দল বেঁধে হোক শুরু


পড়াশোনার পাশাপাশি আর কী করো? সৃজনশীলের এ যুগে এ প্রশ্ন তো শুনবেই। মনে মনে আছে হরেক স্বপ্ন আর পরিকল্পনা। কিন্তু সময়-সুযোগ বা আলসেমির কারণেই হয়তো হচ্ছে না কিছুই। বছরের শুরুতেই দল বেঁধে তাই একটা কিছু শুরু করলে বেশ হয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে আইডিয়া দিচ্ছেন শায়েখ হাসান

১৮ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০


দল বেঁধে হোক শুরু
পুঁথিগত বিদ্যা—এ শব্দটা শুনতেও কেমন একঘেয়ে লাগে। এ কারণে উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে কিন্তু পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও পাঠ্যতালিকায় আনা হয়েছে। পড়ার পাশাপাশি সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ক্রীড়ায় একটা কিছু দেখিয়ে দিতে পারলে কিন্তু বেশ উপভোগ করতে পারবে সময়টা। হয়ে যেতে পারো দেশের সম্পদ। পরিবার ও সমাজের চোখের মণি। লোভ লাগছে? তাহলে এখনই সিদ্ধান্ত নাও, তুমি কি পড়ার বই পড়ে শুধু ভালো গ্রেড চাও? নাকি সমমনাদের সঙ্গে নিয়ে নিজেরা নিজেদের মতো করে একটি সৃজনশীল জগৎ গড়তে চাও? উত্তর হ্যাঁ হলে প্ল্যান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এখনই।
তোমাদের অনেকেই দেখা যাবে কোনো না কোনো বিষয়ে পারদর্শী—যাকে বলে হিডেন ট্যালেন্ট ওরফে সুপ্ত প্রতিভা। আবার কারো আছে সৃজনশীল কাজের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা। স্কুলে এ নিয়ে বড় একটা আয়োজন করলে মন্দ হতো না। কিন্তু একা একা কতদূর কী করবে ভেবে পাচ্ছ না? তো বানিয়ে ফেলো গ্রুপ। বছরের শুরুর এ সময়টাই কিন্তু দল বেঁধে নানা কিছু করার আদর্শ সময়।
ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহরীমা চৌধুরী বললেন, সংস্কৃতি ব্যক্তিকে উদারতা শেখায়। রুচিবোধ ও নান্দনিকতা শেখায়। পাঠ্য বইয়ে যা খুঁজে পাবে না, তা আছে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায়। শিক্ষা ও সংস্কৃতি কখনোই একে অন্যের প্রতিযোগী নয়, বৈরীও নয়। সংস্কৃতি শিক্ষাকে এগিয়ে দেয় এবং শিক্ষা সংস্কৃতিকে ধারণ করে সমৃদ্ধি অর্জন করে। সৃজনশীল কাজ ও চর্চা ব্যক্তির মধ্যে সৃজন-কল্পনা তৈরি করে। ব্যক্তির চিন্তারাজ্যের পরিধি বাড়িয়ে দেয়। নির্মল মননশীলতা ও বর্ণিল মনোজগৎ তৈরিতে সহায়তা করে। জানার পরিধিকে বাড়িয়ে তোলে এবং অর্জিত জ্ঞানকে গভীরতা দেয়। এই জ্ঞান, এই পরিধি কর্মক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে দেয়।
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল, এর মুগদা দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. বাকী উল্লাহ বলেন, এখন বছরে মাত্র দুটো পরীক্ষা। এ ছাড়া কিছু টিউটরিয়াল আছে। সে হিসেবে এখন পড়ার চাপ কম। তাই সৃজনশীল অন্য যত কাজকর্ম আছে, সেসবের একটা গাইডলাইন তৈরি করার এখনই উপযুক্ত সময়।

টুকে নাও আইডিয়া
তো আর দেরি না করে জলদি জলদি বন্ধুদের সঙ্গে নিজের পরিকল্পনা শেয়ার করো। সহপাঠীরা একত্র হয়ে ভাবনাগুলো লিখে ফেলো। মনে রাখতে হবে, যেকোনো ছোটখাটো চিন্তাভাবনা লিখে ফেললেই একের পর এক আইডিয়া ও সমাধান আসতে থাকে। আগে ঠিক করো তুমি কী কী করতে চাও। যা-ই করতে চাও, খুঁজে নাও তোমার মতো আরো কয়েকজনকে। বিতর্ক, গণিত অলিম্পিয়াড, গান, বিজ্ঞান প্রজেক্ট, ছবি আঁকা—পছন্দের আছে রকমফের। আবার অনেকগুলো কাজকর্ম একজোট করে বানিয়ে ফেলতে পারো আস্ত একটি ক্লাব।

