মিসক্যারেজ : ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের আর এক কারণ


আমাদের দেশেও বিবাহিত মহিলারা গর্ভধারণ করা সত্ত্বেও একসময় মিসক্যারি করেন অর্থাৎ মিসক্যারেজ ঘটে যার অনাকাক্সিক্ষতভাবে। আর যাদের একবার মিসক্যারেজ হয়, তাদের মিসক্যারেজ প্রবণতা অনেক সময় থেকে যায় অর্থাৎ পরবর্তী সময়েও এর পুনরাবৃত্তি ঘটে। অনেক সময় দেখা যায়, ত্রিশোর্ধ্ব মহিলাদের বেলায় এই মিসক্যারির প্রবণতা অপেক্ষাকৃত কমবয়সীদের তুলনায় বেশি।
আসুন তাহলে আমরা প্রফেসর ডা: সুলতানা জাহানের কাছ থেকে শুনি এ প্রসঙ্গে.....
গর্ভস্থ অপরিণত ভ্রƒণ পুরোপরি বিকাশপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্বেই গর্ভধারণ প্রক্রিয়ার সমাপ্তি, ঘটা এবং ভ্রƒণের মৃত্যু ঘটা হচ্ছে গর্ভনাশ বা মিসক্যারিয়েজ। এর অন্য নাম হলো অ্যাবরশন। দুঃখজনক হলেও সত্যি ২০% গর্ভধারণ অ্যাবরশনে পরিণত হয়। রক্তপাত মিসক্যারিয়েজের পূর্ব লক্ষণ। অনেক সময় মহিলারা বুঝতেও পারেন না যে তারা গর্ভধারণ করেছেন এবং  রক্তক্ষরণকে মাসিকজনিত স্বাভাবিক রক্তরক্ষণ ভেবে ভূল করেন। এই অ্যাবরশন মারাত্মক হতে পারে। কেননা এক্ষেত্রে ভ্রƒণ নয় বরং মাতৃদেহ থেকে রক্তক্ষরণ হয়। ৫০% ক্ষেত্রে এটি কোন ওষুধ কিংবা বিশ্রাম ছাড়াই সেরে যায়। তবে এ ধরনের গর্ভধারণের ১০% এর পরিণত হলো অ্যাবরশন। বেশিরভাগ মহিলা জীবনেমাত্র একবারই মিসক্যারি করেন। তবে আবার ও মিসক্যারির সম্ভাবনা ১৫% যা সব সময় থেকে যায়। এ কারণে একবার গর্ভপাত হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী সন্তান নেয়া উচিত। দুবার কিংবা তারও বেশি মিসক্যারি করাকে রিপিটেড মিসক্যারি বলে। অনেক কারণেই এটি হতে পারে। উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ এখানে তুলে ধরা হলো। সেই সঙ্গে চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও আলোকপাত করা হলো।
১. ক্ষতিকর এন্টিবডি তৈরি:
অনেক সময় রক্তসঞ্চালন উপাদান প্রতিরোধ এন্টিবডি দেহে তৈরি হয় যা রক্ত জমাট বাঁধিয়ে ভ্রƒণে রক্ত সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
শনাক্তকরণ : খঁঢ়ঁং ধহঃরপড়ধমঁষধহঃ নামক  ব্লাড টেস্ট দ্বারা এটি শনাক্ত করা যায়।
চিকিৎসা : সীমিত মাত্রায় এসপিরিন প্রয়োগ করলে রক্ত জমাট বাঁধা বন্ধ হয়। এছাড়া চৎবফহরংড়হব নামক স্টেরয়েড প্রয়োগ করা যায়। এটি মাতৃদেহের ভেঙ্গে পড়া রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সারিয়ে তোলে। 
২. ক্রোমোসোমের অস্বাভাবিকত্ব :
জিনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ শুক্রাণু কিংবা ডিম্বানুর কারণে জিনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ শিশুর জন্ম না হয়ে ভ্রƒণটি বহিস্কৃত হয়।
শনাক্তকরণ : পিতা-মাতা উভয়ের রক্তের কেরিওটাইপিং করলে জানা যায়, আসলে সমস্যাটি কার। ক্রোমোসোমের গঠনগত কোনো ত্রুটি থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ এটি একটি স্থায়ী সমস্যা এবং মিসক্যারিয়েজ হওয়ার সম্ভাবনা এক্ষেত্রে ২৫-১০০%।
চিকিৎসা : এ ধরনের সমস্যায় করার কিছুই থাকে না। গর্ভধারণের জন্য পুনঃপুনঃ চেষ্টা করা যেতে পারে, অন্যের সন্তান দত্তক নেয়া যায় কিংবা ডোনারের কাছ থেকে ডিম্বাণু (সমস্যা যদি স্ত্রীর ক্ষেত্রে হয়) কিংবা শুক্রাণু (যদি স্বামীর কোনো সমস্যা থাকে) সংগ্রহ করা যেতে পারে।
৩. প্রোজেস্টরন নামক একটি হরমোন ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নির্গত হওয়ার পরপরই নিঃসৃত হয়। এই প্রোজেস্টরন হরমোন ভ্রƒণকে জরায়ুতে ধরে রাখে। কোনো কারণে নিঃসৃত প্রোজেস্টরন হরমোনের পরিমাণ কম হলে ভ্রƒণটি ইউটেরিন লাইনিংয়ের মধ্যেই খসে পড়ে।
শনাক্তকরণ : মাসিকচক্র সংক্ষিপ্ত হলে এর আশঙ্কা করা যায়। ডিম্বাণু উৎপাদনের এক সপ্তাহ পর ব্লাড টেস্ট করে প্রোজেস্টরনের পরিমাণ জানা যায়। এর পরিমাণ কম হলে আপনি সম্ভবত মিসক্যারি করতে যাচ্ছেন।
চিকিৎসা : কৃত্রিম প্রোজেস্টরন নেয়া যায়। মাসিক চক্রের শেষ দুই সপ্তাহে, ডিম্বাণু উৎপাদনের পর কিংবা গর্ভধারণের পূর্বে এ হরমোন নেয়া যায়।
৪. অসুস্থতা :
একটি অসুস্থ দেহ গর্ভধারণে ব্যর্থ  হয়। কয়েকটি অসুখ এক্ষেত্রে খুবই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে : 
* নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেসি;
* এন্ডোমেট্রিওসিস (গর্ভশয়ের রোগ);
* হৃৎপি-, যকৃত, কিংবা কিডনির মারাত্মক কোনো রোগ;
* খঁঢ়ঁং বৎুঃবসহধঃড়ংঁং-এই রোগে নিজের টিস্যুর বিরুদ্ধেই এন্টিবডি তৈরি হয়।
* ঞঙজঈঐ- সংক্রমণ
(ঞড়ীড়ঢ়ষধংসড়ংরং, জঁনবষষধ, ঈুঃড়সবমধষড়-ারৎঁং এবং ঐবৎঢ়বং) এগুলো একবার মিসক্যারির জন্য দায়ী।
অধ্যাপক ডা. সুলতান জাহান
সাবেক চেয়ারম্যান গার্হনি ও অবস
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
- See more at: http://www.dailyinqilab.com/2013/11/27/145604.php#sthash.KwDgpKev.dpuf

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়