প্রবাসী কৃষকের কথা
- Get link
- X
- Other Apps
এক
মোস্তাক আহমেদ, পিলি আইল্যান্ড (কানাডা) থেকে | আপডেট: ১৯:৩৮, জুলাই ০১, ২০১৫
দেশে যখন ছিলাম, বন্ধুরা মিলে বাংলাদেশের অনেক জায়গায় ঘুরেছি। অনেক অনেক ভালো অভিজ্ঞতা আর অ্যাডভেঞ্চার আছে ঝুলিতে। যা হোক আমি আমার শৈশব-কৈশোর, আমার মা-বাবা-বোনদের, আমাদের দাদা আর নানার ফ্যামিলির সবাইকে, বন্ধুদের তথা পুরো মানব জাতি, পশুপাখি ও প্রকৃতি—সবাইকে মানে সবকিছুকে ভালোবাসি। ভালোবাসতে কিছু লাগে না, শুধু মন লাগে। কিন্তু তারপরও কেন যে চারদিকে এত ভালোবাসা কমে যাচ্ছে! আর ঘৃণা বেড়ে যাচ্ছে। মানুষ মানুষকে কম অবলীলায় মেরে ফেলছে! আমি ভাবতে বসি—সমস্যা কি আমাদের?
কিছুই কি আমরা করতে পারি না? পারি কি না জানি না। কিন্তু চেষ্টা তো করছি। আমরা ১৫ একর জমির ওপর বাংলাদেশের গ্রামের যৌথ পরিবারের একটা আধুনিক মডেল বানানর চেষ্টা করছি। বাড়িয়ে বলছি না, আসলেই খুবই মানসম্পন্ন একটা মডেল। আমাদের এক একটা মডেল হবে কৃষি আর পর্যটনের ওপর ভিত্তি করে গড়া। এই মডেলগুলো কিছু ভালো মানুষ গড়ার চেষ্টার পাশাপাশি কিছু লাভও করতে পারবে। আর সেই লাভ দিয়ে আরও কিছু মানবিক ভালো কাজ করা যাবে।
ব্যক্তিগত ভাবে আমার প্রতিযোগিতা ভালো লাগে না। প্রতিযোগিতা আমাদের নেগেটিভ অনুভূতিগুলি খুঁচিয়ে দেয়। কিন্তু আমরা একটা প্রতিযোগিতা নিজেদের সঙ্গে চর্চা করতে পারি—ভালো হওয়ার প্রতিযোগিতা। আমাদের পরিবারে এটা নীরবে সবাই চেষ্টা করেছি সব সময়। পেছন ফিরে তাকালে এটা আমি এখন বুঝি এবং বলতে পারি আমাদের সবার সঙ্গে সবার খুবই ভালো সম্পর্ক। আমাদের পরিবার বলতে মা-বাবা, দুই বোন আর আমি এই কয়জনকে বুঝিয়েছি। আমাদের প্রাক্তন পরিবার। এখন যে আমাদের সবারই আর একটা করে পরিবার আছে! আমি প্রায়ই এই নতুন পরিবারগুলি এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। এত বড় বড় কথা বলছি। বাংলাদেশের খেলা থাকলে কিন্তু সব সময় দেখতে না পারলেও স্কোরের খবর ঠিকই রাখি। আশা করি আপনারা এটাকে ভণ্ডামি ভেবে বসবেন না।
ছোটবেলায় ঠিকমতো পড়াশোনা না করলে আব্বা কয়েকবার, গরু কিনে দিই, চাষ করে খা—এই কথার পিঠে, আব্বা, ট্র্যাক্টর কিনে দেওয়া যায় না? বলায়, আব্বা এই কথা বলাই ছেড়ে দেন। এই কথা বলার পেছনে কিন্তু বিটিভির একটা অনুষ্ঠানের অবদান অনেক। শাইখ সিরাজের মাটি ও মানুষ। তার সঙ্গে এই বছরের প্রথম দিকে দেখা করতে পেরেছি। আমার কৃষক হতে চাওয়া কিছুটা হলেও সার্থক। আরও সার্থক হবে যদি মার্ক জুগেনবার্গের সঙ্গে দেখা করতে পারি। ফেসবুকের ফার্ম-ভিল খেলতে খেলতে ছোটবেলার আদর্শ খামারের স্বপ্ন আবার ভর করল যে এই দূর পরবাসে!
