নেশার জন্য ২২ বার রক্ত দিছি’
মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের একেকটি ঘটনা শুনলে শরীর শিউরে ওঠে। যিনি মাদকাসক্ত হন, পরিবারের সব সুখ তিনি একাই হরণ করেন। লিটন নামের এক মাদকসেবীর সঙ্গে কথা হলো। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতেই তিনি নেশা শুরু করেন। গাঁজা দিয়ে শুরু করলেও
পরে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ সবকিছুতেই তাঁর ভয়াবহ রকম আসক্তি ছিল। যখন তিনি নেশার টাকা পেতেন না, তখন বাড়িতে চুরি করতেন। তারপর আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে চুরি করতেন। যখন চুরির সুযোগ ছিল না, তখন তিনি ছিনতাই করতেন। এখন তিনি চিকিৎসা নিয়ে আর কোনো নেশা করেন না।
লিপন নামের একজন তাঁর পকেট থেকে নেশাগ্রস্ত থাকাকালীন স্বাস্থ্য কী রকম ছিল, সেই ছবি বের করে দেখালেন। শরীর ফুলে আছে। চোখ লাল টকটকে। চোখের ভেতর থেকে মণি যেন বের হয়ে আসতে চায়। এমনই বীভৎস। তিনি বললেন, ‘আমি নেশার তাড়নায় রক্ত বিক্রি করতাম। নেশার জন্য ৪৩ দিনে ২২ বার রক্ত দিছি। প্যাথলজিগুলো জেনেও রক্ত কেনে। এক ব্যাগ রক্ত ১৫০ টাকা।’
অচেনা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কখনোই রক্ত সংগ্রহ করা উচিত নয়। প্যাথলজিগুলো যাতে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে রক্ত না নেয়, সে বিষয়েও শক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
কয়েক দিন আগে ‘স্বপ্ন’ নামের রংপুরের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে গিয়েছিলাম, ‘ওয়ান ইয়ার ক্লিন বার্থ ডে’ অনুষ্ঠানে। একজন মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিয়ে এক বছর থেকে ভালো আছেন। সেই দিবসটি উদ্যাপন করাকে ওয়ান ইয়ার ক্লিন বার্থ ডে বলা হয়।
পরে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ সবকিছুতেই তাঁর ভয়াবহ রকম আসক্তি ছিল। যখন তিনি নেশার টাকা পেতেন না, তখন বাড়িতে চুরি করতেন। তারপর আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে চুরি করতেন। যখন চুরির সুযোগ ছিল না, তখন তিনি ছিনতাই করতেন। এখন তিনি চিকিৎসা নিয়ে আর কোনো নেশা করেন না।
লিপন নামের একজন তাঁর পকেট থেকে নেশাগ্রস্ত থাকাকালীন স্বাস্থ্য কী রকম ছিল, সেই ছবি বের করে দেখালেন। শরীর ফুলে আছে। চোখ লাল টকটকে। চোখের ভেতর থেকে মণি যেন বের হয়ে আসতে চায়। এমনই বীভৎস। তিনি বললেন, ‘আমি নেশার তাড়নায় রক্ত বিক্রি করতাম। নেশার জন্য ৪৩ দিনে ২২ বার রক্ত দিছি। প্যাথলজিগুলো জেনেও রক্ত কেনে। এক ব্যাগ রক্ত ১৫০ টাকা।’
অচেনা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কখনোই রক্ত সংগ্রহ করা উচিত নয়। প্যাথলজিগুলো যাতে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে রক্ত না নেয়, সে বিষয়েও শক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
কয়েক দিন আগে ‘স্বপ্ন’ নামের রংপুরের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে গিয়েছিলাম, ‘ওয়ান ইয়ার ক্লিন বার্থ ডে’ অনুষ্ঠানে। একজন মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিয়ে এক বছর থেকে ভালো আছেন। সেই দিবসটি উদ্যাপন করাকে ওয়ান ইয়ার ক্লিন বার্থ ডে বলা হয়।
