকা থেকে দেখে সেটা বোঝা যাবে না। সারাদেশের জনগণের ওপর অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে, গুলি করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা-মেহেরপুরের গ্রামে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। এটা কোন স্বাধীন দেশ, এদেশের জন্যই কি আমরা যুদ্ধ করেছিলাম? এটা জাতিকে রক্ষার জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা নয়, এটা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার ষড়যন্ত্র। তিনি সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারির পর ক্ষমতায় থাকতে চাইলে শেখ হাসিনার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
তিনি সরকারকে প্রশ্ন রাখেন আপনারা বলছেন, বিরোধী দল বোমা মারছে, সন্ত্রাস করছে, মানুষ মারছে তাহলে গুলি করছে কারা? প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচন বাতিল করুন, পদত্যাগ করুন। আপনাদের নির্বাচন জগাখিচুড়ি হয়ে গেছে। এই নির্বাচন জাতির স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে। আত্মঘাতী এই সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে জনগণ কঠিন দুর্ভোগে পড়বে।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এক বিচারপতির রায়ের কারণে সারাদেশ আজ জ্বলছে। এর দায় তাকে নিতেই হবে। সরকার এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষের কথা বলে জাতিকে বিভক্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশ আজ বাকরুদ্ধ। কিছু বললেই আদালত অবমাননার বিপদ আসছে। তিনি বলেন, আমার দেশ সম্পাদক কি অন্যায় করেছেন যে তাকে বিনা বিচারের প্রায় এক বছর ধরে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে? আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমানের মামলা নিয়ে গেলেই বিচারকরা বিব্রতবোধ করেন, সেটা আর আদালতে ওঠে না। এটা কোন দেশ? তিনি বলেন, দেশে বর্তমান সঙ্কট সৃষ্টি করেছে বিচার বিভাগ। তাই বিচার বিভাগকেই সুয়োমোটো রুল দিয়ে সঙ্কটের সমাধান করতে হবে।
সভাপতির বক্তৃতায় সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী বলেন, দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এদেশে আইয়ুব-ইয়াহিয়া টিকে থাকতে পারেনি, শেখ হাসিনাও পারবে না। শেখ হাসিনার পতন, বন্ধ গণমাধ্যম চালু, সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি, সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত পেশাজীবীরা ঘরে ফিরে যাবে না।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা আগামী ২৯ ডিসেম্বর যে ঢাকা অভিযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন এটা শুধু বিএনপি কিংবা ১৮ দলের কর্মসূচি নয়, দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটারাধিকার প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার। তাই সবাইকে তিনি ওই আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, গোটা বিশ্ব আজ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ সরকার মানুষের অধিকার ভূলুণ্ঠিত করেছে। তাই শুধু নির্দলীয় সরকার নয়, সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি, বন্ধ গণমাধ্যম চালু, সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হলে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সে নির্বাচন সাংবাদিকরা হতে দেবে না।
পেশাজীবী এ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক সচিব ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনাম আহমেদ চৌধুরী, চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এ্যাব) ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেন পিইঞ্জ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী হারুন-অর রশিদ, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি ডা. এ কে এম আজিজুল হক ও যুগ্ম মহাসচিব ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুইয়া, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (আইইবি) সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মিয়া মো. কাইয়ুম, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) ভারপ্রাপ্ত আহ্বাক অধ্যাপক ড. আবদুল আজিজ, মহাসচিব অধ্যাপক তাহমিনা আক্তার টফি, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন, কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, প্রকৌশলী এ কে এম জহিরুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন প্রমুখ।
Comments