চল্লিশ বছর বয়সে এসে জীবনের লক্ষ্য ঠিক করলে অনেক বড় আর ভালো কিছুই দেখা উচিত। আমি অনেক অনেক সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছি। আবার আমি! আমি কিছু না বা কেউ কিছু না। কিন্তু আমরা অনেক কিছু। এখন আমরা একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। ফার্মের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকায় জুটের ব্যাগের বাজার তৈরির চেষ্টা করছি আমরা। আবার আমাদের আইল্যান্ডের পাবলিক পরিবহনের জন্য ই-রিক্সা সংযোজনেরও চেষ্টা করছে আমাদের কোম্পানি। আর বাংলাদেশের রাঙামাটিতে আমরা একটা অনলাইন আবাসিক স্কুল, আদর্শ খামার, ছোট একটি হাসপাতাল, রিসোর্ট আর সিনিয়র হোম, সব একসঙ্গে—এমন একটা সুন্দর মডেলেরও কাজ করছি। আপনারাই বলুন, এত কিছু কি একজনের পক্ষে করা সম্ভব? মনে হয় না। কিন্তু অনেকের একটু অল্প সহযোগিতায় সব কিছুই সম্ভব। সব ভালো ভালো মানবিক দিকগুলোই তো আমরা চর্চা করতে চাচ্ছি। তাহলে কেন নয়?
একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, মানুষের পুরো জীবনের কঠিনতম সময় হচ্ছে বয়সকাল। শেষ বয়সে এসে শরীরের জোর কমতে থাকে আর সেই সঙ্গে মনের জোরও। ছেলেমেয়েরা তাদের নিজস্ব জীবন নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে, বুড়ো মানুষটাকে দেওয়ার মতো সময় তাদের খুব কমই থাকে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কেন? তাই আমাদের চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দু বয়স্ক মানুষ। আমাদের কৃষি আর ট্যুরিজমের ওপর ভিত্তি করা মডেলগুলো তিন-চারটা নবীন পরিবার, তিন-চারজন বয়স্ক মানুষকে দেখাশোনার পাশাপাশি খুব সহজেই চলতে পারবে। গতানুগতিক ওল্ড হোমে জীবন থমকে থাকে। কিন্তু আমাদের মডেলগুলো শিশু, পশুপাখি, টুরিস্ট সব কিছু মিলিয়ে হবে খুবই জীবন্ত। হবে স্বপ্নের মতোন।
যারা এই পর্যন্ত পড়েছেন দয়া করে আমাদের কোম্পানিটার ফেসবুক পেজে একটা লাইক দেবেন আর শেয়ার করবেন। বিভিন্ন সময়ের সব ছবি আর ভিডিও উপভোগ করবেন আশা করি।
কিছুই কি আমরা করতে পারি না? পারি কি না জানি না। কিন্তু চেষ্টা তো করছি। আমরা ১৫ একর জমির ওপর বাংলাদেশের গ্রামের যৌথ পরিবারের একটা আধুনিক মডেল বানানর চেষ্টা করছি। বাড়িয়ে বলছি না, আসলেই খুবই মানসম্পন্ন একটা মডেল। আমাদের এক একটা মডেল হবে কৃষি আর পর্যটনের ওপর ভিত্তি করে গড়া। এই মডেলগুলো কিছু ভালো মানুষ গড়ার চেষ্টার পাশাপাশি কিছু লাভও করতে পারবে। আর সেই লাভ দিয়ে আরও কিছু মানবিক ভালো কাজ করা যাবে।
