ইসরাইলি ভাইরাস দিয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছে আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই দেশটির মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর কাজে ইহুদিবাদী ইসরাইলের কাছ থেকে কেনা কম্পিউটার ভাইরাস ব্যবহার করছে। এই ভাইরাস দিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের ব্যবহৃত অ্যাপেল আইফোনকে তাদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর যন্ত্রে পরিণত করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছে টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন ল্যাব। সিটিজেন ল্যাবের কাছে এ সংক্রান্ত সন্দেহভাজন লিংক পাঠিয়েছেন ইউএই’র মানবাধিকার কর্মী আহমেদ মানসুর। মানসুরের কাছে পাঠানো একটি টেক্সট মেসেজে এ লিংক ছিল।  সন্দেহজনক মনে হওয়ায় লিংকটি সিটিজেন ল্যাবের কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কারাবন্দিদের নির্যাতন চালানোর নতুন গোপন তথ্য আছে বলে লিংকে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু সিটিজেন ল্যাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইল-ভিত্তিক সাইবার কোম্পানি এনএসও গ্রুপের সঙ্গে এ লিংকের যোগসূত্র রয়েছে বলে শনাক্ত করা গেছে। সাইবার যুদ্ধে সহায়তা দিয়ে থাকে বলে দাবি করে এনএসও।  গোয়েন্দা তৎপরতার কাজে ব্যবহৃত পেগাসাস নামের একটি কম্পিউটার ভাইরাসও বিক্রি করে এ সংস্থা। ভাইরাসটি কেবলমাত্র বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছেই বিক্রি করা হয়।
মানসুরের ফোনে পেগাসাস ঢুকতে পারলে ফোনটি তার অজান্তেই পকেটে থাকা ডিজিটাল গোয়েন্দাযন্ত্রে পরিণত হতো। আইফোনের ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনকে তখন তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হতো। আইফোন দিয়ে চালানো হোয়াটস অ্যাপ বা ভাইবার সংলাপসহ সব ধরণের কথাবার্তা, টেক্সট মেসেজ, ছবিসহ সবই পেগাসাসের মাধ্যমে ধারণ করা সম্ভব হতো। আড়িপাতার নিখুঁত যন্ত্র হয়ে ওঠার পাশাপাশি পেগাসাস আক্রান্ত ফোন দিয়ে মানসুরের চলাফেরা সংক্রান্ত তথ্যও জানা যেতো। সিটিজেন ল্যাব ধারণা করছে, মানসুরের কাছে এ লিংক হয়ত আমিরাত সরকার পাঠিয়েছে।
এদিকে সিটিজেন ল্যাব গোয়েন্দা ভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করার পরই অ্যাপেল জরুরি আপটেড ছেড়েছে। এতে গুপ্তচরবৃত্তিতে নিয়োজিত সব সফটওয়্যারের তৎপরতা বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
অবশ্য মানসুরের কাছে পেগাসাসের লিংক পাঠানো প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয় নি এনএসও।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/২৮

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়