গরম পড়েছে, তাই পানি ও খাবারে সতর্ক হোন


আপডেট:  | প্রিন্ট সংস্করণ
গরম আর বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। রাজধানীতে ইতিমধ্যে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন রোগজীবাণুই পানিবাহিত রোগের জন্য দায়ী। অনেক সময় গরমে খাবার পচে বিষক্রিয়া হতে পারে। এ কারণেও রোগ সৃষ্টি হয়।
কলেরা, রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হলে পাতলা পায়খানা হয়। সঙ্গে পেট ব্যথা থাকতে পারে, কিন্তু জ্বর হয় না। তবে এতে শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দেয়। চোখ ভেতরে বসে যাওয়া, গলা ও জিব শুকিয়ে আসা, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো পানিশূন্যতার লক্ষণ। প্রস্রাবের পরিমাণও কমে যেতে পারে। আবার শিগেলা, এন্টামিবা সংক্রমণে পাতলা পায়খানা বা পিচ্ছিল পায়খানার সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। সেই সঙ্গে জ্বর, প্রচণ্ড পেট কামড়ানো বা বারবার পেট মুচড়ে মলত্যাগ হতে পারে। বাইরের কোনো খাবার গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পেটব্যথা, জ্বর, বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে ফুড পয়জনিং হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। এ ছাড়া দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে হেপাটাইটিস ‘এ’ ও হেপাটাইটিস ‘ই’ এবং টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েডের মতো জটিল অসুখ হতে পারে। এসব সমস্যা এড়াতে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন:
* বাইরের খোলা খাবার, অনিরাপদ পানি, রাস্তার দোকানের শরবত, আখের রস ইত্যাদি এড়িয়ে চলবেন। বাইরে বেরোনোর সময় বাসা থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি বহন করুন।
* বাড়িতেও খাবার দূষিত হতে পারে। কাঁচা শাকসবজি খুব ভালো করে ধুতে হবে। কাঁচা ফলমূল ও সালাদ প্রয়োজনে একবার বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে নিয়ে তারপর খান। শিশুদের খাওয়ানোর চামচ, বাটি ইত্যাদি বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
* বাড়িতে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনে যারা জড়িত, তাদের পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোযোগ দিন।
* খাওয়ার পানি ভালো করে ফুটিয়ে তারপর ঠান্ডা করে পরিষ্কার পাত্রে সংরক্ষণ করুন। ফুটানো পানি দুই দিনের মধ্যে পান না করা হলে ফেলে দিন।
ডা. আ ফ ম হেলালউদ্দিন
মেডিসিন বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ

মেডিসিন বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়