নিউইয়র্কে বেকার বাংলাদেশির আত্মহত্যা!


নিউইয়র্ক প্রতিনিধি | আপডেট: 
যুক্তরাস্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে অসীম পাল নামের এক বাংলাদেশি মারা গেছেন। পরিবারের দাবি, ব্রুকলিনে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকায় স্থানীয় সময় গত বুধবার ভোররাতে নিজ বাসার রান্নাঘরের জানালা দিয়ে লাফিয়ে নিচে পড়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। প্রায় ছয় মাস ধরে বেকার থেকে মানসিক কষ্টে ভুগছিলেন অসীম।
অসীম পালের বাড়ি নোয়াখালীর সুধারামপুরে।
অসীম পালের স্ত্রী বীথি পালের ভাষ্য, ‘১৯৯৭ সালে ডিভি লটারি জিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন অসীম। এর পর দেশে গিয়ে আমাকে বিয়ে করেন। স্বামীর স্পন্সরে ২০০৫ সালে আমি আমেরিকায় এসেছি। আমাদের বড় ছেলে বিজয় আসছে সেপ্টেম্বর মাসে সপ্তম গ্রেডে যাবে। আরেক সন্তান পূর্ণতার বয়স চার বছর।’
বীথির ভাষ্য, ‘এ বছরের জানুয়ারি থেকে আমার স্বামী বেকার। শত চেষ্টা করেও কাজ জোটাতে পারেননি। আমি একটি বেকারিতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছি।’
বেকার থেকে অসীম হতাশায় ভুগছিলেন বলে বীথি জানান। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে তাঁর বড় ভাই মারা গেছেন। এতে তিনি মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন। এখন দুই শিশু সন্তান নিয়ে তিনি কীভাবে সংসার চালাবেন, বুঝতে পারছেন না।
অসীম পালের মরদেহ কিংস কাউন্টি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আজ শুক্রবার মরদেহ পেলে তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন করবে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়।

পাঠকের মন্তব্য ( ১৬ )

