হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতি : কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রক্রিয়া বন্ধ করুন, মামলাটি প্রতারণা আর সমস্যায় জর্জরিত


ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»
ন্যায়বিচার নিয়ে ‘সমস্যা’ থাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রক্রিয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গতকাল এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ থাকায় কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে তার আপিল করার সুযোগ থাকতে হবে।’
সংস্থার এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ‘অপরিবর্তনীয়, অবমাননাকর ও নির্মম বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সর্বাবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী। বিশেষ করে যেখানে ভূতাপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করে ফাঁসি নিশ্চিত করা হয় এবং যেখানে এ ধরনের চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি থাকে না সেখানে এটি ঘৃণ্যকাজ।’
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সবক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও আবদুল কাদের মোল্লার এই সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছে সরকার। অথচ যে কোনো সাজার বিরুদ্ধেই উচ্চতর আদালতে আপিল করার সুযোগ থাকতে হবে।
ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ‘ভূতাপেক্ষ আইনে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া এবং তারপর তার আপিল করার সুযোগকে অস্বীকার করার তার মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।’
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন বলেছে, যেখানে মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা থাকে সেখানে সুবিবেচনার সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই অন্যায় বিচারের পর কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের লঙ্ঘন।
বাংলাদেশের সংবিধানেই ভূতাপেক্ষ আইনে বিচার থেকে অভিযুক্তদের সুরক্ষার বিধান ছিল। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে সেটি তুলে নেয়া হয়। আইনের সেই সংশোধনীটি বাদ দেয়ার জন্য হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতারণা আর সমস্যায় জর্জরিত একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর আপিল করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, সংবিধানের ওই সংশোধনীটি বাতিল করা কতটা জরুরি ছিল।’
ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ‘বিচার দরকার তবে ভিকটিমদের স্বার্থেই এ বিচারকে কলঙ্কিত করা ঠিক হবে না।’
বিবৃতিতে বলা হয়, কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগের এ কারণে যে, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে যে মামলায় খালাস দিয়েছে আপিল আদালত তাকে সেই মামলায়ই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কোনো পক্ষ নিচ্ছে না। তবে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই বিচার করতে হবে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আইন করে কাউকে ফাঁসিতে ঝুলানো যায় না।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়