মস্তিষ্ক ভালো রাখুন |

 প্রকাশের সময় : ২০১৫-০৪-০৮ Share on -  2       
মানব মস্তিস্ক এক বিচিত্র রহস্যের আধার। হাত, পা, চোখ, নাক, খারাপ বলে দৃশ্যত বুঝা যায়। কিন্তু মস্তিষ্কের ক্ষতি হলে তা তেমনিভাবে দৃশ্যমান হয়। ক্ষতির প্রভাবটা পড়তে দেরি হয়। শরীরের অন্যসব অঙ্গ-প্রতঙ্গ নিয়ে আমরা যতটা ভাবি। যতটা যতœ নেই। ঠিক ততোটা ভাবি না মস্তিষ্ক নিয়ে। মস্তিষ্কের যতœ তেমন নেই না। চলছে তো! মাথাটা থাকলেই হলো। ভাবখানা এমন। একটু সচেতনতা। খাদ্যাভাসে পরিবর্তন। বৃদ্ধি পেতে পারে মস্তিষ্কের ক্ষমতা। বাড়তে পারে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী শক্তি। আবার অযতœ-অবহেলায় কমে যেতে পারে বুদ্ধি। ক্রমেই পরিণত হতে পারেন বুদ্ধিহীন মানুষে। মস্তিষ্কের যতœ নেয়া জরুরি। ব্যায়াম করুন : প্রতিদিন ৪০-৪৫ মিনিট হাঁটুন। শরীর থেকে ঘাম ঝড়ান। সকালে কেন, রাতে হাঁটলে ক্ষতি নেই। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবারহ বাড়বে। কাজের মাঝে লম্বা করে শ্বাস নিন। একটানা নয়। একটু বিরতি দিয়ে কাজ করুন। সম্প্রতি স্টামফোর্ড স্কুল অব মেডিসিনের এক সমীক্ষার ফলাফলে বলা হয়েছে, যারা হাঁটাহাঁটি (জগিং) করেন তারা যারা জগিং করে না তাদের চেয়ে বেশিদিন বাঁচেন। কম আলোতে কিছু পড়বেন না। কর্মস্থলে পর্যাপ্ত আলো আছে কিনা দেখে নিন। কম্পিউটারের কালার ঠিক করে নিন। বেশি কিংবা অনুজ্জ্বল না হয় মনিটর। অ্যান্টি এক্সিডেন্ট : সুস্থ সবল মস্তিষ্কের জন্য চাই বিপুল অ্যান্টি এক্সিডেন্ট। সবুজ শাক সবজিÑ পালং শাক, ব্লু বেরি, স্ট্রবেরি, শিম। ফলমূলÑ কমলা, আপেল, পেয়ালা, আমলকি, জলপাই, দুধ, কলিজা ইত্যাদি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার। হলুদ : হলুদের অনেক ব্যবহার। বিয়েতে গায়ে হলুদ। হলুদের সাথে মধু মিশিয়ে রূপচর্চা। আবার রান্নায় হলুদ ব্যবহার। হলুদে আছে কারকুমিন। কারকুমিন বার্ধক্যকালীন রোগ আলজেইমা হবার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। ওমেগা ৩ : ওমেগা হচ্ছে এক ধরনের পলিআনস্যাটুরেটেড ফ্যাটি এসিড। ওমেগা শরীর উৎপন্ন করে না। তাই খাবার খেয়ে এটি সংগ্রহ করতে হয়। সামুদ্রিক মাছ (হ্যালিবাট, টুনা, সারডিন্যাস, স্যামন), ইলিশ, রূপচাঁদা, পাঙ্গাস মাছ, বাদাম, অলিভঅয়েল ইত্যাদি খাবারে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। মাছে ভাতে বাঙালি। মাছ না হলে বাঙালির আহারে তৃপ্তি আসে নাকি? তাই মাছ খাবার কারণে বাংলাদেশে বিষণœতায় ভোগা রোগীর সংখ্যা কম। প্রসঙ্গত ওমেগা ৩-এর অভাবে বিষণœতার সৃষ্টি হতে পারে। ফলিক এসিড : ফলিক এসিড মস্তিষ্কের সুস্থতা, সুরক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশের জন্য জরুরি। ওষুধ নয়। শাকসবজি, কমলার রস থেকে ফলিক এসিড সংগ্রহ করা যায়। ফাস্ট ফুড : ফাস্ট ফুড কম করে খান। না খেলে আরো ভালো। পিজা, বার্গার, হট ডগ, চিকেন ফ্রাই, পেস্ট্রি, কেক, হোটেলের বাসি তেলে ভাজা মোগলাই, চপ ইত্যাদি খাবারে রয়েছে ট্রান্স ফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট। স্যাচুরেটেড ফ্যাট মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। নিঃসন্দেহে মজার। তারপরও ফাস্ট ফুড পরিহার করার বিকল্প নেই। যদি সুস্থ থাকতে চান। একদিনে হয় না, হবেও না। ধীরে ধীরে কমিয়ে দিন। চিনিযুক্ত সফট ড্রিংকস, সেটা যত মধুর নামেরই হোক না কেন। ওবেসিটি বাড়ায়। মোটা হবার অন্যতম কারণ সফট ড্রিংকস পান। সাহিত্য পাঠ করুন : গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী, আত্মজীবনী যাই হোক না কেন। কম হলেও পাঠ করুন। আটলান্টার ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, সাহিত্য পাঠ মস্তিষ্ককে বেশি কর্মক্ষম করে তোলে। তাই কেবল বিনোদন নয়। সাহিত্য পাঠ মস্তিষ্কের জন্য উপকারী হতে পারে। গ্রিন টি: গ্রিন টি মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষক বেসেলের মতে, গ্রিন টি পানে মস্তিষ্কের কার্যকরী সংযোগ বাড়ে। মস্তিষ্কের স্বল্প মেয়াদী তথ্যবহুল নমনীয়তা বাড়ে। এক সাথে একাধিক কাজ নয় : একাধারে একটি কাজ করুন। অনেকগুলো কাজ এক সাথে করতে যাবেন না। এতে মস্তিষ্কের উপর চাপ পড়ে। ফলে কোনটাই সুষ্ঠুভাবে না হবার সম্ভাবনা প্রবল। ইতিবাচক চিন্তা নিয়ে কাজ করুন। কতটুকু হবে বা না হবে, তা পরের ব্যাপার। আগে থেকেই নেগেটিভ চিন্তা কাজের উৎসাহ কমিয়ে দিতে পারে। প্যারাসিটামলকে না বলুন : গা একটু গরম। অমনি কয়েকটা প্যারাসিটামল খেয়ে নিলেন। ঘরের ছোট্ট শিশুটিকেও খাইয়ে দিলেন। এমন প্যারাসিটামল প্রীতি যাদের, তাদের জন্য দুঃসংবাদ। উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, প্যারাসিটামল শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে বাধার সৃষ্টি করে। এমনটি গর্ভস্থ ভ্রƒণের মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। ভিটামিন বি : ভিটামিন বি-এর অভাব হলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ক্ষমতা লোপ পায়। কাজু বাদাম, স্পিরুলিনা (গভীর সমুদ্রের শ্যাওলা), ওট, চিয়া সিড, কলা, স্কোয়াশ, মিষ্টি আলু, পালংশাক, বাদামের মাখন, ছোলা, আলমন্ড মিল্ক, আসপারাগাস, ইস্ট, ওয়ালনাট, টমেটো, সবুজ শাকসবজি ভিটামিন বি-এর অন্যতম উৎস। ঘুম : কথায় বলে ঘুম ভালো যার, সব ভালো তার। অতিরিক্ত ঘুমে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে। আবার কম ঘুমও ভালো নয়। গবেষক মাইকেল মিলারের মতে, প্রতি রাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন যদি আপনি সুস্থ মস্তিষ্কের গর্বিত মালিক হতে চান। ৮ ঘণ্টার বেশি এবং ৬ ঘণ্টার কম ঘুম ভালো নয়। পরিমিত ঘুম উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ইত্যাদি রোগ থেকেও রক্ষা করে। (তথ্য সূত্র : ইন্টারনেট) মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক সুবাস্তু জেনিম প্লাজা বাড়ি # ৩৬ , রোড নং # ২৭ ধানমন্ডি ঢাকা-১২০৯। মোবা : ০১৭১৫৩৬৪২০৩ ঝধভরয়৬৯@মসধরষ.পড়স - See more at: 

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়