  • কেমন যেন ভাবনায় ফেলে দিল, ৬ মাস বেকার থাকতে হল কেন? কোন কর্মই কি খুঁজে পেলনা ওখানকার নাগরিক হয়েও??? মৃত্যুর চেয়ে একটা অতি সাধারন কাজ করাও অনেক শ্রেয়। স্ত্রী ও দুটি সন্তানের কথাও ভেবে দেখল না??
  • The people who used to criticize Bangladesh after becoming one of the lower-middle income countries probably get answer through this pathetic incident. USA and Canada are one of those countries where jobless rate of highly educated and qualified people are extremely high. Many of them either drive taxi or have jobs in McDonald restaurants to survive in there only.
    • ইউএসএ ক্যানাডাতে আপনার মত দূর্বল ইংরেজী নিয়ে ঠিকে থাকা আসলেই চ্যালেঞ্জ।
  • expat life is not as rosy as assumed in BD
  • আমি আমেরিকাতে সক্লারশিপে মাসটার্স করে দেশে এসে সন্মান জনক পেশাতে নিয়জিত আছি । । ওখানে গিয়ে দেখলাম শত শত শিক্ষিত বেকার রাস্তায় ঘুরছে । কানাডার অবস্থা আরও করুন । বুয়েট থেকে পাশ করা আর্কিটেক্ট দম্পতি শপিং মলে কাজ করছে । ওখানকার সবাই এখন আমাকে বলে তুমি দেশে ফিরে গিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে ।
    • যার যেমন জীবনের চাহিদা ও মান। এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমেরিকার আর বাংলাদেশের জীবনের মানের পার্থক্য কোথায়। তাইত সারা পৃথিবী থেকে আমেরিকা যাওয়ার জন্য পাগল হয়ে থাকে?? আমরা এখনো অনেক দূরে আমারিকা থেকে।
    • Nobody told you to write an essay on your life! Good that you have come back to Bangladesh, otherwise you would have destroyed the reputation of Bangladesh in USA.
    • বাংলাদেশ থেকে যত বড় ডিগ্রীই নিয়ে আসেন, কানাডা- আমেরিকায় এসবের কোন দাম নেই; আপনাকে এখানে এসে পড়াশোনা করে লাইসেন্স নিতে হবে- তবেই আপনি পেতে পারেন কাঙ্ক্ষিত জব। এসব করতে যথেষ্ট সময়, ধৈর্য ও এনার্জি দরকার; যাদের এসব নাই তারাই রাস্তায় (আপনার ভাষ্যমত) ঘুরে অথবা মলে কাজ করে। তবে একথাও মনে রাখতে হবে, এসব দেশে বাংলাদেশের মত এত শ্রেণিভেদ নেই; কোন প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তির সাথে সর্ব নিম্ন পদের কর্মীর সাথে মূলত কোন পার্থক্য নেই শুধু বেতনের অংকটা ছাড়া- জীবনযাত্রার মান ১৯/২০। এখানে কথায় কথায় কাজ চলে যায় ঠিকই তবে সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দুঃসময়ে আপনার পাশে সবসময়ই সকার আছে। এসব দেশে না খেয়ে কেউ মারা যায়না- ক্ষুধার্তদের জন্য আছে ফুডব্যাঙ্ক, গৃহহীনের সংখ্যাও নিতান্তই নগন্য, তাদের জন্যও আছে সরকারী সহায়তায় বাসস্থানের ব্যবস্থা। দেশে ফিরে গিয়েছেন, যে কারনেই হোক, এইজন্য সাধুবাদ জানাই; তবে না জেনে যে মন্তব্য করলেন তা মানতে পারলাম না।
    • সক্লারশিপে মাসটার্স!!!! লেখা পড়ার মান তো ভয়ংকর, কোন কলেজ ইউনির্ভারসিটি থেকে?
  • ১১
    আমি একজন আমেরিকার নাগরিক। আমি পরিবার নিয়ে আমেরিেকার মেরিল্যান্ডে বাস করি। এদেশে কাজের অভাব নেই। কাজ না থাকলে এদেশের সরকার Department of Human Service এর মাধ্যমে সাহায্য করে থাকেন। এই অফিস থেকে খাবার খরচ, বাড়ি ভাড়া, ফোন বিল, বিদ্যুৎ বিল, হেলথ ইনসুরেনস পাওয়া যায়। তবে এখানে এসব পাবার জন্য দরখসত করতে হয়। হয়ত তিনি এতকিছু জানেননা তাই হতাশ হয়ে এইকাজ করেছেন। যারা নিউ ইউয়রকে থাকেন আমি তাদেরকে বলছি যদি সেখানে কাজ না থাকে তাহলে অন্য অংগরাজ্যে চলে যান । দেখবেন কাজ আপনাকে খুজছে। নিউ ইউয়রকে বেশি মানুষ বাস করে তাই কাজের পরিমান কম ।
    • ফারুক সাহেব@ আপনি খুবই উপকারী একটা পরামর্শ দিয়েছেন। আপনার তথ্যটি হয়তোবা অনেকেই জানে না, তাই আপনার এই লেখাটি আরো বিস্তারিত লিখে বিভিন্ন ব্লগে ও ফেসবুকে অথবা প্রথম আলোতে শেয়ার করেন তাহলে অনেকের উপকার হবে। আল্লাহ আপনার ভালো করুক।
  • জীবনটা আসলেই অনেক কঠিন
  • আমরা কাজের জন্য বাংলাদেশী লোক খুঁজে পাই না । আর ওনারা কাজের অভাবে আত্মহত্যা করে ! যাই হোক এই দুর্ঘটনার জন্য আমি মর্মাহত । আর প্রথমআলোর মাধ্যমে ওনার স্ত্রীকে জানাতে চাই তার কাজের প্রয়োজন হলে আমার ইমেইলে যোগাযোগ করতে পারেন ।
  • something wrong in here.it's can't be possible.lots of job opportunities in this country.i am looking for people last 1 month for my shop i can't find any guy because guys don't wanna work in shop they drive taxi and work in a american restaurant.getting taxi licence very easy now.anyway if he don't have job he can go unemployment office they will pay him everything until he get a new job and he living america last 17 year he should know everything.
  • হতাসা থেকে সবাই আত্মহত্যা করেন না। কিছু সংখ্যক মানুষের বেলায় এমন প্রবনতা দেখা দেয়। এরা খুব অন্তর্মূখী ও স্বলপভাষী হয়। এদের ভিতরের কষট, আত্মমর্যাদা বোধ অন্যদের থেকে আলাদা থাকে। এদের খুব কাছের লোকই তার দূঃখের গভীরতা অনুধাবন করতে পারেন না। কোন কথাটা তাকে সর্বাধীক মর্মাহত করবে সেটা বোঝা মুশকিল হয়ে যায়। আর এরা একবার আত্মহত্যা করতে ব্যর্থ হলে আবার চেষটা করার সুযোগ খোজে। অসীম পালের পরিবারের প্রতি আমার অনেক সমবেদনা রইল।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়