দাঁত সুস্থ রাখতে যা করবেন


মাহফুজ রহমান | আপডেট: 
সুন্দর হাসির জন্য সুস্থ দাঁত। মডেল: সাবিলা নূর, ছবি: প্রথম আলোখাবার যত সুস্বাদুই হোক না কেন, দাঁত সুস্থ না থাকলে খেয়ে মজা নেই। আবার এমন খাবারও খাওয়া উচিত নয়, যা দাঁতের বারোটা বাজিয়ে দেয়। কাজেই দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাবার-দাবার একটু বেছে নেওয়াই ভালো। দাঁত সুস্থ রাখতে যা যা করতে পারেন, তা এখানে তুলে ধরা হলো:
১. এমন খাবার না খাওয়াই ভালো, যা খেলে দাঁতের ‘অমর্যদা’ হয়! তাই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন। ব্ল্যাক টি, রেড ওয়াইনজাতীয় পানীয়কে ‘না’ বলুন। ধূমপা তো আপনার সাদা দাঁত হলদেটে বানানোর জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়া কোমলপানীয়, চাটনি, সয়া সস এবং ঘন জুসও দাঁতের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। 
২. চেঞ্জ উই নিড—প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এটাই ছিল বারাক ওবামার মূলমন্ত্র। আপনার টুথব্রাশের বেলায়ও এই মূলমন্ত্র প্রয়োগ করুন। ব্রাশের বয়স দু-তিন মাস হলেই সেটাকে অবসরে পাঠান। না হলে সেই ব্রাশই আপনার মুখে ছড়িয়ে দেবে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত মাজার সময় মুখের ভেতর ব্রাশ রাখতে হবে ৪৫ ডিগ্রি কোণে। শরীরের সব শক্তি দিয়ে ঘষলেই দাঁত পরিষ্কার হয় না। ফলে দাঁতের সঙ্গে কুস্তি না লড়ে আস্তে-ধীরে মাজুন। ব্রাশ ধরুন ঠিক পেনসিল যেভাবে ধরা হয়। 
৩. ‘যার মুখে গন্ধ, তার ভোট বন্ধ’—এমন একটা স্লোগান শোনা যায় দাঁতের মাজনের বিজ্ঞাপনে। বিজ্ঞাপনের বাণী ফেলনা নয়। মুখে দুর্গন্ধ মানেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া। জিব পরিষ্কার না থাকা এর অন্যতম কারণ। তাই প্রতি সকালে জিব পরিষ্কার করুন। এর জন্য টুথব্রাশ ব্যবহারের চেয়ে স্ক্র্যাপার ব্যবহার করাই ভালো। 
৪. ‘ডিটারজেন্ট’ খাবার খান! আঁতকে ওঠার কোনোই কারণ নেই। ডিটারজেন্ট খাবার সেগুলোই, যেগুলো খেলে দাঁত পরিষ্কার হয়। এই খাবারগুলোর মধ্যে আছে মূলত ফলমূল, শাক-সবজি। খেতে পারেন আপেল, গাজর, পেয়ারা। পপকর্নও বেশ কাজে দেয়। সবচেয়ে ভালো হয় এ ধরনের খাবার মূল খাবারের পর খেলে। মানে সকাল, দুপুর বা রাতের খাবার খেয়ে একটা আপেল বা গাজর খেলেই দাঁত মোটামুটি পরিষ্কার! 
৫. একটা পরীক্ষা চালাতে পারেন। শুনতে বিদঘুটে লাগলেও, এটা বেশ কেজো। হাতের তালু জিব দিয়ে ভেজান। ভেজা থাকতে থাকতে শুঁকে দেখুন। বাজে গন্ধ পেলে ব্যবস্থা নিন। ব্যবস্ত নেওয়ার জন্য মাউথওয়াশ পাবেন হাতের কাছেই। তবে মাউথওয়াশ যেন অ্যালকোহলমুক্ত হয়। বেশি অ্যালকোহলযুক্ত মাউথওয়াশ উল্টো আপনার দাঁতের বারোটা বাজাতে ওস্তাদ! 
৬. দিনে দুবার দাঁত মাজুন। একবার সকালে, আরেকবার রাতে। মুখের লালা দাঁতের প্লাক (ময়লা) ধরে রাখে। ঘুমানোর সময় এই প্লাক শুকিয়ে দাঁতে জমে যায়। ঘুমানোর আগে দাঁত মাজলে প্লাক জমে না। আর সকালে নাশতার পর দাঁত মাজাই ভালো। এতে রাত আর সকালের প্লাক একসঙ্গে দূর হবে। 
রিডার্স ডাইজেস্ট অনলাইন অবলম্বনে

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়