ভয় ভাঙাতে কারাতে


আবিদা সুলতানা | আপডেট:  | প্রিন্ট সংস্করণ
কারাতে খেলা, তবে একটু ব্যতিক্রম। নিয়মিত অনুশীলনে বাড়ে শারীরিক সামর্থ্য, গড়ে তোলে আত্মবিশ্বাস। এই খেলায় এখন বাড়ছে কিশোরী-তরুণীদের অংশগ্রহণ। নগরের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে চলছে কারাতে অনুশীলন। ছবিটি সম্প্রতি তোলা l প্রথম আলোরাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে এখন আর বুক দুরুদুরু করে না। মনে হয় না বিপদ ওত পেতে আছে প্রতি পদক্ষেপে। ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী প্রযুক্তা প্রেরণা চৌধুরী এখন মাথা উঁচু করে নির্ভয়ে চলাফেরা করে। পিছু তাড়া করে না আর অজনা ভয়। তার এই আত্মবিশ্বাসের মূলে আছে কারাতে।
এক বছর আগে প্রযুক্তা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কারাতে ক্লাসে ভর্তি হয়েছিল। আর এরপর থেকেই মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটতে থাকে তার। সম্প্রতি নগরের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে কারাতের প্রশিক্ষণ দেখতে গেলে কথা হয় তার সঙ্গে। প্রযুক্তা বলে, কারাতে একটা পরিপূর্ণ খেলা। তবে এই খেলার মাধ্যমে যে কেউ আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে পারে বলে আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। তা ছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা দেহ-মন সুস্থ রাখে। তাই কারাতে এখন তার ভীষণ প্রিয়।
সংযুক্তার মতো অনেক কিশোরী-তরুণী আজকাল কারাতের মতো মার্শাল আর্ট শিখছে। ছেলেদের পাশাপাশি কারাতে খেলায় মেয়েদের অংশগ্রহণ দিন দিনই বাড়ছে। কারাতে সংগঠকেরা জানান, পাঁচ বছর বয়স হলেই সন্তানকে কারাতে ক্লাসে পাঠানো যায়। নগরে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেশ কয়েকটি কারাতে শেখার প্রতিষ্ঠান আছে। এসবের ভর্তি ফিও সাধারণের হাতের নাগালে।
কেন কারাতে: মেয়েরা কেন কারাতে শিখবে, এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল সিজেকেএসের কারাতে প্রশিক্ষক তুলু-উশ-শামসের কাছে। তিনি বলেন, কারাতে অন্যান্য খেলার চেয়ে একটু ব্যতিক্রম। এটি কিশোরী, তরুণীদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায়। এর ফলে মানসিক শৃঙ্খলাবোধের উন্নতি ঘটে। এতে একটি মেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। যার প্রভাব পড়ে মেয়েটির কর্মক্ষেত্র ও সাংসার জীবনেও। তুলু-উশ-শামসের মতে, দেশের বিদ্যালয়গুলোতে কারাতে শিক্ষা চালু করলে শিক্ষার্থীদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশ ঘটবে।
যেখানে শেখা যাবে: প্রায় ৩৬ বছর ধরেই সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিজেকেএস কারাতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে সপ্তাহে তিন দিন কারাতে শেখানো হয়। বর্তমানে এখানে ১৩৮ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, যাদের ৪৪ জনই মেয়ে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিশু শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীও রয়েছে। এ ছাড়া নগরের আসকারদীঘিরপাড় এলাকায় বেসরকারিভাবে পরিচালিত হোনকে সোতোকান কারাতে ক্লাবেও আছে কারাতে শেখার ব্যবস্থা। এখানকার প্রশিক্ষক শিহান রতন তালুকদার বলেন, হোনকে ক্লাবের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই মেয়ে। আর ব্ল্যাক বেল্টধারী মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫। এ ছাড়া দক্ষিণ খুলশীর ২ নম্বর সড়কে অবস্থিত খুলশী কারাতে ক্লাবেও প্রায় ২০-২৫ জন নারী শিক্ষার্থী কারাতে শিখছে।
প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রের পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের জন্য কারাতে শেখানোর ব্যবস্থা আছে। এর মধ্যে নন্দনকাননে অবস্থিত ফুলকি বিদ্যালয়ে আছে সব বয়সের নারী-পুরুষের কারাতে শেখার ব্যবস্থা।
বেশির ভাগ কারাতে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন কারাতে শেখানো হয়। ভর্তি ফি ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা। আর মাসিক বেতন ২০০ থেকে দেড় হাজার।
প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে কারাতে অনুশীলনের পাশাপাশি নিয়মিত পরীক্ষাও নেওয়া হয়। পরীক্ষায় পাস করলে প্রশিক্ষণার্থী পরবর্তী ধাপে উন্নীত হয়। সর্বোচ্চ তকমা ব্ল্যাক বেল্ট পেতে হলে অন্তত ১০টি ধাপ পার হয়ে আসতে হয় শিক্ষার্থীদের।
কারাতে মানে লড়াই আর মারামারি নয়। নিখাদ একটি খেলা ও আত্মরক্ষার কৌশল বলেই দিন দিন বাড়ছে কারাতের জনপ্রিয়তা। কারাতে শিখতে আসছে রক্ষণশীল পরিবারের মেয়েরাও। এমনটাই দাবি করলেন তুলু-উশ-শামস এবং শিহান রতন তালুকদারের মতো কারাতের প্রশিক্ষকেরা।
যোগাযোগের ঠিকানা: চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা: সিজেকেএস ভবন তৃতীয় তলা, এমএ আজিজ স্টেডিয়াম। চট্টগ্রাম। ফোন: ০৩১-৬৩৭৮৫২।
হোনকে সোতোকান কারাতে-দো অ্যাসোসিয়েশন: ৬৪ এস এস খালেদ রোড, উত্তর আসকার দীঘি, চট্টগ্রাম। ফোন: ০১৮১৭৭০০৭০০।
খুলশী কারাতে ক্লাব: ১০ জাকির হোসেন রোড, দক্ষিণ খুলশী-২ নম্বর রোড, চট্টগ্রাম। ফোন: ০১৮১৯৬৪৮৪৫৬।
ফুলকি: ৪৬ বৌদ্ধমন্দির সড়ক, নন্দনকানন, চট্টগ্রাম। ফোন: ০৩১-৬১৮১৩৭।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়