পাশের ঘরে নেশাগ্রস্ত সন্তানকে রেখে বাবা-মাকে যেন অসহায়ের মতো কাঁদতে না হয়, কোনো স্ত্রীকে যেন সংসার ছেড়ে আসতে না হয়, নেশাগ্রস্ত বাবার কারণে কোনো সন্তানকে যেন দগ্ধ হতে না হয়
একজন অভিভাবক নিজের সন্তানের কথা বলতে গিয়ে বললেন, ‘সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে গেলেও এত কষ্ট হতো না, যতটা কষ্ট পেয়েছি মাদকাসক্ত ছেলেকে নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে আসতে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, আমার সন্তান এখন সুস্থ।’
‘স্বপ্ন’ নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক গুলশান আরা অভিজ্ঞতা থেকে জানালেন, ‘এখন নেশার মধ্যেও ভেজাল। আগে যাঁরা শুধু ফেনসিডিল খেতেন, তাঁরা যে চিকিৎসায় সুস্থ হতেন, এখন আর হন না।’ একই অভিযোগ তাঁর অন্যান্য ড্রাগ সম্পর্কেও। তাঁর ওখানে এমন মাদকাসক্ত ব্যক্তিও এসেছেন, যাঁরা কেউ নিজের শরীর কেটে নিজের রক্ত পান করতেন, কেউ কমোড থেকে পানি তুলে পান করতেন। অনুষ্ঠান শেষ না হতেই একজনের বাবা ফোন করে জানালেন, তাঁর ছেলে ঘরের দরজা বন্ধ করে একটানা নেশা করে যাচ্ছেন। ঘরের দরজা ভেঙে নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিয়ে ‘স্বপ্ন’র একটা টিম সেখানে চলে যায়।
যাঁরা নেশা করেন, তাঁরা নেশার টাকা না পেলে ঘরের আসবাব ভাঙতে থাকেন। মা-বাবাকে ধরে মারেন। দীর্ঘদিন একজন নারী একজন নেশাগ্রস্ত লোকের সংসার করেছিলেন। নিজেদের ৩৫ ভরি স্বর্ণ বিভিন্ন সময়ে নেশার জন্য বিক্রি করে দিয়েছেন। অনেক কষ্টে সেই নারী নিজের মেয়ের জন্য একটি সোনার চেইন তৈরি করেছিলেন। সেই সন্তানের নেশাগ্রস্ত বাবা মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে চেইনটির কিছুটা অংশ কেটে বিক্রি করে নেশা করেছেন। ৩৫ ভরি সোনাসহ অনেক সম্পদ নষ্ট করাতে যে কষ্ট তিনি পাননি, সন্তানের চেইন কেটে নেশা করার ঘটনা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। শেষে সংসার না করে চলে এসেছেন। উচ্চবিত্ত সম্ভ্রান্ত এক ভদ্রলোক যখন শুনলেন তাঁর ছেলে তাঁর এক আত্মীয়ের ব্যাগ থেকে নেশার জন্য টাকা চুরি করেছেন, তখন তিনি সন্তানের নেশা করার চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছেন।
যাঁরা নেশা করেন, তাঁদের কোনো হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। নেশাগ্রস্ত সন্তানের অভিভাবকেরা নেশার শুরুতেই যদি প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তাহলে তাঁদের দ্রুত সুস্থ করে তোলা যায়। কিন্তু বাবা-মায়েরা এটা গোপন করার কারণে সন্তানেরা ধ্বংসের পথে চলে যান।
মাদকে সয়লাব এখন রংপুর শহর। ১২-১৩ বছর থেকেই অনেকেই নেশা করতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ হতাশা থেকে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতেই নেশা গ্রহণ করতে থাকেন। একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে একক পরিবার হওয়ার কারণে তাঁদের খোঁজ নেওয়ার লোকও কমে গেছে। সন্তানসংখ্যা যেহেতু কম, তাই তাঁদের প্রতি বাবা-মায়ের আদরও থাকে বেশি। টাকা চাইতেই সন্তানেরা প্রচুর টাকা পান। আর নেশাও ভীষণ সহজলভ্য। কয়েকজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে জানা গেল, নেশা পেতে তাঁদের কোনো কষ্টই পেতে হয় না। গুলশান আরার মন্তব্য—‘গত পাঁচ বছরে রংপুরে মাদকাসক্তের হার ভয়াবহ রকমে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকের সহজলভ্যতা দূর করা না গেলে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।’