ব্যক্তিগত ভাবে আমার প্রতিযোগিতা ভালো লাগে না। প্রতিযোগিতা আমাদের নেগেটিভ অনুভূতিগুলি খুঁচিয়ে দেয়। কিন্তু আমরা একটা প্রতিযোগিতা নিজেদের সঙ্গে চর্চা করতে পারি—ভালো হওয়ার প্রতিযোগিতা। আমাদের পরিবারে এটা নীরবে সবাই চেষ্টা করেছি সব সময়। পেছন ফিরে তাকালে এটা আমি এখন বুঝি এবং বলতে পারি আমাদের সবার সঙ্গে সবার খুবই ভালো সম্পর্ক। আমাদের পরিবার বলতে মা-বাবা, দুই বোন আর আমি এই কয়জনকে বুঝিয়েছি। আমাদের প্রাক্তন পরিবার। এখন যে আমাদের সবারই আর একটা করে পরিবার আছে! আমি প্রায়ই এই নতুন পরিবারগুলি এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। এত বড় বড় কথা বলছি। বাংলাদেশের খেলা থাকলে কিন্তু সব সময় দেখতে না পারলেও স্কোরের খবর ঠিকই রাখি। আশা করি আপনারা এটাকে ভণ্ডামি ভেবে বসবেন না।
ছোটবেলায় ঠিকমতো পড়াশোনা না করলে আব্বা কয়েকবার, গরু কিনে দিই, চাষ করে খা—এই কথার পিঠে, আব্বা, ট্র্যাক্টর কিনে দেওয়া যায় না? বলায়, আব্বা এই কথা বলাই ছেড়ে দেন। এই কথা বলার পেছনে কিন্তু বিটিভির একটা অনুষ্ঠানের অবদান অনেক। শাইখ সিরাজের মাটি ও মানুষ। তার সঙ্গে এই বছরের প্রথম দিকে দেখা করতে পেরেছি। আমার কৃষক হতে চাওয়া কিছুটা হলেও সার্থক। আরও সার্থক হবে যদি মার্ক জুগেনবার্গের সঙ্গে দেখা করতে পারি। ফেসবুকের ফার্ম-ভিল খেলতে খেলতে ছোটবেলার আদর্শ খামারের স্বপ্ন আবার ভর করল যে এই দূর পরবাসে!
চল্লিশ বছর বয়সে এসে জীবনের লক্ষ্য ঠিক করলে অনেক বড় আর ভালো কিছুই দেখা উচিত। আমি অনেক অনেক সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছি। আবার আমি! আমি কিছু না বা কেউ কিছু না। কিন্তু আমরা অনেক কিছু। এখন আমরা একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। ফার্মের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকায় জুটের ব্যাগের বাজার তৈরির চেষ্টা করছি আমরা। আবার আমাদের আইল্যান্ডের পাবলিক পরিবহনের জন্য ই-রিক্সা সংযোজনেরও চেষ্টা করছে আমাদের কোম্পানি। আর বাংলাদেশের রাঙামাটিতে আমরা একটা অনলাইন আবাসিক স্কুল, আদর্শ খামার, ছোট একটি হাসপাতাল, রিসোর্ট আর সিনিয়র হোম, সব একসঙ্গে—এমন একটা সুন্দর মডেলেরও কাজ করছি। আপনারাই বলুন, এত কিছু কি একজনের পক্ষে করা সম্ভব? মনে হয় না। কিন্তু অনেকের একটু অল্প সহযোগিতায় সব কিছুই সম্ভব। সব ভালো ভালো মানবিক দিকগুলোই তো আমরা চর্চা করতে চাচ্ছি। তাহলে কেন নয়?
একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, মানুষের পুরো জীবনের কঠিনতম সময় হচ্ছে বয়সকাল। শেষ বয়সে এসে শরীরের জোর কমতে থাকে আর সেই সঙ্গে মনের জোরও। ছেলেমেয়েরা তাদের নিজস্ব জীবন নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে, বুড়ো মানুষটাকে দেওয়ার মতো সময় তাদের খুব কমই থাকে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কেন? তাই আমাদের চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দু বয়স্ক মানুষ। আমাদের কৃষি আর ট্যুরিজমের ওপর ভিত্তি করা মডেলগুলো তিন-চারটা নবীন পরিবার, তিন-চারজন বয়স্ক মানুষকে দেখাশোনার পাশাপাশি খুব সহজেই চলতে পারবে। গতানুগতিক ওল্ড হোমে জীবন থমকে থাকে। কিন্তু আমাদের মডেলগুলো শিশু, পশুপাখি, টুরিস্ট সব কিছু মিলিয়ে হবে খুবই জীবন্ত। হবে স্বপ্নের মতোন।
যারা এই পর্যন্ত পড়েছেন দয়া করে আমাদের কোম্পানিটার ফেসবুক পেজে একটা লাইক দেবেন আর শেয়ার করবেন। বিভিন্ন সময়ের সব ছবি আর ভিডিও উপভোগ করবেন আশা করি।
www.facebook.com/Vu.Shorgo
www.vu-shorgo.com
www.youtube.com/channel/UCM2B5U59c2FYuMauzn9kmgg
instagram.com/vu.shorgo/
www.vu-shorgo.com
www.youtube.com/channel/UCM2B5U59c2FYuMauzn9kmgg
instagram.com/vu.shorgo/
আমি খুবই ভাগ্যবান।। বাবা–মা, বোন থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন সবার কাছ থেকে পেয়েছি অফুরন্ত ভালোবাসা। আজকে এই যে মানব জাতির জন্য ভালো কিছু করার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা নিয়েছি, এর পেছনে যে কত মানুষের অবদান রয়েছে তা বলে শেষ করা যাবে না। আর এখন যদি আপনারা এই লেখা পড়েন আর আমাদের এই শিশু কোম্পানিটার জন্য একটু মায়া বা ভালোবাসা অনুভব করেন, আপনারাও যোগ হবেন। আবারও বলছি আপনাদের একটা লাইক বা একটা কমেন্ট আমাদের এগিয়ে দেবে অনেক দূর। সব আপনাদেরই হাতে।
আমার রাজনীতি ভালো লাগে না। তা হোক দেশের বা বিশ্ব রাজনীতি। পলিটিকস আমার কাছে একটা নেগেটিভ শব্দ। সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করার হাতিয়ার। ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্র। মানুষকে সত্যি সত্যি ভালোবেসে, দেশকে সত্যি সত্যি ভালোবেসে সারা বিশ্বে কতজন রাজনীতিবিদ রাজনীতি করেন? তাই আমার কাছে বিশ্বের যে কোনো রাজনীতিবিদের থেকে প্রথম আলোয় পড়া আলোকিত মানুষগুলোই সত্যিকারের ভালো মানুষ। আমার আদর্শ। আমি একজন আলোকিত মানুষ হতে চাই। ভালো থাকবেন সবাই।
আর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভালোবাসা।
আমার রাজনীতি ভালো লাগে না। তা হোক দেশের বা বিশ্ব রাজনীতি। পলিটিকস আমার কাছে একটা নেগেটিভ শব্দ। সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করার হাতিয়ার। ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্র। মানুষকে সত্যি সত্যি ভালোবেসে, দেশকে সত্যি সত্যি ভালোবেসে সারা বিশ্বে কতজন রাজনীতিবিদ রাজনীতি করেন? তাই আমার কাছে বিশ্বের যে কোনো রাজনীতিবিদের থেকে প্রথম আলোয় পড়া আলোকিত মানুষগুলোই সত্যিকারের ভালো মানুষ। আমার আদর্শ। আমি একজন আলোকিত মানুষ হতে চাই। ভালো থাকবেন সবাই।
আর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভালোবাসা।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments