মিষ্টিকুমড়ার মিষ্টতা


অধুনা প্রতিবেদক | আপডেট:  | প্রিন্ট সংস্করণ
মিষ্টিকুমড়াঅক্টোবরের শেষে হ্যালোউইন উৎসবের সময় পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে মিষ্টিকুমড়ার চাহিদা বেশ বেড়ে যায়। পাকা মিষ্টিকুমড়া খোদাই করে বিশেষ ধরনের বাতি জ্বালানোর রীতি আছে তাদের। আমাদের দেশে তেমন কোনো রীতি না থাকলেও বারোমাসি সবজি হিসেবে এটি বেশ সমাদৃত। হাতের নাগালে পাওয়া যায়, খেতেও সুস্বাদু। পুষ্টিগুণও বেশ। ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ বলেন, শর্করা বেশি থাকায় এটি শরীরে শক্তি বাড়ায়।
পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস ও কপারের মতো দরকারি খনিজ উপাদানের উপস্থিতি মিষ্টিকুমড়াকে অনন্য সবজিতে পরিণত করেছে। ভিটামিনের মধ্যে এ, বি-কমপ্লেক্স, সি এবং ই পাওয়া যায় এই জাতের কুমড়ায়। এ ছাড়া মিষ্টিকুমড়ার বেটা-ক্যারোটিন ক্যানসার প্রতিরোধক কোষ গঠনে সাহায্য করে।
মিষ্টিকুমড়ার ক্যারোটিনয়েড চোখের ছানি পড়া রোধের পাশাপাশি রেটিনা কোষ রক্ষা করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মিষ্টিকুমড়া তাই আপনার চোখের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করবে। রোগ প্রতিরোধক হিসেবেও মিষ্টিকুমড়া বেশ সমাদৃত। মিষ্টিকুমড়ার খনিজ ও ভিটামিন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নীরোগ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নিম্নমাত্রায় ক্যালরি এবং উচ্চমাত্রায় খাদ্য-আঁশ থাকায় মিষ্টিকুমড়া ওজন কমাতে সাহায্য করে। এর খাদ্য-আঁশ হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিনের বাতের ব্যথা কমাতে প্রতিদিন খাবারে মিষ্টিকুমড়া রাখতে পারেন। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, ত্বক, দাঁত ও হাড়ের সুরক্ষায়, মাতৃগর্ভে থাকা সন্তানের সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং মায়ের রক্তস্বল্পতা দূর করতে মিষ্টিকুমড়াবেশ কাজের।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পরিমিত পরিমাণে খেলে মিষ্টিকুমড়ায় তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে রক্তে চিনির পরিমাণ বেশি থাকলে মিষ্টিকুমড়া কম খাওয়া উচিত। এ ছাড়া যাঁদের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা আছে, তাঁদেরও খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে এড়িয়ে যেতে পারেন।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়