মার্স ভাইরাস: সচেতনতা জরুরি
ভালো থাকুন
অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ | ২৬ জুন, ২০১৪
মূলত মার্স করোনা শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে। রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা ভালো থাকলে কিদন পর এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু জটিল
রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি যেমন ডায়াবেটিস, কিডিন, হৃদ্যন্ত্র বা
ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা
দেখা দিতে পারে। যেমন—এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া,
রেসপিরেটরি ফেইলিউর বা কিডিন অকার্যকারিতার দিকে। এ পর্যন্ত
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে
রোগীর মৃত্যু ঘটেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্স করোনা ভাইরাস নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে৷
কিছুদিন আগে আবুধািব থেকে আগত একজন প্রবাসী বাংলাদেশি এই
ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে বাংলাদেশেও এ নিয়ে সচেতনতা
তৈরি হচ্ছে। এ নিয়ে চলছে অনেক ধরনের বিভ্রািন্ত ও অজানা
আতঙ্কও৷
মার্স ভাইরাস কী?
২০১২ সালে প্রথম সৌদি আরবে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত
হয়। এই রোগের নাম দেওয়া হয় মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম
বা সংক্ষেপে মার্স। করোনা ভাইরাস গোত্রীয় বলে ভাইরাসটির নাম
মার্স করোনা ভাইরাস। সৌদি আরব ছাড়াও এর উপস্থিতি লক্ষ করা
গেছে ওমান, আরব আমিরাত, মিসর ইত্যাদি মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কটি
দেশে। আর বাংলাদেশে পাওয়া গেছে এই প্রথম।
কীভাবে উৎপত্তি?
ধারণা করা হচ্ছে, মানবদেহে এই ভাইরাস এসেছে উট থেকে। কাতার,
ওমান, সৌদি আরব ও মিসরে উটের রক্তেও মার্স করোনা
ভাইরাসের অস্তিত্ব পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ ছাড়া সৌদি আরবে
বাদুড়ের রক্তেও পাওয়া গেছে এই ভাইরাস। মানুষ থেকে মানুষে
ভাইরাস ছড়িয়েছে হাঁচি, কাশি, নিকট অবস্থান ইত্যাদি থেকে।
সচেতন হোন
মার্স করোনা ভাইরাসের বিপরীতে অ্যান্টিভাইরাস আবিষ্কৃত হয়নি।
এখনো আবিষ্কৃত হয়নি কার্যকর টিকাও। এই ভাইরাস প্রতিরোধ করতে চাই
ব্যাপক জনসচেতনতা ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বোধ।
—এ ধরনের ভাইরাস যানবাহনের হাতল, দরজার নব, টেলিফোন রিসিভার
ইত্যাদি সাধারণ বস্তু থেকেও ছড়াতে পারে। তাই বাইরে থেকে
এসে অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন৷ যাঁরা হাসপাতাল বা
ল্যাবরেটরিতে কাজ করেন, তাঁরা হাত পরিষ্কার করতে অ্যালকোহল
স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
—যেখানে-সেখানে প্রকাশ্যে থুতু-কফ ফেলা বন্ধ করার বিষয়ে
সচেতনতা দরকার। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করুন, যা অবশ্যই
একবার ব্যবহারের পরই ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে।
—হাত দিয়ে নাক মুখ চোখ স্পর্শ যত কম করা যায়, ততই ভালো।
—মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত কোনো ব্যক্তি কাশিজ্বরে আক্রান্ত
হলে অন্তত ১৪ দিন তাকে বাড়িতে একটি ঘরে আলাদা থাকতে দিন ও
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
—এই রমজানে হয়তো অনেকেই ওমরাহ পালন করতে বা অন্য কাজে
সৌদি আরব যাবেন, তাঁরা অবশ্যই সেখানে বাইরে মাস্ক পরিধান
করবেন।
মেডিসিন বিভাগ, বিএসএমএমইউ|
অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ | ২৬ জুন, ২০১৪
মূলত মার্স করোনা শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে। রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা ভালো থাকলে কিদন পর এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু জটিল
রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি যেমন ডায়াবেটিস, কিডিন, হৃদ্যন্ত্র বা
ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা
দেখা দিতে পারে। যেমন—এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া,
রেসপিরেটরি ফেইলিউর বা কিডিন অকার্যকারিতার দিকে। এ পর্যন্ত
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে
রোগীর মৃত্যু ঘটেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্স করোনা ভাইরাস নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে৷
কিছুদিন আগে আবুধািব থেকে আগত একজন প্রবাসী বাংলাদেশি এই
ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে বাংলাদেশেও এ নিয়ে সচেতনতা
তৈরি হচ্ছে। এ নিয়ে চলছে অনেক ধরনের বিভ্রািন্ত ও অজানা
আতঙ্কও৷
মার্স ভাইরাস কী?
২০১২ সালে প্রথম সৌদি আরবে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত
হয়। এই রোগের নাম দেওয়া হয় মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম
বা সংক্ষেপে মার্স। করোনা ভাইরাস গোত্রীয় বলে ভাইরাসটির নাম
মার্স করোনা ভাইরাস। সৌদি আরব ছাড়াও এর উপস্থিতি লক্ষ করা
গেছে ওমান, আরব আমিরাত, মিসর ইত্যাদি মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কটি
দেশে। আর বাংলাদেশে পাওয়া গেছে এই প্রথম।
কীভাবে উৎপত্তি?
ধারণা করা হচ্ছে, মানবদেহে এই ভাইরাস এসেছে উট থেকে। কাতার,
ওমান, সৌদি আরব ও মিসরে উটের রক্তেও মার্স করোনা
ভাইরাসের অস্তিত্ব পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ ছাড়া সৌদি আরবে
বাদুড়ের রক্তেও পাওয়া গেছে এই ভাইরাস। মানুষ থেকে মানুষে
ভাইরাস ছড়িয়েছে হাঁচি, কাশি, নিকট অবস্থান ইত্যাদি থেকে।
সচেতন হোন
মার্স করোনা ভাইরাসের বিপরীতে অ্যান্টিভাইরাস আবিষ্কৃত হয়নি।
এখনো আবিষ্কৃত হয়নি কার্যকর টিকাও। এই ভাইরাস প্রতিরোধ করতে চাই
ব্যাপক জনসচেতনতা ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বোধ।
—এ ধরনের ভাইরাস যানবাহনের হাতল, দরজার নব, টেলিফোন রিসিভার
ইত্যাদি সাধারণ বস্তু থেকেও ছড়াতে পারে। তাই বাইরে থেকে
এসে অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন৷ যাঁরা হাসপাতাল বা
ল্যাবরেটরিতে কাজ করেন, তাঁরা হাত পরিষ্কার করতে অ্যালকোহল
স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
—যেখানে-সেখানে প্রকাশ্যে থুতু-কফ ফেলা বন্ধ করার বিষয়ে
সচেতনতা দরকার। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করুন, যা অবশ্যই
একবার ব্যবহারের পরই ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে।
—হাত দিয়ে নাক মুখ চোখ স্পর্শ যত কম করা যায়, ততই ভালো।
—মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত কোনো ব্যক্তি কাশিজ্বরে আক্রান্ত
হলে অন্তত ১৪ দিন তাকে বাড়িতে একটি ঘরে আলাদা থাকতে দিন ও
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
—এই রমজানে হয়তো অনেকেই ওমরাহ পালন করতে বা অন্য কাজে
সৌদি আরব যাবেন, তাঁরা অবশ্যই সেখানে বাইরে মাস্ক পরিধান
করবেন।
মেডিসিন বিভাগ, বিএসএমএমইউ|
Comments