রক্তের গ্রুপ জেনে নেওয়া উচিৎ

http://www.shobdoneer.com/rkkoushik/58744


বিয়ের আগে রক্তের গ্রুপ জেনে নেওয়ার প্রবণতা আমাদের দেশে নেই বললেই চলে। এছাড়াও প্রেমঘটিত বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীদের সেন্টিমেন্টের কাছে এসব ব্যাপার ধোপেই টিকে না। তাই এ পোস্টটি লিখা, তবে তার আগে কিছু প্রাসংগিক কথা বলে নেয়া দরকার।
মানুষের রক্তের গ্রুপে প্রধান দুইটি ব্যপার থাকে:
১. A /B / AB/ O.(ক্লাসিক্যাল গ্রুপিং)
২. (+)ve /(-)ve.( Rh গ্রুপিং)
তাহলে সামগ্রিকভাবে একজন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ব্লাড গ্রুপ দাঁড়াচ্ছে [A(+)ve /B(+)ve / AB(+)ve /O(+)ve] অথবা [A(-)ve /B(-)ve /AB(-)ve /O(-)ve]
এখন ধরা যাক, পাত্রের ব্লাড গ্রুপ (+)ve, আর পাত্রীর ব্লাড গ্রুপ (-)ve.
* তাদের প্রথম সন্তানের ভ্রূণের ব্লাড গ্রুপ যদি (+)ve হয়, তাহলে গর্ভাবস্থায় মায়ের দেহে এক ধরণের এন্টিবডি তৈরি হয়, যা ভ্রূণের লাল রক্তকণিকাগুলোকে ভেঙে ফেলে। তবে এই এন্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াটি ধীরগতিতে হয় বলে প্রথম সন্তানের ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকে।
* দ্বিতীয় সন্তানের ভ্রূণের ব্লাড গ্রুপও যদি (+)ve হয়, তাহলে মায়ের রক্তে পূর্বেসৃষ্ট এন্টিবডির প্রভাবে ভ্রূণ মারাত্মক জটিলতায় আক্রান্ত হয়, যার নাম “ইরাইথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস”। এর ফলে জন্মের পর বাচ্চা জন্ডিস এবং মারাত্মক রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হয়। এছাড়াও “কারনিক্টেরাস” এবং “হাইড্রপ্স ফিটালিস”-এ আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা ভ্রূণাবস্থায় মারা যেতে পারে।
* তবে ভ্রূণ যদি (-)ve ব্লাড গ্রুপধারী হয়, তাহলে এধরণের কোন সমস্যা হবে না।
* এখন বাজারে Anti-D ইঞ্জেকশন পাওয়া যায়, যা প্রথম সন্তান জন্মের ৭২ ঘন্টার মধ্যে মায়ের শরীরে পুশ করলে পরবর্তী সন্তান ঝুঁকিমুক্ত থাকে।
* তবে সুখের কথা হচ্ছে, এশিয়ানদের মধ্যে (-)veব্লাড গ্রুপ প্রায় দুর্লভ(৫%)।
* আবারো বলছি, বাবা যদি (+)ve আর মা যদি (-)ve ব্লাড গ্রুপধারী হন, তবেই এই জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
[Concept: Samson Wright's Applied Physiology]
রেটিং করুন:
Rating: 5.0/5 (1 vote cast)
Rating: 0 (from 0 votes)
রক্তের গ্রুপ জেনে নেওয়া উচিৎ5.0 out of 5 based on 1 rating
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৪ টি মন্তব্য (লেখকের ০টি) | ৪ জন মন্তব্যকারী

  1. তানভীর আহমেদ তালুকদার : ০২-০২-২০১৪ | ১৬:২৭ |
    জেনে উপকৃত হলাম
  2. মুরুব্বী : ০২-০২-২০১৪ | ২৩:৩৬ |
    গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জেনে রাখা সবার জন্য মঙ্গলকর।
  3. মাহবুব আলী : ০৩-০২-২০১৪ | ৮:২৯ |
    Very Important issue indeed. Many many thanks.

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়