টিনএজ সন্তানদের অবাধ স্বাধীনতা, তাঁদের খোঁজখবর না রাখা, সুস্থধারার বিনোদন না থাকা, অধিক হারে ইন্টারনেটে আসক্ত হওয়া ইত্যাদি কারণে দিনের পর দিন মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে। বাবা-মায়ের উচিত সন্তান কোথায় যায়, কোন বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করে, সেসবের খবর রাখা। বিশেষ করে ছেলেমেয়েরা যখন বয়ঃসন্ধিকাল অতিক্রম করে, তখন তাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো থাকা।
গত ঈদের সময় রংপুরে বিষাক্ত মদ পান করে এক পরিবারের দুজনসহ ১১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মাদকাসক্তমুক্ত সমাজ গড়তে হলে অবশ্যই মাদকের সহজলভ্যতা দূর করতেই হবে। যাঁরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন, তাঁরা শুধু পরিবারের জন্য বোঝা নন, তাঁরা সমাজের-রাষ্ট্রেরও বোঝা। এই বোঝা দূর করার দায়িত্ব আমাদের সবার। সে জন্য নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ না করে পরামর্শ দিয়ে, বুঝিয়ে সুস্থ জীবনের দিকে ফেরাতে হবে। পাশের ঘরে নেশাগ্রস্ত সন্তানকে রেখে বাবা-মাকে যেন অসহায়ের মতো কাঁদতে না হয়, কোনো স্ত্রীকে যেন সংসার ছেড়ে আসতে না হয়, নেশাগ্রস্ত বাবার কারণে কোনো সন্তানকে যেন দগ্ধ হতে না হয়। সে জন্য মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায় থেকেই তৎপরতা বাড়ানো জরুরি।
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
wadudtuhin@gmail.com
‘স্বপ্ন’ নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক গুলশান আরা অভিজ্ঞতা থেকে জানালেন, ‘এখন নেশার মধ্যেও ভেজাল। আগে যাঁরা শুধু ফেনসিডিল খেতেন, তাঁরা যে চিকিৎসায় সুস্থ হতেন, এখন আর হন না।’ একই অভিযোগ তাঁর অন্যান্য ড্রাগ সম্পর্কেও। তাঁর ওখানে এমন মাদকাসক্ত ব্যক্তিও এসেছেন, যাঁরা কেউ নিজের শরীর কেটে নিজের রক্ত পান করতেন, কেউ কমোড থেকে পানি তুলে পান করতেন। অনুষ্ঠান শেষ না হতেই একজনের বাবা ফোন করে জানালেন, তাঁর ছেলে ঘরের দরজা বন্ধ করে একটানা নেশা করে যাচ্ছেন। ঘরের দরজা ভেঙে নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিয়ে ‘স্বপ্ন’র একটা টিম সেখানে চলে যায়।
যাঁরা নেশা করেন, তাঁরা নেশার টাকা না পেলে ঘরের আসবাব ভাঙতে থাকেন। মা-বাবাকে ধরে মারেন। দীর্ঘদিন একজন নারী একজন নেশাগ্রস্ত লোকের সংসার করেছিলেন। নিজেদের ৩৫ ভরি স্বর্ণ বিভিন্ন সময়ে নেশার জন্য বিক্রি করে দিয়েছেন। অনেক কষ্টে সেই নারী নিজের মেয়ের জন্য একটি সোনার চেইন তৈরি করেছিলেন। সেই সন্তানের নেশাগ্রস্ত বাবা মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে চেইনটির কিছুটা অংশ কেটে বিক্রি করে নেশা করেছেন। ৩৫ ভরি সোনাসহ অনেক সম্পদ নষ্ট করাতে যে কষ্ট তিনি পাননি, সন্তানের চেইন কেটে নেশা করার ঘটনা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। শেষে সংসার না করে চলে এসেছেন। উচ্চবিত্ত সম্ভ্রান্ত এক ভদ্রলোক যখন শুনলেন তাঁর ছেলে তাঁর এক আত্মীয়ের ব্যাগ থেকে নেশার জন্য টাকা চুরি করেছেন, তখন তিনি সন্তানের নেশা করার চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছেন।
যাঁরা নেশা করেন, তাঁদের কোনো হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। নেশাগ্রস্ত সন্তানের অভিভাবকেরা নেশার শুরুতেই যদি প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তাহলে তাঁদের দ্রুত সুস্থ করে তোলা যায়। কিন্তু বাবা-মায়েরা এটা গোপন করার কারণে সন্তানেরা ধ্বংসের পথে চলে যান।
মাদকে সয়লাব এখন রংপুর শহর। ১২-১৩ বছর থেকেই অনেকেই নেশা করতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ হতাশা থেকে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতেই নেশা গ্রহণ করতে থাকেন। একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে একক পরিবার হওয়ার কারণে তাঁদের খোঁজ নেওয়ার লোকও কমে গেছে। সন্তানসংখ্যা যেহেতু কম, তাই তাঁদের প্রতি বাবা-মায়ের আদরও থাকে বেশি। টাকা চাইতেই সন্তানেরা প্রচুর টাকা পান। আর নেশাও ভীষণ সহজলভ্য। কয়েকজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে জানা গেল, নেশা পেতে তাঁদের কোনো কষ্টই পেতে হয় না। গুলশান আরার মন্তব্য—‘গত পাঁচ বছরে রংপুরে মাদকাসক্তের হার ভয়াবহ রকমে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকের সহজলভ্যতা দূর করা না গেলে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।’
টিনএজ সন্তানদের অবাধ স্বাধীনতা, তাঁদের খোঁজখবর না রাখা, সুস্থধারার বিনোদন না থাকা, অধিক হারে ইন্টারনেটে আসক্ত হওয়া ইত্যাদি কারণে দিনের পর দিন মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে। বাবা-মায়ের উচিত সন্তান কোথায় যায়, কোন বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করে, সেসবের খবর রাখা। বিশেষ করে ছেলেমেয়েরা যখন বয়ঃসন্ধিকাল অতিক্রম করে, তখন তাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো থাকা।
গত ঈদের সময় রংপুরে বিষাক্ত মদ পান করে এক পরিবারের দুজনসহ ১১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মাদকাসক্তমুক্ত সমাজ গড়তে হলে অবশ্যই মাদকের সহজলভ্যতা দূর করতেই হবে। যাঁরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন, তাঁরা শুধু পরিবারের জন্য বোঝা নন, তাঁরা সমাজের-রাষ্ট্রেরও বোঝা। এই বোঝা দূর করার দায়িত্ব আমাদের সবার। সে জন্য নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ না করে পরামর্শ দিয়ে, বুঝিয়ে সুস্থ জীবনের দিকে ফেরাতে হবে। পাশের ঘরে নেশাগ্রস্ত সন্তানকে রেখে বাবা-মাকে যেন অসহায়ের মতো কাঁদতে না হয়, কোনো স্ত্রীকে যেন সংসার ছেড়ে আসতে না হয়, নেশাগ্রস্ত বাবার কারণে কোনো সন্তানকে যেন দগ্ধ হতে না হয়। সে জন্য মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায় থেকেই তৎপরতা বাড়ানো জরুরি।
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
wadudtuhin@gmail.com
Comments