বিতর্ক করলে কেমন হয়
কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যক্তিকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে না। এর বাইরেও চাই জ্ঞানচর্চা। চাই অনুসন্ধিত্সু একটা মন। আর এর জন্য বিতর্ক হতে পারে কাজের কাজি। তোমাদের মধ্যে যাদের বিতর্ক নিয়ে আগ্রহ আছে, তারা প্রথমেই একজোট হয়ে যেতে পারো। গড়ে তুলতে পারো একটি বিতর্ক ক্লাব। পরিকল্পনা করতে সমস্যা হলে শিক্ষকদের সহযোগিতা নিতে পারো। এরপর নির্দিষ্ট একটি সময় ঠিক করে নিয়মিত চর্চা করতে হবে। নিজেরাই আয়োজন করতে পারো প্রতিযোগিতার। সপ্তাহের নির্দিষ্ট কোনো একটি দিন, ক্লাসের আগে বা পরে সময় নির্দিষ্ট করে নেওয়া যেতে পারে।
নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে তোমরা উদ্যোগ নিয়েই স্কুলে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারো। এ কাজে স্কুল কর্তৃপক্ষ আগ্রহভরেই তোমাদের সাহায্য করবে। এখন বিতর্কের অনেক সুযোগ আছে। আন্তস্কুল বিতর্ক হয়, বিভিন্ন জাতীয় দিবস বা জাতীয় কর্মসূচিতেও এ নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, ইভেন্ট ফার্মও এর আয়োজন করে। আর এই বিতর্কের সুবাদে তোমাদের মধ্যে গড়ে উঠবে যোগাযোগ ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দক্ষতা।

গ্রুপের নেই শেষ
সমমনাদের নিয়েই তৈরি হয় একটি গ্রুপ। আবার বিষয়ভিত্তিক গ্রুপও হতে পারে। যারা বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রী, তারা বিজ্ঞানভিত্তিক গ্রুপ করতে পারো। আবার যাদের পড়াশোনার বাইরে ছবি আঁকতে ভালো লাগে তারা আর্টিস্ট গ্রুপ বানাতে পারো। দেখা গেল, এক বন্ধু আর্টিস্ট গ্রুপে আছে তো সে বিজ্ঞানে নেই। এতে করে প্রায় সবার সঙ্গেই এক ধরনের যোগাযোগ তৈরি হবে। সেকশন ভিন্ন বলে বা পড়াশোনায় কেউ পিছিয়ে থাকলেও তার সঙ্গে সবার একটা হৃদ্যতা তৈরি হবে। গ্রুপ ওয়ার্ক করে একদিকে যেমন নিজের জ্ঞান বাড়াতে পারো, তেমনি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করতে পারো।
স্কুলপর্যায় থেকে প্রগ্রামিং গ্রুপ করা যেতে পারে। বর্তমানে প্রগ্রামিংয়ের প্রচুর চাহিদা। স্কুলের পড়ালেখার পাশাপাশি প্রগ্রামিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রুপ আকারে কাজ করা যেতে পারে। এতে একদিকে নিজের জ্ঞান বাড়বে, বাড়তি হিসেবে পড়ালেখা শেষ করার আগেই একটি পেশা ঠিক হয়ে থাকে। এতে পরবর্তী সময়ে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে হয় না।
গ্রুপ করার আরেকটি উপকারিতা হচ্ছে, গ্রুপের সব সহপাঠীর সহযোগিতায় পাঠ্য বইয়ের পড়া ছাড়াও নোট তৈরি, অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করা—এসব কাজও বন্ধুরা একসঙ্গে করতে পারে। গ্রুপ স্টাডির কোনো বিকল্প নেই। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, গ্রুপ স্টাডির মাধ্যমে দুর্বল ছাত্ররা ভালো ছাত্রদের সংস্পর্শে এসে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। এতে ভালো ছাত্রদের জ্ঞান আরো বাড়ে।
ভাষা নিয়েও গ্রুপ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ইংরেজি। এ গ্রুপের সদস্যরা প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় নিজেদের সঙ্গে ইংরেজি বলে ও লিখে চর্চা চালিয়ে যেতে পারে। জিপিএ যতই আসুক না-আসুক, পরে দেখবে চর্চার ফলে ভাষাটা একেবারে ডালভাত হয়ে গেছে। বলতেও আর মুখে বাধছে না। তবে এর জন্য শব্দ মুখস্থ করলেই হবে না, গ্রুপ করেই চালাতে হবে চর্চা। আবার লেখা-বলার পাশাপাশি গ্রুপের মাধ্যমে ইংরেজি সাহিত্য পড়ারও চল তৈরি করতে পারো স্কুল-কলেজে। শখ করে আবার চাইলে কেউ কেউ একজোট হয়ে শুরু করতে পারো স্প্যানিশ বা ফরাসি ভাষার প্র্যাকটিসটাও। ইউরোপ-আমেরিকায় তোমাদের বয়সীদের অনেকেই কিন্তু দু-তিনটা ভাষায় পারদর্শী হয়ে থাকে। পরে বড় হয়ে যোগাযোগের পরিধি বাড়াতে এই ভাষা কিন্তু খুব কাজে আসে।  

দল বেঁধে নেতৃত্ব
ছাত্রজীবন থেকেই শিখতে হয় নেতৃত্বের গুণ। এর মানে শুধু ক্লাসের ক্যাপ্টেন হওয়া নয়। কোনো কিছু গুছিয়ে আয়োজন করাও কিন্তু একটা বিশাল কাজ। আর এ শিক্ষা তোমরা পাঠ্য বইতে সেভাবে পাবে না। নিজেদেরই দল বেঁধে শিখে নিতে পারো, কিভাবে একটা বড় আয়োজন সামাল দিতে হয়। স্কাউট, বিএনসিসি—এসব তো আছেই, পাশাপাশি স্কুল-কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিজেরাই আয়োজন করে শিখে নাও নেতৃত্ব, কী করে কাজ ভাগ করে দিতে হয় এবং কী করে তা তদারকি করতে হয়। পরে চাকরি করতে গেলে বা নিজের কোনো 

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়